| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘‘A’ ও ‘B’…’ Combined ২০২৬ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘A’ ও ‘B’ জীবদেহে বিদ্যমান দুইটি জৈব রাসায়নিক বস্তু। ‘A’ যৌগের একক এমাইনো এসিড। ‘B’ যৌগটি জীবদেহের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
জীবের বংশগতির মৌলিক ভৌত ও কার্যক্ষম একককে জিন (Gene) বলে। রাসায়নিকভাবে এটি ডিএনএ (DNA) অণুর একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা জীবের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন সংশ্লেষণের সংকেত বহন করে।
সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগরেণু থেকে সৃষ্ট দুটি পুংগ্যামেটের (Male gamete) একটি ডিম্বাণুর সাথে এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের (Secondary nucleus) সাথে প্রায় একই সময়ে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্বি-নিষেক (Double fertilization) বলে।এর প্রথম মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড () জাইগোট তৈরি হয় (যা পরে ভ্রূণ গঠন করে) এবং দ্বিতীয় মিলনের ফলে ট্রিপ্লয়েড এন্ডোস্পার্ম বা শস্য নিউক্লিয়াস তৈরি হয় (যা ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ করে)।
উদ্দীপকে B যৌগটি হলো এনজাইম। নিচে এনজাইমের ক্রিয়া কৌশল ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো নির্দিষ্ট এনজাইমের এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা অ্যাকটিভ সাইট থাকে। Emil Fischer অ্যাকটিভ সাইট প্রস্তাব করেন। পলিপেপটাইড চেইনের ফোলডিং এর মাধ্যমে অ্যাকটিভ সাইট সৃষ্টি হয়। অ্যাকটিভ সাইট ও সাবস্ট্রেটের মধ্যে সম্পর্ক তালা চাবির মতো সুনির্দিষ্ট।
১. প্রথমে সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সক্রিয় স্থান তথা অ্যাকটিভ সাইটে সংযুক্ত হয়ে এনজাইমে সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙে গিয়ে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং এনজাইম অপরিবর্তিতভাবে পৃথক হয়ে যায়।
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত শক্তির দরকার হয়। এ অতিরিক্ত শক্তিকে কার্যকরী শক্তি বলে। এনজাইম- সাবস্ট্রেটের কার্যকরী শক্তি কম। তাই কম কার্যকরী শক্তিসম্পন্ন সাবস্ট্রেট অণু এনজাইমের সাথে যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ সৃষ্টি করে, ফলে বিক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। এভাবে এনজাইমের ক্রিয়া সমাপ্ত হয়।
উদ্দীপকে A যৌগটি হলো প্রোটিন। আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন যৌগের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখা অপরিহার্য। কারণ শরীর গঠনে প্রোটিনের ভূমিকা মুখ্য। প্রোটিন ছাড়া দেহাঙ্গ বা অঙ্গাণুর সঠিক গঠন সম্ভব নয়। তাছাড়া জীবদেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, এনজাইম, অ্যান্টিবডি, ইন্টারফেরন ও হরমোন উৎপাদন, দেহে শক্তি সঞ্চয় এবং রোগ প্রতিরোধে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিমাণের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে ডাল জাতীয় খাবারে তথা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। কিন্তু গুণগতমানের দিয়ে উৎকৃষ্ট প্রোটিন হলো প্রাণিজ প্রোটিন।
আমাদের খাদ্য তালিকায় দুই ধরনের প্রোটিনই রাখা উচিত। কারণ প্রোটিন বিশ প্রকার অ্যামাইনো এসিড নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে ১২টি দেহাভ্যন্তরে সংশ্লেষিত হতে পারে কিন্তু বাকি ৮টি পারে না। এজন্য এদেরকে খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করে দেহের প্রয়োজনীয় কাজের যোগান দেওয়া হয়। অত্যাবশ্যকীয় ৮টি যেহেতু অল্পমাত্রায় দেহের জন্য প্রয়োজন তাই খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মধ্যে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে ঐ সমস্ত খাবারকে যেগুলোর মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো এসিডের বেশির ভাগই পাওয়া যায়। তাই খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস এবং, ডালের চেয়ে ডিম এবং দুধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ ডিম ও দুধে অনেকগুলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। তাই এদেরকে (ডিম ও দুধ) আদর্শ খাবার বলা হয়।
উপর্যুক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় যে, আমাদের খাদ্য তালিকায় A যৌগ তথা প্রোটিনের তাৎপর্য অনস্বীকার্য।