A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: যশোর বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা। তার দরিদ্র বাবা-মা তাকে বিয়ে দিতে চায়, একই গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব বিত্তবান রহিমুদ্দিনের সাথে। কিন্তু রোজিনার এককথা, সে মানুষের বাড়িতে কাজ করে হলেও পড়ালেখা করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে তবেই বিয়ে করবে। মেয়ের এমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞা দেখে বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

উত্তর:

হাশেম আলি প্রেসের ব্যাবসা করতে চেয়েছিল।

উত্তর:

ধর্মীয় গাম্ভীর্যপূর্ণ কথা বলার জন্য বহিপীর বইয়ের ভাষাকে উপযুক্ত মনে করেন বিধায় তিনি কথ্য ভাষায় কথা বলেন না।

পীর সাহেবের মতে, তার কাজ হলো খোদার বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অন্যদিকে, কথ্যভাষা তার কানে কটু লাগে এবং তিনি মনে করেন এতে কোনো পবিত্রতা নাই, গাম্ভীর্যতা নাই, যেটি বইয়ের ভাষায় রয়েছে। তাই বহিপীর গাম্ভীর্যপূর্ণ কথা বলতে উপযুক্ত বইয়ের ভাষাতে কথা বলেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের রোজিনার বাবা-মায়ের সাথে ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার বাবা-মায়ের বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো মেয়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেওয়া।

‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাহেরাকে কেন্দ্র করেই নাটকটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে। তাহেরার আপন মা না থাকায় তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা ও সৎমা তাকে এক বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু সে এই অন্যায় বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। তার প্রতিবাদ সত্ত্বেও বাবা ও সৎমা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রোজিনার দরিদ্র মা-বাবা মেয়েকে গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব বিত্তবান রহিমুদ্দিনের সাথে বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু রোজিনা এ বিয়েতে রাজি না হয়ে নিজে আত্মনির্ভরশীল হয়ে তারপর বিয়ে করার কথা বলে। মেয়ের এমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কারণে মা-বাবা এ বিয়ে থেকে সরে আসে। ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার মা-বাবা এই দিক থেকে বিপরীত। তারা মেয়ের ভালো-মন্দ বিবেচনা না করে বৃদ্ধ পিরের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়। আর উদ্দীপকের রোজিনার মা-বাবা মেয়ের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে মেয়েকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাই বলা যায় যে, মেয়ে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্দীপকের রোজিনার বাবা-মা মেয়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার বাবা-মা তাদের মেয়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়নি।

উত্তর:

উদ্দীপকের রোজিনাকে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার প্রতিরূপ বলা যায়।

তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থানগত দুর্বলতার মধ্যে 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা একটি শক্তিশালী চরিত্র। বাবা এবং সৎমায়ের চাপিয়ে দেওয়া অসম বিয়েকে ধিক্কার জানিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে নিজের গন্তব্যের খোঁজে। কূটকৌশলী বহিপীর তাহেরাকে ফিরিয়ে নিতে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিলেও তাহেরা শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকে। তাহেরার সাহস ও ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা তাকে অনন্য করে তুলেছে। আত্মসচেতন তাহেরা যেন সমকালীন সমাজের জেগে ওঠা নারীর প্রতিচ্ছবি।

উদ্দীপকের রোজিনা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। দারিদ্র্যের কারণে তার বাবা-মা পঞ্চাশোর্ধ্ব বিত্তবান রহিমুদ্দিনের সাথে তাকে বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু রোজিনা এ বিয়েতে রাজি নয়। কারণ সে স্বাবলম্বী হতে চায়। নিজের যোগ্যতায় আত্মনির্ভরশীল হয়ে, তবেই বিয়ে করতে চায়। রোজিনার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা দেখে তার বাবা-মা বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

উদ্দীপকের রোজিনা তাহেরার মতোই দৃঢ়চেতা এক নারী। উদ্দীপকের রোজিনা এবং 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা সমাজের সেসব নারীর প্রতিচ্ছবি যারা তাদের অধিকার এবং দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন। আলোচ্য নাটকের তাহেরা তার ইচ্ছা এবং স্বাধীনতা সম্পর্কে পূর্ণভাবে সচেতন। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অসম বিয়েতে বহিপীরকে সে কোনোভাবেই মেনে নেয় না। তার অটল ব্যক্তিত্বের কাছে হার মানে বহিপীর। তেমনি স্বনির্ভর হতে চাওয়া উদ্দীপকের রোজিনার শক্তিশালী মনোভাবের কারণে তার বাবা-মা বিয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। তাই আমি মনে করি উদ্দীপকের রোজিনা যেন 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার প্রতিরূপ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”