| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে একটি বান্ডলের সৃষ্টি না করে পৃথক পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডলের সৃষ্টি করে এবং জাইলেম বান্ডল ও ফ্লোয়েম বান্ডল ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পাশাপাশি অবস্থান করে, তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে।
সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় শোষণের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
আধুনিক ধারণা অনুযায়ী বা প্রোটন প্রবাহ মতবাদ অনুসারে চিত্র দুটির আকৃতি পরিবর্তিত হওয়া অর্থাৎ যথাক্রমে পত্ররন্ধ্র খোলা ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
পত্ররন্ধ্র খোলা: আলোক বর্ণালীর নীল অংশ (Blue light) রক্ষীকোষের রিসেপ্টর গুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে সক্রিয়ভাবে পটাশিয়াম আয়ন (K+) রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। K+ প্রবেশের কারণে কোষস্থ দ্রবণে দ্রব্যের (Solute) ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং পার্শ্ববর্তী কোষ হতে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। রক্ষীকোষে পানি প্রবেশের ফলে রক্ষীকোষ স্ফীত হয় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। কোষে CO2এর পরিমাণ কমে গেলে রক্ষীকোষে K+ প্রবেশ বৃদ্ধি পায়, ফলে পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে এবং রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। রক্ষীকোষ থেকে সক্রিয়ভাবে H+বের হয়ে গেলেও পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়া: রক্ষীকোষ থেকে K+বের হয়ে যায়, সাথে সাথে পানিও বের হয়ে যায়। ফলে রক্ষীকোষ স্ফীতি হারিয়ে শিথিল হয়ে পড়ে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।মেসেফিল কোষে পানির অভাব দেখা দিলে সেখানে অ্যাবসিসিক এসিড তৈরি হয়। যার ফলে রক্ষীকোষ থেকে K+ বের হয়ে যায়। K+ বের হয়ে গেলে পানিও বের হয়ে যায়, ফলে রক্ষীকোষ স্ফীতি হারায় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রায় ফটোসিনথেসিস কমে যায় এবং কোষীয় শ্বসন বেড়ে যায়। এর ফলে কোষে CO2 এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরিণামে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই মনে করা হয় পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার জন্য একাধিক নিয়ামক কাজ করে।
চিত্র: X হলো পত্ররন্ধ্র খোলা অবস্থা। পত্ররন্ধ্র খোলা অবস্থায় উদ্ভিদের যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয় তা হলো প্রস্বেদন। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
পত্ররন্ধ্রের কারণে প্রস্বেদন হয় যার ফলে চারদিক থেকে লবণ উদ্ভিদমূলের কাছাকাছি আসে, ফলে উদ্ভিদ সহজে লবণ পরিশোষণ করতে পারে। প্রস্বেদনের কারণে বাহিকা নালিতে পানির যে টান পড়ে সেই টান মূল্যরোম কর্তৃক পানি শোষণে সাহায্য করে। তাই জীবন রক্ষাকারী পানি শোষণে এর ভূমিকা আছে। গাছকে অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা রক্ষা করে। পাতা সূর্য হতে প্রতি মিনিটে প্রচুর শক্তি শোষণ করে। এর মাত্র শতকরা একভাগ বিভিন্ন বিক্রিয়ার জন্য খরচ হয়। বাকি অধিকাংশ তাপশক্তি পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। নতুবা গাছ অধিক তাপে মরে যেত। এর ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বাড়ে, ফলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ঘটার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পানি বের হওয়ার সময় পাতার পৃষ্ঠে এক ধরনের পানিগ্রাহী লবণ জমা হয়, যা ছত্রাক আক্রমণ হতে পাতাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি দরকার। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার দেহের অতিরিক্ত পানি বের করে দেয় এবং মূল দিয়ে পানি মাটি থেকে আবার শোষণ করে। যার ফলে আবার সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।