| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A জৈব সার…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

A জৈব সার এবং B শিক্ষা উপকরণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
গাঢ় HCI এসিডে অনার্দ্র জিঙ্ক ক্লোরাইড (ZnCl₂) এর দ্রবণকে লুকাস বিকারক বলে।
শিল্প কারখানার ময়লা ও গন্ধযুক্ত পানি ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং নানান রকমের রোগব্যাধি ছড়ায়। তাই জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এসব তরল শিল্প বর্জ্যকে নির্গত হতে দেওয়ার আগে নানা প্রক্রিয়ায় দূষণমুক্ত করা প্রয়োজন। আমরা তরল বা গ্যাস অর্থাৎ প্রবহমান পদার্থকে ইংরেজিতে effluent বলে থাকি। এসব তরল শিল্প বর্জ্য তথা effluent কে দূষণমুক্ত করার জন্যই ETP বা Effluent Treatment Plant শিল্পে ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকেন (i) নং বিক্রিয়াটি পৃর্ণ করে পাই-
১. কাঁচামাল প্রস্তুতি: শুষ্ক পদ্ধতিতে ক্যালসিয়ামঘটিত ও আরজেলিয়াস প্রকৃতির কাঁচামালগুলোকে মিহি চূর্ণে পরিণত করে সমসত্ব মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়।
২. ভস্মীকরণ: ভস্মীকরণ প্রক্রিয়াটি স্টিল নির্মিত একটি ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে সম্পন্ন করা হয়।
(i) চুল্লির উপরিভাগে 800°C তাপমাত্রায় স্লারি থেকে সমস্ত পানি বাষ্পীভূত হয়।
(ii) চুল্লির মধ্যভাগে 1100°C তাপমাত্রায় CaCO3 বিয়োজিত হয়ে CaO ও উৎপন্ন হয়।
(iii) চুল্লির নিম্নভাগে তাপমাত্রায় লাইম ও ক্লে পরম্পর বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট, ক্যালসিয়াম সিলিকেট এবং টেট্রোক্যালসিয়াম অ্যালুমিনোফেরাইট উৎপন্ন করে।
এবং
৩ . ক্লিংকারের চূর্ণীকরণ: ক্লিংকারকে শীতক যন্ত্রে ঠান্ডা বায়ু দ্বারা শীতল করে, বলমিলে মিহিচূর্ণ করা হয়। অতঃপর এই চূর্ণে 2- 3% জিপসাম (CaSO4.2H₂O) মেশানো হয়। সিমেন্টে উপস্থিত ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (CaO, Al₂O₃) সিমেন্টকে পানির উপস্থিতিতে দ্রুত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কিন্তু জিপসামের উপস্থিতিতে জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া মন্দীভূত হয়।
উদ্দীপকের X, Y ও B যথাক্রমে বাঁশঝাড়, বর্জ্য কাগজ ও কাগজ। সুতরাং বাঁশঝাড় অপেক্ষা বর্জ্য কাগজ থেকে কাগজ উৎপাদন অধিকতর লাভজনক হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কার্যপ্রণালিতে কাগজের ভূমিকা অপরিসীম। ঘুম থেকে উঠেই খবরের কাগজ, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাগজের ব্যবহার, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর এতো বেশি ব্যবহার যে পরিত্যক্ত কাগজ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে প্রকৃতিতে এসে পড়ে। পরিত্যক্ত এসব কাগজের বেশির ভাগই বর্জ্য আবর্জনা, ময়লার টুকরা হিসেবে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এসব বর্জ্য কাগজকে সংগ্রহ করে সুনির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পুনরায় তা বিক্রি করে সমাজের বৃত্তহীন কিছু মানুষ দারিদ্র্য বিমোচন করে থাকে। সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত কাগজ থেকে পুনরায় রিসাইকেল করে মন্ড উৎপাদন করা হয়। এ মন্ড থেকে প্রস্তুত করা হয় বোর্ড কাগজ, কর্ক কাগজ, করো কার্টুন তৈরির উপকরণ। বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবেও একে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্জ্য পরিত্যক্ত কাগজকে টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে ডাইজেস্টরে পরিশোধন করে নিলেই ব্যবহার উপযোগী মন্ডে পরিণত হয়। পরিবেশগত দিক থেকে কাগজের রিসাইকেলের গুরুত্ব অন্য সব থেকে অনেক বেশি। কারণ গাছ কেটে, বন উজার করে কাগজের মন্ড তৈরির পরিবর্তে পরিবেশের জঞ্জালকে সংগ্রহ করে এ থেকে মন্ড তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ সুরক্ষিত হচ্ছে এবং গ্রিন হাউজ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করছে। অর্থাৎ বিশ্ব উষ্ণায়নের রোধে বর্জ্য আবর্জনা কাগজের প্রভাব খুবই গুরুত্ববহ।
বাঁশঝাড় থেকে কাগজ উৎপাদনে একদিকে যেমন- বনজ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে কাগজ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। অথচ কাগজ রিসাইকেল করলে 70% বিদ্যুৎ কম লাগে, 73% বায়ু দূষণ কমায়। 1 টন কাগজ উৎপাদনে প্রায় 24টি গাছ নিধন করতে হয়। তাই বাঁশঝাড় থেকে কাগজ উৎপাদন অপেক্ষা বর্জ্য কাগজ রিসাইকেল অধিকতর লাভজনক হবে।