| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আবির ও করিম…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৪ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

আবির ও করিম ছোটবেলার বন্ধু। কলেজে উঠার পর আবির মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং সে অসৎ ছেলেদের সাথে উঠাবসা শুরু করে। করিম আবিরকে অনেক বুঝানোর পরেও সে তার কথা শুনতে চায়না। বিষয়টি করিমের বাবা জানতে পেরে তিনি করিমকে আবিরের সাথে মিশতে নিষেধ করেছেন। আজকাল করিম অবসর সময়ে বাবার দোকানে বসা শুরু করেছে। আবির এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে, করিম বলল- ‘হালাল রুজি (জীবিকা) অন্বেষন করা ফরজের পরও একটি ফরজ’।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
সত্য মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে।
“মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই”- একথা বলে মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব তথা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের কথা বলা হয়েছে।
ইসলামি আদর্শ, বিশ্বাস ও ইসলামের অনুশীলনের ফলে মুসলিমদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে তাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পরস্পর ভাই ভাই। মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং মহানবি (স)-এর রিসালাত মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের যোগসূত্র। অর্থাৎ ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, তা-ই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
আবিরের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে করিমের বাবা করিমকে তার সাথে মিশতে নিষেধ করেছেন।
প্রত্যেক মানুষের জীবনে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও বন্ধু বান্ধবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানুষ তার বন্ধুর চরিত্র ও ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ কারণে কেউ অসৎ চরিত্রের মানুষের সাথে মিশলে সেও অসৎ চরিত্রে পরিণত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত রয়েছে যে, আবির ও করিম দুজন ছোটবেলার বন্ধু। কলেজে উঠার পর আবির মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং সে অসৎ ছেলেদের সাথে উঠাবসা শুরু করে। করিম আবিরকে এ বিষয়ে অনেক বুঝানোর পরেও সে তার কথা শুনতে চায় না। বিষয়টি করিমের বাবা জানতে পেরে তিনি করিমকে আবিরের সাথে মিশতে নিষেধ করেন। কেননা মানুষ সাধারণত তার বন্ধুর মত, পথ, স্বভাব ও আদর্শের অনুসারী হয়ে থাকে । তাই এক বন্ধু অপর বন্ধুর প্রভাবে অনেকটা প্রভাবিত হয়ে থাকে। দুবন্ধুর একজন যদি ধার্মিক হয়, তবে অন্যজনও বন্ধুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ধার্মিক হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে উচ্ছৃঙ্খল হলে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে থাকে। এ সম্পর্কে রাসুল (স) বলেছেন, মানুষ তার বন্ধুর জীবনাদর্শ ও ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অতএব আমাদের প্রত্যেকেই চরিত্রবান মানুষের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা উচিত।
হালাল রুজি অন্বেষণের ক্ষেত্রে করিমের উক্তিটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
হালাল উপার্জন করা অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতো একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ। হালাল উপার্জন বলতে শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ, আইনানুগ বা কুরআন-হাদিস অনুমোদিত পন্থায় উপার্জন করাকে বোঝায় । এটি ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন ও হালাল জীবিকা গ্রহণ না করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল উপার্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স) বলেন, 'হালাল জীবিকা উপার্জন করা ফরজের পরে একটি ফরজ' (সহিহ বুখারি)।
উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম অবসর সময়ে তার বাবার দোকানে বসা শুরু করে। আবির তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সে রাসুল (স) এর তথা হালাল রুজি অন্বেষণ করা ফরজের পরও একটি ফরজ হাদিসটি বলে। কেননা ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। ইবাদতগুলো কবুল হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করে ব্যক্তির উপার্জনের ধরনের ওপর। ব্যক্তির উপার্জন যদি হালাল হয়, তাহলে তার ইবাদত কবুলযোগ্য হবে। অন্যদিকে অবৈধ উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না। সে জন্য হালাল উপার্জন করা অন্যান্য ফরজের মতো শুধু ফরজ মাত্র নয়, বরং এটি ফরজের চেয়েও বেশি কিছু।
হালাল উপায়ে জীবিকা উপার্জনের ফলে সমাজ ব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের মাঝে ভারসাম্য থাকে। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালন করার পাশাপাশি আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। সর্বোপরি হালাল উপার্জন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে আনে। পরিশেষে বলা যায়, চূড়ান্ত সফলতা জান্নাতের জন্য আমাদের হলাল উপার্জন করতে হবে।