| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – অবরোহ অনুমান, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
যে মিশ্র সহানুমানের প্রধান আশ্রয়বাক্য একটি যৌগিক প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য, অপ্রধান আশ্রয়বাক্যটি একটি বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য এবং সিদ্ধান্তটি হয় বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য না হয় নিরপেক্ষ যুক্তিবাক্য, তাকে দ্বিকল্প সহানুমান বলে।
সহানুমানের গঠন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত মধ্যপদের অবস্থান নেই বিধায় মধ্যপদ সিদ্ধান্তে থাকে না। সহানুমানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয়। আর অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয়। এভাবে ব্যবহৃত হয়ে মধ্যপদ প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক তৈরি করে। আর ওই অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সহানুমানে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। কিন্তু সহানুমানের সিদ্ধান্তে কেবল প্রধান ও অপ্রধান পদ থাকে মধ্যপদ থাকে না।
উদ্দীপকে অংশের মাধ্যমে অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদ মাধ্যম অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। আর এ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে মধ্যপদ।
অবরোহ অনুমান দুই প্রকার। যথা- মাধ্যম অনুমান ও অমাধ্যম অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বলে মাধ্যম অনুমান। মাধ্যম অনুমানে একের অধিক আশ্রয়বাক্য থাকে। আর এ আশ্রয়বাক্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাক্য বা সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুমানের ক্ষেত্রে মধ্যপদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাধ্যম অনুমানের যে পদ উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে বিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে বলা হয় মধ্য পদ। সহানুমানের তিনটির মধ্যে মধ্যপদ অন্যতম। মধ্যপদের সাথে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্তে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। মধ্যপদটি প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক তৈরি করে। আর এই অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতেই সহানুমানে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মধ্যপদটি হচ্ছে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের একমাত্র মাধ্যম বা যোগসূত্র। উদ্দীপকের অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদ মাধ্যম অনুমান 'A' অংশে অর্থাৎ একাধিক আশ্রয়বাক্যও সিদ্ধান্তে অবশ্যই মধ্যপদের ভূমিকা রয়েছে। কেননা মধ্যপদ না থাকলে একাধিক আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্কও তৈরি হতো না এবং সিদ্ধান্তও অনুমিত হতো না। তাই সহানুমান বা মাধ্যম অনুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'A' অংশের অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদ মাধ্যম অনুমান আর 'B' অংশে অমাধ্যম অনুমান প্রকাশ করে। এ অনুমানদ্বয়ের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. মাধ্যম অনুমান দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়। পক্ষান্তরে, অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়।
২. মাধ্যম অনুমানে পদ থাকে তিনটি। যথা- প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদ। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে পদ থাকে দুটি। যথা-উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ।
৩. মাধ্যম অনুমান একটি খাঁটি অনুমান। এখানে জানা থেকে অজানায় গমনের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, অমাধ্যম অনুমান খাঁটি অনুমান নয়। এখানে জানা থেকে অজানায় গমনের সুযোগ নেই।
৪. মাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না। বরং আশ্রয়বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থকে সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশ পায়।
৫. মাধ্যম অনুমান আমাদের জ্ঞানের প্রসারে সহায়তা করে। কারণ মাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তটি সবসময়ই একটি নতুন যুক্তিবাক্য। অপরদিকে, অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের লুক্কায়িত ও সুপ্ত ভাবটি সিদ্ধান্তে ফুটে ওঠে। যার ফলে এর সিদ্ধান্ত নতুন কোনো তথ্য দিয়ে আমাদের জ্ঞানের প্রসারে তেমন একটা সহায়তা করে না।
৬. মাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের পদ দুটি সর্বদা অপরিবর্তিতভাবে সিদ্ধান্তে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের পদ দুটি কখনো কখনো পরিবর্তিত হয়ে সিদ্ধান্তে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে A ও B অংশে অবরোহ অনুমানের এ দুটি ভাগকে পাওয়া যায় এবং এদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।'