| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড়…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক-
A. অক্ষাংশ
B. উচ্চতা
C. সমুদ্র হতে দূরত্ব
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
আবহাওয়া হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি সামগ্রিক গড় অবস্থা।
কোনো একটি স্বল্পপরিসর স্থানের দৈনিক বা কয়েক ঘন্টার বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত প্রভৃতি উপাদানের গড় অবস্থাকে ঐ দিনের ঐ স্থানের আবহাওয়া (Weather) বলে। বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা সর্বদা পরিবর্তনশীল বিধায় আবহাওয়া সর্বদা পরিবর্তনশীল।
অন্যদিকে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ওপর নির্বর করে কোনো একটি ব্যাপক এলাকার বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বারিপাত প্রভৃতির ৩০-৪০ বছরের সামগ্রিক অবস্থাকে (গড় অবস্থা) ঐ স্থানের বা দেশের জলবায়ু (Climate) বলে। মোটকথা, আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থাই হচ্ছে জলবায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অর্থাৎ অক্ষাংশকে নির্দেশ করে। অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যরশ্মির অবস্থান নির্ভর করে বিধায় জলবায়ু ভিন্ন হয়ে থাকে।
অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবারও কোথাও হেলে পড়ে। নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে সেজন্য নিরক্ষীয় অঞ্চল সর্বাপেক্ষা উষ্ণ হয়। নিরক্ষরেখা হতে যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যাওয়া যায় ততই সূর্যরশ্মি অধিকতর তির্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট ও রাত বড় হতে থাকে। ফলে নিরক্ষরেখা হতে উত্তর ও দক্ষিণে তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকে। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে অধিক শীত এবং এ অঞ্চল দুটি সর্বদা বরফে ঢাকা থাকে। সূর্যের অবস্থান ও অক্ষাংশভেদে বায়ুমণ্ডলে সূর্যতাপের তারতম্যঘটে। নিরক্ষরেখার উত্তরে কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) ও দক্ষিণে মকরক্রান্তি (২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা) এর মধ্যে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সময় এই দুই সীমানার মধ্যে প্রতিটি স্থানে বছরে সূর্য দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে যতই মেরু' অঞ্চলের দিকে যাওয়া যায় সূর্যের তির্যকভাবে কিরণ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর তাপমাত্রাও ততকমতে থাকে। লম্বভাবে পতিত সূর্যকিরণ স্বল্প গভীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে স্বল্প পরিসরে ভূমণ্ডলে পতিত হয়, এতে উত্তাপের প্রখরতা অধিক থাকে। আর সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়লে অধিক পরিমাণে বায়ুমণ্ডলের গভীরতা ভেদ করে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে যায়। এতে তাপমাত্রার প্রখরতা কমে যায়। এ সব অবস্থার ওপর নির্ভর করে সৃষ্টি হয়েছে উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল ও হিমমণ্ডল।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় 'A' অর্থাৎ অক্ষাংশ পরিবর্তনে জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।