| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – ভূমিরুপ পরিবর্তন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট উঁচু ঢেউকে সুনামি বলে।
নদীর ঊর্ধ্বগতি বা পার্বত্য পর্যায়ে ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি হয়।
এ পর্যায়ে স্রোতের বেগ ও শক্তি অত্যন্ত বেশি থাকে এবং নদীখাতের ঢাল খুব খাড়া হয়। এ স্তরে নদী পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হওয়ার কারণে নদী উপত্যকা গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে 'V' আকৃতির উপত্যকা বা গিরিখাত সৃষ্টি করে।
চিত্রের 'ক' অঞ্চলে বিচূর্ণীভবনের যান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল।
বিভিন্ন বাহ্যিক প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা শিলার খন্ড বিখন্ড বা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার প্রকৃয়াকে যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন বলে। সাধারণত সূর্যতাপ, তুষার ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারাই যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন হয়। তবে উচু পর্বত বা খাড়া ঢালে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারাই বেশির ভাগ যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়। দিন-রাত্রি এবং ঋতুভেদে তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে শিলারাশি অসমভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। চিত্রে সৌরতাপের প্রভাবে শিলাসমূহের উপরের স্তর উত্তপ্ত হলে তা আয়তনে বৃদ্ধি পায়। যেহেতু শিলা তাপের উত্তম পরিবাহী নয়, সেহেতু তার ঠিক নিচের স্তরটি ততটা উত্তপ্ত হতে পারে না। তাই এটি আয়তনে বৃদ্ধি পায় না। এর ফলে শিলাসমূহের উপরের স্তর এবং তার নিচের স্তরের মধ্যে টানের সৃষ্টি হয় এবং শিলাস্তরের মাঝে সমান্তরাল ফাটল দেখা যায়। পরবর্তীতে ঐ ফাটল বরাবর শিলার উপরের স্তরটি মূল শিলা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে সৌরতাপের প্রভাবে যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' চিত্রটি শিলার জৈবিক বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করছে, যেখানে উদ্ভিদের মূল শিলাকে ফাটিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রশ্নানুসারে প্রাণীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে বললে বলা যায় যে, জৈবিক বিচূর্ণীভবনে মানুষ এবং বিভিন্ন মৃত্তিকাচারী প্রাণী (যেমন-কেঁচো, উইপোকা, ইঁদুর, খরগোশ) স্বচেয়ে বেশি দায়ী।
জীবজন্তু এবং বিভিন্ন জৈব পদার্থের দ্বারা শিলা সর্বদা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যে বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয় তাকে জৈবিক বিচূর্ণীভবন বলে।
মানুষ নিজ প্রয়োজনে নানাভাবে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মানুষ গ্রাম, শহর, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণকল্পে ভূত্বক প্রতিনিয়ত খন্ড-বিখণ্ড করছে। বিভিন্ন প্রকার জীবজন্তু বিশেষ করে ইঁদুর, কেঁচো, পিঁপড়া, কুকুর, উইপোকা, সজারু, কাঁকড়া প্রভৃতি প্রতিনিয়ত ভূত্বকের শিলাস্তর, খণ্ড-বিখণ্ড করছে। এসব প্রাণী মাটিতে গর্ত করে অভ্যন্তর হতে পৃথিবীর উপরে মাটি তোলে। ফলে জৈবিক বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হচ্ছে।
উদ্ভিদ মাটির মধ্যে শিকড় প্রবেশ করিয়ে, শিলাস্তরে বিভিন্ন প্রকার শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে এবং কখনো উদ্ভিদ দেহ পচে শিলাস্তর খণ্ডবিখণ্ড করে। ফলে ভূত্বকে জৈবিক বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়।