A → এই বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ ও অপত্যকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান।
B→ সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এ বিভাজন ঘটে।
যেসব আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ভিত্তি পর্দার উপর একস্তরে বিন্যস্ত থাকে কিন্তু কোষগুলো বিভিন্ন উচ্চতার হওয়ায় এই টিস্যুকে দেখতে স্তরীভূত টিস্যু মনে হয়। তাদেরকে সিউডো স্ট্রাটিফাইড আবরণী টিস্যু বলে। যেমন- ট্রাকিয়া।
যেসব গ্রন্থি নালিবিহীন, ক্ষরণ সরাসরি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে দূরবর্তী সুনির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়, সেসব গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন রা প্রাণরস বলে। যেমন- পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'A' দ্বারা মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে বুঝানো হয়েছে। মাইটোসিস কোষবিভাজনের, প্রোমেটাফেজ স্পিন্ডলযন্ত্রের সৃষ্টি হয়। মাইটোসিস কোষবিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রো-মেটাফেজ একেবারে প্রথমদিকে উদ্ভিদকোষে কতকগুলো তত্ত্বময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই মধ্যবর্তী স্থানকে ইকুয়েটর বা বিষুবীয় অঞ্চল বলা হয়, কোষ কংকালের মাইক্রোটিউল দিয়ে তৈরি স্পিন্ডলযন্ত্রের তন্তুগুলো এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত, এদেরকে স্পিন্ডল তন্তু বলা হয়।
এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডলযন্ত্রের কতিপয় নির্দিষ্ট তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয়। এ তন্তুগুলোকে আকর্ষণ তন্তু বলা হয়। ক্রোমোজোমের সাথে এ তন্তুগুলো সংযুক্ত বলে এদের ক্রোমোজোমাল তত্ত্বও বলা হয়। ক্রোমোজোমগুলো এ সময়ে বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হতে থাকে এবং কোষের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে। প্রাণিকোষে স্পিন্ডলযন্ত্র সৃষ্টি ছাড়াও পূর্বে বিভক্ত সেন্ট্রিওল দুটি দুই মেরুতে অবস্থান করে এবং সেন্ট্রিওল দুটির চারিদিক থেকে রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। একে অ্যাস্টার-রে বলে।
উদ্দীপকের 'B' দ্বারা মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে বুঝানো হয়েছে।ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় 'B' অর্থাৎ মিয়োসিস কোষ বিভাজন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের B দ্বারা মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে বুঝানো হয়েছে। ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় মিয়োসিস কোষ বিভাজন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ কারণে এ বিভাজন প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়। মিয়োসিস প্রধানত জীবের জনন কোষ বা গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে ঘটে। সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এবং উন্নত প্রাণীদেহে শুক্রাশয়ে ও ডিম্বাশয়ের মধ্যে মিয়োসিস ঘটে। এ বিভাজনের সময় একটি কোষ পরপর দুবার বিভাজিত হয়। প্রথম বিভাজনকে প্রথম মিয়োটিক বিভাজন বা মিয়োসিস-১ বলা হয়। এ বিভাজনে জনন মাতৃকোষ (2n) বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু (n) ও শুক্রাণু (n) উৎপন্ন করে। এরপর দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজন বা মিয়োসিস-২ সম্পন্ন হয় যা মাইটোসিস বিভাজনের অনুরূপ। পরবর্তীতে এ হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে জাইগোটে পরিণত হয়। মিয়োসিস বিভাজন জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ঘটিয়ে জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমতা রক্ষা করে। ফলে বংশানুক্রমে সন্তান সন্ততির দেহকোষে ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
