| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A দেশটির ক্ষমতা…’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

A দেশটির ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে সংবিধানের মাধ্যমে দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। দুটি অংশে দুই রকমের সরকার রয়েছে। উভয় সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন। অপরদিকে B রাষ্ট্রটিতে একটি মাত্র কেন্দ্রিয় সরকার রয়েছে এবং একক কর্তৃত্ব বিদ্যমান। শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে প্রদেশ তৈরি করা হলেও তারা কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের ওপর জনগণের সরাসরি সমর্থন যাচাইয়ের জন্য যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, তাকে গণভোট বলে।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে মন্ত্রিসভাকে তাদের প্রতিটি নীতি ও কাজের জন্য আইনসভার নিকট ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে দায়ী থাকতে হয় বলে একে দায়িত্বশীল সরকার বলা হয়।
আইনসভা যদি সরকারের কোনো কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে, তবে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। এই শাসনব্যবস্থায় সরকার সবসময় আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে বিধায় এটি জনগণের প্রতি অধিক সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের 'A' দেশটির সরকারব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতির অনুরূপ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং উভয় সরকারই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন থাকে।
'A' রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক অংশে বিভক্ত এবং উভয় সরকারই স্বাধীন। এই ব্যবস্থায় একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান থাকে যা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়সমূহ কেন্দ্রের হাতে এবং আঞ্চলিক বিষয়সমূহ প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে।
অতএব বলা যায়, 'A' দেশের এই রূপটি মূলত বড় আয়তন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষার জন্য বিশেষভাবে কার্যকর। যেখানে কয়েকটি প্রদেশ বা রাজ্যের সমবায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সত্তা গঠিত হয়, সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সার্থকতা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' রাষ্ট্রটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং 'B' রাষ্ট্রটি এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। এই দুই শাসনব্যবস্থার মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
প্রথমত, ক্ষমতার উৎসের দিক থেকে এককেন্দ্রিক সরকারে (রাষ্ট্র B) যাবতীয় ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে পুঞ্জীভূত থাকে এবং কেন্দ্রই সকল ক্ষমতার উৎস। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে (রাষ্ট্র A) সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত হয় এবং এখানে সংবিধানই সকল ক্ষমতার উৎস। দ্বিতীয়ত, এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারগুলো কেন্দ্রের 'এজেন্ট' বা আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে এবং তাদের কোনো স্বায়ত্তশাসন থাকে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক সরকারগুলো স্বায়ত্তশাসিত এবং তারা নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
এছাড়া নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সাধারণত একক নাগরিকত্ব থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রে নাগরিকগণ একইসাথে প্রদেশের ও কেন্দ্রের তথা দ্বৈত নাগরিকত্ব ভোগ করে থাকেন। সংবিধানের প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যায়, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের সংবিধান সুপরিবর্তনীয় হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রের সংবিধান অবশ্যই লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ক্ষুদ্র আয়তনবিশিষ্ট রাষ্ট্রের জন্য এককেন্দ্রিক সরকার (রাষ্ট্র 'B') সুবিধাজনক হলেও বৃহৎ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার (রাষ্ট্র 'A') অধিক উপযোগী। উভয় ব্যবস্থার লক্ষ্য জনকল্যাণ হলেও তাদের পরিচালনা পদ্ধতি ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্নতর।