| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (7 days ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – শ্রণিকরণ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
একই গুণবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কেবল 'গুণের মাত্রা' অনুসারে শ্রেণিকরণ করার প্রক্রিয়াই হলো ক্রমিক শ্রেণিকরণ।
পরমতম জাতি থেকে ব্যাপকতর অন্য কোনো জাতি নেই বলে এরূপ জাতির শ্রেণিকরণ করা যায় না।
পরমতম জাতি হচ্ছে সর্বোচ্চ জাতি, যাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ব্যাপক অন্য কোনো জাতি বা স্তর নেই। এ কারণে সর্বোচ্চ জাতি হিসেবে পরমতম জাতির শ্রেণিকরণ করা সম্ভব হয় না। যেমন: দ্রব্য হচ্ছে একটি পরমতম জাতি। দ্রব্যকে আর অন্য কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। সুতরাং এর শ্রেণিকরণ করাও অসম্ভব।
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক বা গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান থাকে। ফলে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তুসমূহের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন— মেরুদণ্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রাণীকে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী হিসেবে বিন্যস্ত করা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের একটি দৃষ্টান্ত।
দৃশ্যকল্প-১ এ উদ্ভিদ জগতকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এ বিভক্তকরণ প্রক্রিয়া মৌলিক বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এ কারণেই দৃশ্যকল্প-১ এর দৃষ্টান্ত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের অন্তর্গত।
দৃশ্যকল্প-১ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও দৃশ্যকল্প-২ কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করে। নিচে উভয় শ্রেণিকরণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে উভয়ের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উভয় শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্যই হলো জ্ঞানার্জন করা। পাশাপাশি উভয় শ্রেণিকরণ মানসিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং আলোচ্য বিষয় সাদৃশ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক সাদৃশ্যভিত্তিক হলেও কৃত্রিম শ্রেণিকরণ গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যভিত্তিক। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জ্ঞান লাভ। অর্থাৎ এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে আলোচ্য বিষয়ে সার্বিক ধারণা লাভ করা যায়। কিন্তু কৃত্রিম শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তাই এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে পাওয়া যায় বিশেষ জ্ঞান। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উপকরণগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উপকরণগুলো মানুষের তৈরি। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ সংজ্ঞাভিত্তিক আর কৃত্রিম শ্রেণিকরণ নমুনাভিত্তিক। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হলেও কৃত্রিম শ্রেণিকরণ হলো লৌকিক প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের পেছনে উদ্দেশ্যের পার্থক্য থাকায় দুটির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য থাকাই স্বাভাবিক।