| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A = Explant…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

A = Explant →→→→ plantlets
B = Torula, Pseudomonas 3 Nocardia
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
ইন্টারফেরন হলো প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। কোন দেহকোষ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এটি নিঃসৃত হয়। বহিরাগত ভাইরাস,ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক,বিষ ও অন্য কোনো বস্তু ইত্যাদির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি দেহে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে,এটি দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্র।
কোনো ভিক্টিম বা অপরাধ সংঘটিত হবার স্থান থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা যায়। এর পর সন্দেহভাজন তালিকা ধরে তাদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। যার জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সাথে আলামত থেকে নেয়া সিকোয়েন্সিং এর মিল হয় সেই প্রকৃত অপরাধী। অজ্ঞাত বা খুন হওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানতে DNA সিকোয়েন্সিং পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়া নিখুত, সময় সাশ্র্যয়ী এবং এতে ভূলের সম্ভাবন থাকেনা। তাই অপরাধী শনাক্তকরণে জিনোম সিকোয়েন্সিং ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের A প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যু কালচার পদ্ধতি। নিম্মে এর ধাপগুলো বর্ণনা করা হলোঃ
- ১। মাতৃউদ্ভিদ বা এক্সপ্লান্ট নির্বাচন : যে উদ্ভিদ থেকে এক্সপ্লান্ট নেয়া হয় বা হবে সেটি হলো মাতৃউদ্ভিদ। মাতৃউদ্ভিদটি অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে হবে। টিস্যু কালচারের জন্য সুস্থ, নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত টিস্যুকে এক্সপ্লান্ট (explant) বলে।
- কালচার মিডিয়াম বা আবাদ মাধ্যম তৈরি ঃ টিস্যু কালচার কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি কালচার মিডিয়াম তৈরি করা আবশ্যক। উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য যে সমস্ত রাসায়নিক উপাদান প্রয়োজন হয় তার সমন্বয়ে এ মিডিয়াম প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান (macro and micro elements), ভিটামিন, সুকরোজ (২-৪%), ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা প্রয়োজন। মাধ্যমকে ঘন করতে জমাট বাঁধার উপাদান, যেমন- অ্যাগার সঠিক মাত্রায় মেশাতে হয়। মৌলিক উপাদান সমৃদ্ধ আবাদ মাধ্যমকে ব্যাসাল মিডিয়াম বলে। মিডিয়ামের pH ৫.৫-৫.৮ এর মধ্যে রাখা হয়।
- জীবাণুমুক্তকরণ বা নির্বীজকরণ : কালচার মিডিয়ামে থাকে পুষ্টি উপাদান, ফলে এতে সহজেই জীবাণু জন্মাতে পারে। কিন্তু কালচার করার জন্য মিডিয়াম এবং এক্সপ্লান্ট সবই জীবাণুমুক্ত থাকা আবশ্যক। তাই মিডিয়ামকে নির্বীজকরণ যন্ত্র (autoclave) দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। মিডিয়ামকে অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপ (১২১° সে.), চাপ (১৫ পাউন্ড) ও সময় (২০ মিনিট) রাখা হয়।
- মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট বা টিস্যু স্থাপনঃ এক্সপ্লান্টকে নির্বীজ সম্পূর্ণ নির্বীজ অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ানে স্থাপন করা হয়।
- ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যাবৃদ্ধি: মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট তথা টিস্যু স্থাপনের পর পাত্রটিকে একটি বৈদ্যুতিক আলো (3,000-2,000 লাক্স), তাপমাত্রা (১৭-২০° সে.) ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা (৭০-৭৫%) নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়।
- মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর ও চারা উৎপাদন : মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হয় এবং সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছে পরিণত হয়।
চারা টবে স্থানান্তরঃ উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন হয়।
- প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তরঃ পূর্ণাঙ্গ চারাগাছগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটি তে লাগানো হয়।
যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশকে উন্নত করা যায়, পরিবেশ দূষণকারী উপাদানসমূহকে নিয়ন্ত্রণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা যায় তাকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কতিপয় ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্বন্ধে নিচে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হলোঃ
- কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কলকারখানা থেকে নির্গত সায়ানাইড, লেড, মারকারি, কপার এবং জিঙ্ক অত্যন্ত বিষাক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী দূষিত পদার্থ। কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যো বিভিন্ন অণুজীব জন্মায় এবং বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে। অণুজীবের সহায়তায় দুধের (dairy) কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যা (whey) থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করা হয়। কাগজ ও কাগজের মণ্ড (pulp এবং paper industry) থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে Torula নামক ঈস্ট জন্মায় যার মধ্যে প্রচুর আমিষ থাকে। Saccharomyces cerevisiae এবং Torula utilis বর্জ্য পদার্থের মধ্যে জন্মায়। এদের থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। কাগজ শিল্পের কাঁচামাল ব্লিচ করতে ক্লোরিন ব্যবহৃত হয়। এ ক্লোরিনজনিত দূষণ থেকে পরিবেশকে বিভিন্ন ছত্রাক ব্যবহার করে সহজেই মুক্ত করা যায়। এরূপ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় লাভজনক দ্রব্য পাওয়া যায়, যেমন- বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড (অ্যাসিটিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড ইত্যাদি), ইথানল, প্রোটিন, ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যাসিটোন, গ্লিসারিন, গ্লুটানল ইত্যাদি (খ)
- দুর্ঘটনাক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নানা উপায়ে সমুদ্রে তেল-এর মাধ্যমে দূষণ ঘটতে পারে এবং তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়। তেল পানিতে অদ্রবণীয় এবং পানির উপর ভাসতে থাকে এবং চকচকে একটি স্তরের সৃষ্টি করে। তেলের এ স্তর সমুদ্রে বসবাসকারী বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। তবে কোনো উপায়ে তেল সমুদ্রের তলায় চলে আসলে বছরের পর বছর তা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে। কারণ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে এ অণুজীবগুলো কাজ করে না। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacteria, বিশেষ ধরনের ঈস্ট ও মোল্ড জাতীয় ছত্রাক হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব হিসেবে কাজ করে থাকে। জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন প্রকরণের Pseudomonas ব্যাকটেরিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে যা তেল ও হাইড্রোকার্বনকে অতি দ্রুত নষ্ট করে দিয়ে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করতে পারে।
ঘরবাড়ি, মহল্লা বা কৃষিখামার হতে নির্গত মলমূত্র বা নর্দমার ময়লা রোগ উৎপাদনকারী পরজীবীসহ জৈব ও অজৈব পদার্থ নির্গত হয়। জৈব পদার্থ পানি দূষণের অন্যতম কারণ। তাই সিউয়েজ পানি যাতে খাবার বা ব্যবহার্য পানির সাথে মিশতে না পারে সেজন্য উন্নত দেশে জৈবিক উপায়ে পরিশোধন করা হয়। বায়বীয় বা অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়াসহ শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এরা জৈব পদার্থকে ভেঙে CO, ও CH, -এ পরিণত করে। CH4 জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং প্রথমটি গ্যাসীয় অবস্থায় বায়ুমণ্ডলে ছাড়া পায়। ইত্যাদী।
সুতরাং, একথা বলা যায় যে উদ্দীপকের অণুজীব সমূহ পরীবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।