| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আবহাওয়া ও জলবায়ুর…’ ভোলা সরকারি কলেজ ২০২৬ – জলবায়ুর উপাদান ও নিরামক, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

আবহাওয়া ও জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্যই পৃথিবীতে জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে। যেসব উপাদানের গড় অবস্থা বিবেচনা করে আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণ করা হয় তাদের মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ অন্যতম। আবার কিছু জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক রয়েছে। যাদের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে জলবায়ুর পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এদের সাথে অক্ষাংশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের প্রতি বর্গকিলোমিটার স্থানের উপর যে বলপ্রয়োগ করে তাকে বায়ুচাপ বলে।
কোনো একটি স্বল্পপরিসর স্থানের দৈনিক বা কয়েক ঘণ্টার বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত প্রভৃতি উপাদানের গড় অবস্থাকে ঐ দিনের ঐ স্থানের আবহাওয়া (Weather) বলে। বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা সর্বদা পরিবর্তনশীল বিধায় আবহাওয়া সর্বদা পরিবর্তনশীল।
অন্যদিকে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ওপর নির্বর করে কোনো একটি ব্যাপক এলাকার বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বারিপাত প্রভৃতির ৩০-৪০ বছরের সামগ্রিক অবস্থাকে (গড় অবস্থা) ঐ স্থানের বা দেশের জলবায়ু (Climate) বলে। মোটকথা, আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থাই হচ্ছে জলবায়ু।
উদ্দীপকে জলবায়ুর তিনটি প্রধান উপাদানের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. তাপমাত্রা: সূর্যরশ্মি বায়ুমণ্ডলকে কতটা উত্তপ্ত করছে তার পরিমাপই হলো তাপমাত্রা। এটি জলবায়ুর প্রধান উপাদান, কারণ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলেই বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ঘটে।-
২. বৃষ্টিপাত : বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে যখন ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, তখন তাকে বৃষ্টিপাত বলে। কোনো স্থানের আদ্রতা এবং কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে এই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে।
৩. বায়ুপ্রবাহ: উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে। বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে এক স্থানের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হয়, যা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী জলবায়ুকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে এমন নিয়ামকটি হলো অক্ষাংশ। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
অক্ষাংশ অনুযায়ী ভূপৃষ্ঠের তাপের তারতম্য হয়। অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে কিরণ দেয়। নিরক্ষরেখায় সূর্য রশ্মি সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে সর্বাপেক্ষা উষ্ণ হয়। নিরক্ষরেখা হতে যতই উত্তরে ও দক্ষিণে যাওয়া যায় ততই সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে কিরণ দেয় তাই দিন ছোট রাত বড় হতে থাকে। ফলে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি ১° অক্ষাংশে ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। অর্থাৎ অক্ষাংশ জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণেই পৃথিবীর কোথাও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রচন্ড গরম, কোথাও নাতিশীতোষ্ণ আরামদায়ক আবহাওয়া, আবার মেরু অঞ্চলে চরম শীত পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট স্থানের জলবায়ু কেমন হবে তার প্রধান কারিগর হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।