| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আবেদ আলী এতিম…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আবেদ আলী এতিম জালালকে আদর, ভালোবাসা আর বিশ্বাস-ভরসা দিয়ে বড় করে তোলেন। তাকে বিশ্বাস করে হাট-বাজারে পাঠান বিকিকিনি করতে। প্রতিবেশীরা সাবধান করলেও আবেদ আলী তা কানে তোলেননি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে আবেদ আলী বাড়ির ভেতরে থেকে জালালকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু জালাল প্রতিশ্রুতি দিয়েও লোভে পড়ে আবেদ আলীকে ধরিয়ে দেয় রাজাকার আর পাক হানাদারদের হাতে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ।
উমিচাঁদ ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের পতন দেখে হলওয়েলকে উদ্দেশ্য করে ব্যাঙ্গার্থে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ব্রিটিশ সিংহ হলেন ক্যাপ্টেন ক্লেটন। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজ সৈন্যরা নবাব সৈন্যদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়লে ক্যাপ্টেন মিনচিন, কাউন্সিলার ফাকল্যান্ড আর ম্যানিংহোম নৌকাযোগে দুর্গ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। শেষ পর্যায়ে ক্যাপ্টেন ক্লেটনও গভর্নর ড্রেকের সাথে পরামর্শের নাম করে আত্মরক্ষার্থে সব প্রতিজ্ঞা ভুলে দুর্গ থেকে পালিয়ে যান। তাই উমিচাঁদ দুর্গ পতন প্রসঙ্কো হলওয়েলকে ব্যঙ্গার্থে এ কথা বলেছিলেন।
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগের কৃতঘ্ন আচরণের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোহাম্মদি বেগ একজন কৃতঘ্ন ব্যক্তি। সে মিরজাফরের পুত্র মিরনের আহ্বানে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করতে সম্মত হয়। নবাবের পিতা জয়নুদ্দিন অনাথ বালক মোহাম্মদি বেগকে আদর-যত্নে লালন করেছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদি বেগ সেই উপকারের কোনো প্রতিদান দেয়নি। উল্টো অর্থের লোভে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে।
উদ্দীপকের আবেদ আলী যেন সিরাজউদ্দৌলার পিতার প্রতিচ্ছবি। আর জালাল আলোচ্য নাটকের মোহাম্মদি বেগের কৃতঘ্নতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা, আবেদ আলী অনাথ জালালকে ছোটবেলা থেকে আদর ও ভালোবাসায় বড় করে তুলেছিলেন। অথচ সেই জালালই উপকারির অপকার করেছে। এ ধরনের আচরণই দেখতে পাই আলোচ্য নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রে।
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পুরো ভাব প্রকাশিত না হলেও একটি দিক মাত্র প্রকাশিত হয়েছে- উক্তিটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের করুণ কাহিনি বিধৃত হয়েছে। দেশপ্রেম ও সমর-সামর্থ্যের কমতি ছিল না সিরাজউদ্দৌলার। তাঁর অভাব ছিল কেবল বিশ্বাসী লোকের। তাই পলাশির যুদ্ধে তাঁকে বরণ করতে হয়েছে নির্মম পরিণতি। মূলত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব পরাজিত হলেও তাঁর দেশপ্রেমই এ নাটকের মূল উপজীব্য।
উদ্দীপকে জালালের আচরণে কৃতঘ্ন মানুষের বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে। আবেদ আলীর কাছে লালিত-পালিত হলেও সে তাঁর বিশ্বাসের মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে। বিপদাপন্ন অবস্থায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও লোভের বশবর্তী হয়ে আবেদ আলীকে শত্রুর হাতে ধরিয়ে দিয়েছে সে। এ ধরনের আচরণ জালালকে ঘৃণ্য চরিত্রের মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পুরো ভাব প্রকাশিত হয়নি। এ নাটকের করুণরসের বিস্তার উদ্দীপকে নেই। তবে উদ্দীপকটি সিরাজউদ্দৌলার বন্দিদশা ও মৃত্যুকে ইঙ্গিত করেছে। তাঁকে হত্যা করেছিল মোহাম্মদি বেগ। তার এ কাজটি ছিল অকৃতজ্ঞ এক খুনির আচরণ। কারণ, তাকে সযত্নে লালন করেছিলেন সিরাজউদ্দৌলার পিতা। আলোচ্য নাটকের মোহাম্মদি বেগের মতোই কৃতঘ্ন আচরণ দেখা যায় উদ্দীপকের জালালের মধ্যে। কিন্তু এ প্রসঙ্গটিই নাটকের মূলভাব নয়। নাটকের আখ্যানে বাংলার ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় বর্ণিত হয়েছে। সে অধ্যায় যাদের মতো অকৃতজ্ঞের হাতে রচিত হয়েছে, তাদেরই প্রতিনিধি উদ্দীপকের জালাল ও নাটকের মোহাম্মদি বেগ। অতএব, একথাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পুরো ভাব প্রকাশিত না হলেও একটি বিশেষ দিক প্রকাশিত হয়েছে।