A: উদ্ভিদ তার দেহের অতিরিক্ত পানি বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে বের করে দেয়।
B: মানবদেহ একটি বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে তার গৃহীত পানি নিঃসরণ করে যার আকৃতি শিমের বিচির মত।
রেচন: মানবদেহে যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন) বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত হয়, তাকে রেচন বলে।
মানুষের কিডনিতে ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই বৃক্ক পাথর হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, কিডনির সংক্রমণ, কম পানি পান করা ইত্যাদি বৃক্ক বা কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ হতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত B হলো বৃক্ক বা কিডনি। নিম্নে এর চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-
উদ্দীপকে 'A' দ্বারা নির্দেশিত প্রক্রিয়া হলো প্রস্বেদন প্রক্রিয়া। 'B' দ্বারা নির্দেশিত প্রক্রিয়া হলো রেচন প্রক্রিয়া। প্রস্বেদন ও রেচন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রস্বেদন হলো প্রয়োজনীয় অমঙ্গল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি। বৃক্ক মূত্র তৈরির মাধ্যমে মানবদেহের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ (অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক মানবদেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়াও মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল এবং ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
অন্যদিকে, উদ্ভিদ যে প্রক্রিয়ায় তার দেহের অতিরিক্ত পানি বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য, ব্যয় হয়। অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক -শোষিত পানি এবং খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়।
উদ্ভিদ প্রস্বেদনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পত্রফলক কর্তৃক শোষিত তাপশক্তি হ্রাস করে পাতার কোষগুলোর তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বহু ধরনের উপকার করলেও কিছু অপকারী ভূমিকাও রয়েছে। যেমন- অতিরিক্ত প্রস্বেদনের জন্য উদ্ভিদের পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি হয়, এমনকি উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। এজন্য প্রস্বেদনকে অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বা Necessary evil বলা হয়।
তাই বলা যায়, প্রস্বেদন ও রেচন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রস্বেদন একটি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল।
