| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – অনুমান, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
কোনো জ্ঞাত বা জানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজ্ঞাত বা. অজানা বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।
১. অনুমানসংক্রান্ত একটি যুক্তি গঠন করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি প্রদত্ত বাক্য অথবা পরস্পর সংযুক্ত দুই বা ততোধিক প্রদত্ত বাক্য। এ বাক্য বা বাক্যসমূহ অনুমানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এ বাক্যগুলো আগে থেকেই আমাদের কাছে পরিচিত। এদেরকে আমরা সত্য বলে স্বীকার করে নিই। এরূপ এক বা একাধিক প্রদত্ত বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশিত অর্থের ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের চিন্তাধারাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাই। অর্থাৎ আমরা একটি নতুন যুক্তিবাক্য স্থাপন করার প্রচেষ্টা চালাই।
২. অনুমানে ব্যবহৃত এক বা একাধিক প্রদত্ত বাক্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি আলাদা যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়। অনুমানে সিদ্ধান্তটি একটি নতুন যুক্তিবাক্য। যদিও একে আশ্রয়বাক্যের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, তথাপি এর মধ্যে কিছুটা নতুনত্ব আছে। আশ্রয়বাক্যের মধ্যে যে সত্য অপ্রকাশিত থাকে তা এক নতুনরূপে সিদ্ধান্তে প্রকাশিত হয়। এ হিসেবে অনুমান হচ্ছে জানা থেকে অজানায় উত্তরণের একটি প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকের ঘটনা-ক-এ দেখা যায়, রনি, জলি ও টনি— এদের প্রত্যেকেই মরণশীল। এই কয়েকটি বিশেষ উদাহরণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে “সব মানুষ মরণশীল”। অর্থাৎ কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য থেকে সমগ্র মানুষের জন্য একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের অনুমানকে আরোহ অনুমান বলা হয়। আরোহ অনুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলোপ
এটি বিশেষ থেকে সাধারণের দিকে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ পৃথক পৃথক ঘটনা, ব্যক্তি বা অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে একটি সাধারণ নীতি বা সূত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই অনুমান পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল।
আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে সম্ভাবনামূলক হয়, কারণ সীমিত কিছু উদাহরণ থেকে বৃহত্তর সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উদ্দীপকে মাত্র কয়েকজন মানুষের মরণশীলতার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সকল মানুষ মরণশীল।
বিজ্ঞান ও দৈনন্দিন জীবনে আরোহ অনুমানের গুরুত্ব অনেক। বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মানুষ সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে এবং নতুন জ্ঞান লাভ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-ক আরোহ অনুমানের প্রকৃতি সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে।
উদ্দীপকের ঘটনা-ক এবং ঘটনা-খ যথাক্রমে আরোহ ও অবরোহ অনুমানের উদাহরণ। ঘটনা-ক-এ রনি, জলি ও টনির মরণশীলতা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে “সব মানুষ মরণশীল”। এখানে বিশেষ কয়েকটি উদাহরণ থেকে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। তাই এটি আরোহ অনুমান।
অন্যদিকে ঘটনা-খ-এ প্রথমে সাধারণ নীতি হিসেবে বলা হয়েছে “সব মানুষ মরণশীল”। এরপর “রওনক মানুষ” এই তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে “রওনক মরণশীল”। এখানে সাধারণ নিয়ম থেকে বিশেষ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে, তাই এটি অবরোহ অনুমান।
আরোহ ও অবরোহ অনুমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আরোহ অনুমানের মাধ্যমে বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ নীতি বা সূত্র আবিষ্কার করা হয়। পরে অবরোহ অনুমানের মাধ্যমে সেই সাধারণ নীতিকে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ আরোহ নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে এবং অবরোহ সেই জ্ঞান যাচাই ও প্রয়োগ করে।
তাই বলা যায়, আরোহ ও অবরোহ পরস্পর পরিপূরক। জ্ঞান অর্জন ও যুক্তি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উভয়ের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।