| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A(প্রশ্বাস)àB(নি:শ্বাস)àC(স্নায়ুতন্ত্র)…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

A(প্রশ্বাস)àB(নি:শ্বাস)àC(স্নায়ুতন্ত্র)
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
মধ্যচ্ছদা হলো বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে বিদ্যমান একটি মাংসল পর্দাবিশেষ।
প্রাইমারি ব্রঙ্কাস থেকে শুরু করে অ্যালভিওলাস পর্যন্ত ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ গঠন চিত্র দেখতে একটি উল্টানো বৃক্ষের মতো দেখায়। ফুসফুসের এরূপ গঠন চিত্রকে শ্বসনবৃক্ষ বলে।
উদ্দীপকে “A” ও “B” এর কার্যক্রম অর্থাৎ শ্বাসক্রিয়া দুটি পর্যায়। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:
প্রশ্বাস বা শ্বাসগ্রহণ (Inspiration):ডায়াফ্রাম-পেশি সঙ্কুচিত হলে এর কেন্দ্রীয় টেনডন (tendon) নিম্নমুখে পালিত হয়। ফলে বক্ষগহ্বরের অনুদৈর্ঘ্য ব্যাস বেড়ে যায়। একই সময় নিম্নভাগের পশুকাগুলো (ribs) কিছুটা উপরে Don't memoris উঠে আসায় বক্ষগহবরের পার্শ্বীয় এবং অগ্র-পশ্চাৎ ব্যাসও বেড়ে যায় । ইন্টারকোস্টাল (intercostal) পেশির সঙ্কোচনের ফলে পর্শকার দেহ (shaft) উত্তোলিত হয়। এতে স্টার্নাম উপরে উঠে সামনে সঞ্চালিত হয় । ফলে রক্ষের অগ্র-পশ্চাৎ ব্যাসসহ অনুপ্রস্থ ব্যাস বৃদ্ধি পায়।এভাবে ডায়াফ্রাম ও পশুকা পেশির সঙ্কোচনের ফলে বক্ষীয়গহ্বর সবদিকে বেড়ে যায় । এ কারণে ফুসফুস প্রসারিত হয়ে এর ভিতরের আয়তনও বাড়িয়ে দেয়। প্রসারিত ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ চাপ বাতাসের সাধারণ চাপ অপেক্ষা কম হওয়ায় নাসিকা পথের ভিতর দিয়ে আসা বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করে ।
পরিবেশ থেকে O2-সমৃদ্ধ বায়ু→ নাসারন্ধ্রপথে ট্রাকিয়া→ ব্রঙ্কাস→ ব্রঙ্কিওল→ অ্যালভিওলাই তথা ফুসফুসে প্রবেশ।
নিঃশ্বাস বা শ্বাসত্যাগ (Expiration):এটি প্রশ্বাসের পর পরই সংঘটিত একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া । প্রশ্বাসে অংশগ্রহণকারী পেশিগুলোর প্রসারণ বা শিথিলতার জন্য নিঃশ্বাস ঘটে ।
নিঃশ্বাসের সময় প্রশ্বাসকালে অংশগ্রহণকারী পেশিগুলো স্থিতিস্থাপকতার জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। তখন পর্শকাগুলো নিজস্ব ওজনের জন্য নিম্নগামী হয়; উদরীয় পেশিগুলোর চাপে ডায়াফ্রাম ধনুকের মতো বেঁকে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমিয়ে দেয়; ফুসফুসীয় পেশি পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়; এবং পিউরার অন্তঃস্থ চাপ ও ফুসফুসের বায়ুর চাপ বেড়ে যায় । বাতাস তখন ফুসফুস থেকে নাসিকা পথে বেরিয়ে গেলে ফুসফুসের আয়তনও কমে যায় ।
ফুসফুসে CO2সমৃদ্ধ বায়ু→অ্যালভিওলাই—ব্রঙ্কিওল→ব্রঙ্কাস→ নাসাপথ→ নাসারন্ধ্র পথে বাইরে নিষ্কাশন।
উদ্দীপকের “A” ও “B” প্রক্রিয়া অর্থাৎ প্রশ্বাস নি:শ্বাস প্রক্রিয়ায় “C” তথা স্নায়ুতন্ত্রের ভূমিকা রয়েছে। প্রশ্বাস নি:শ্বাস কার্যক্রমকে স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণও বলা হয়। নিচে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
মস্তিস্কের কয়েকটি শ্বাসকেন্দ্র, শসন সংশ্লিষ্ট প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং আরও কিছু স্নায়বিক উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
শ্বাসকেন্দ্র (Respiratory centre) :মস্তিষ্কে অবস্থিত চারটি কেন্দ্র থেকে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। পনস (pons)- এর পার্শ্বদেশে অবস্থিত একজোড়া স্নায়ুকেন্দ্র এবং মেডুলা অবলংগাটার (medulla oblongata) পার্শ্বদেশে অবস্হিত একজোড়া স্নায়ুকেন্দ্র প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। এদের শ্বাসকেন্দ্র বলে।
শ্বসন অঙ্গে প্রতিবর্তি ক্রিয়া (Reflex action of Respiratory organ) :শ্বাসক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন, প্রত্যঙ্গে নিচে বর্ণিত প্রতিবর্তি ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রশ্বাসে ফুসফুস বায়ুস্ফীত হলে ফুসফুসের টানে গ্রাহক কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়। এ উদ্দীপনা ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে স্নায়ু কেন্দ্রে প্রেরিত হলে কার্যক্রম প্রশমিত হয় ও প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। নিঃশ্বাসের সময় ফুসফুস সংকুচিত থাকে বলে টান গ্রাহককোষ উদ্দীপ্ত হয়না, তাই ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে কোনো স্নায়ু তাড়না পরিবাহিত হয় না। এতে অ্যানিউস্টিক স্নায়ুকেন্দ্র কার্যকারিতা ফিরে পেয়ে প্রশ্বাস ঘটায়। ফুসফুসের এধরনের স্ফীতি ও সংকোচনের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াকে হেরিং ব্রয়ার প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Hering-Breur Reflex) বলে।