| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A = পৌষ্টিকনালিB…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

A = পৌষ্টিকনালি
B = হৃৎপিণ্ড
C = পা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
তরুণাস্থি টিস্যুর ম্যাট্রিক্সে অবস্থিত তরুণাস্থি গঠনকারী অপূর্ণাঙ্গ কোষকে কন্ড্রোব্লাস্ট বলে।
পেশিতন্তুর গঠন ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে মসৃণ পেশিকে ভিসেরাল পেশি বলা হয়। মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ, যেমন-পরিপাকনালি, রক্তনালি, শ্বসননালি এবং রেচন-জনন নালির প্রাচীরে এই পেশি অবস্থিত। অভ্যন্তরীণ এ সকল অঙ্গকে একত্রে ভিসেরা বলা হয়। মূলত ভিসেরা বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর গঠন উপাদান হিসেবে এই পেশি কাজ করে এবং এদের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে বলেই একে ভিসেরাল পেশি বলা হয়। এটি প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পৌষ্টিকনালি এবং এর প্রাচীরে বিদ্যমান, পেশি হলো, মসৃণ পেশি। নিচে এই পেশির গঠনবৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
পৌষ্টিকনালির প্রাচীরে বিদ্যমান পেশিকোষগুলো দেখতে লম্বাটে এবং দুই প্রান্ত ক্রমশ সরু ও মাঝখানটা 'স্ফীত, অর্থাৎ এগুলো মাকু আকৃতির। প্রতিটি পেশিকোষে একটিমাত্র বড়ো ও ডিম্বাকৃতি নিউক্লিয়াস থাকে যা কোষের প্রশস্ততম অংশে অর্থাৎ মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। এই পেশিতন্তুগুলোর চারপাশ ঘিরে সারকোলেমা নামক পাতলা আবরণ থাকে কিন্তু এতে হৃদপেশি বা কঙ্কাল পেশির মতো কোনো আড়াআড়ি রেখা বা ডোরা দেখা যায় না। কোষের সাইটোপ্লাজম বা সারকোপ্লাজমে অসংখ্য সূক্ষ্ম মায়োফাইব্রিল লম্বালম্বিভাবে বিন্যস্ত থাকে যা সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে। এই পেশিকোষগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে এবং এদের মাঝে কোনো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে না।
মসৃণ পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয় না, তাই এটি একটি অনৈচ্ছিক পেশি। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই পেশি পৌষ্টিকনালির মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু পরিবহনে (পেরিস্টালসিস প্রক্রিয়ায়) মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই পেশির সংকোচন ক্ষমতা অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী, যা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কাজের জন্য উপযোগী। মূলত পৌষ্টিকনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই মসৃণ পেশির বিশেষ গঠন ও অনৈচ্ছিক প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের B হলো হৃৎপিণ্ড (হৃৎপেশি), C হলো পা (কঙ্কাল পেশি) এবং A হলো পৌষ্টিকনালি (মসৃণ পেশি)। নিচে এই তিন ধরনের পেশির তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকের B অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডে বিদ্যমান হৃৎপেশি গঠনগতভাবে C অর্থাৎ কঙ্কাল পেশির মতো। কারণ, কঙ্কাল পেশির ন্যায় হৃৎপেশিতেও লম্বালম্বি এবং আড়াআড়ি রেখা বা ডোরাকাটা দাগ থাকে। উভয় পেশিই নলাকার এবং এদের সাইটোপ্লাজমে অসংখ্য মায়োফাইব্রিল সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে যা এদের শক্তিশালী সংকোচন ক্ষমতা দান করে। কিন্তু হৃৎপেশির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি উদ্দীপকের A অঙ্গে বিদ্যমান মসৃণ পেশির মতো। মসৃণ পেশির ন্যায় হৃৎপেশিও প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয় না, অর্থাৎ এটি একটি অনৈচ্ছিক পেশি। কঙ্কাল পেশিকে আমরা নিজের ইচ্ছামতো নাড়াচাড়া করতে পারলেও হৃৎপেশি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজস্ব ছন্দে চলতে থাকে।
হৃদপেশির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর কোষে বিদ্যমান ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক, যা উদ্দীপকের অন্য দুই ধরনের পেশিতে পাওয়া যায় না। এই বিশেষ সংযোগস্থলের মাধ্যমে হৃৎপেশির তন্তুগুলো একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে জালের মতো গঠন তৈরি করে, যার ফলে হৃদস্পন্দনের সংকেত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও কঙ্কাল পেশি দ্রুত সংকুচিত হতে পারে এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হৃৎপেশি কখনোই ক্লান্ত হয় না- যা মসৃণ পেশির মতোই অবিরাম কাজ করার সক্ষমতা প্রকাশ করে। সারসংক্ষেপে বলা যায়, হৃৎপেশি তার দৃশ্যমান ডোরাকাটা গঠনের কারণে কঙ্কাল পেশির (C) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও, এর অনৈচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্লান্তিহীন কর্মপদ্ধতির জন্য এটি কার্যগতভাবে মসৃণ পেশির (A) সমধর্মী। এভাবেই হৃৎপেশি দেহের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন ও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে।