| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আছিয়া সেপ্টেম্বর মাসে…’ সিলেট সরকারি কলেজ ২০২৪ – জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

আছিয়া সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়াতে বেড়াতে যেয়ে লক্ষ করলো প্রতিদিন দুপুরের পর প্রচণ্ড গরম শুরু হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
তুন্দ্রা অঞ্চল মেরু এলাকায় অবস্থিত।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে বায়ু উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। আবার এ অঞ্চলে জলভাগ বেশি হওয়ায় প্রচুর জলীয় বাষ্প উঠে বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে আরও হালকা হয়। এ অঞ্চলের উচ্চস্তরে উষ্ণ ও আর্দ্র হালকা বায়ু পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য উত্তর-দক্ষিণ উভয় দিকে ছিটকে পড়ে। এ তিনটি কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ নিম্ন হয়ে থাকে এবং সর্বদা উর্ধ্বগামী হয়। এ অঞ্চলে বায়ু ভূ-পৃষ্ঠে সমান্তরালে বহে না বলে বায়ুর প্রবাহ বুঝা যায় না অর্থাৎ অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে যায় । তাই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে অবসাদ আঞ্চল বলে।
উদ্দীপকে পরবর্তীতে উল্লিখিত দেশটি হলো ইন্দোনেশিয়া যেখানে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দেখা যায়। তবে কোনো কোনো স্থানে ১০° অক্ষাংশ পর্যন্ত এ জলবায়ু দৃষ্ট হয়। এছাড়াও পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে নিরক্ষীয় জলবায়ু দেখা যায় সেগুলো হলো— দক্ষিণ আমেরিকায় আমাজান নদীর অববাহিকা, ব্রাজিলের উত্তরাংশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল, গায়ানা, ভেনিজুয়েলা ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ, পেরুর উত্তরাংশ এবং ইকুয়েডর আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূল, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ও সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশ। তাছাড়া নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের বাইরে, ক্রান্তীয় অঞ্চলের পার্বত্য উপকূলভাগে যেখানে আর্দ্র অয়ন বায়ু সারাবছর সোজা উপকূলভাগে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেসব অঞ্চলে নিরক্ষীয় জলবায়ুর ন্যায় উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু বিরাজ করে।
উদ্দীপকে দেশ দুটি হলো বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া, যেখানে যথাক্রমে মৌসুমি জলবায়ু ও নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজ করে। নিচে এ দুটি জলবায়ু অঞ্চলের পার্থক্য বর্ণনা করা হলো—
মৌসুমি জলবায়ু ১৫° থেকে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দেখা যায়। পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার অধিকাংশ স্থান ও দক্ষিণ চীন ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত। তাছাড়া মাদাগাস্কার দ্বীপ, পূর্ব আফ্রিকার উপকূল অঞ্চল, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, ব্রাজিলের পূর্বাংশ পশ্চিম ও পশ্চিম-পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের কিয়দংশ, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ও মাঞ্চুরিয়ার অংশবিশেষে মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব লক্ষ করা যায়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ ধরনের জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত স্থান মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মৃদুভাবাপন্ন শীত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত হওয়ার কারণে তাপের তেমন প্রখরতা অনুভূত হয় না। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিবহুল শীতকাল এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল পরিলক্ষিত হয়। এ অঞ্চলে তৃণভূমির পরিমাণ কম হওয়ার কারণে পশুপালন খুব একটা হয় না। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরাইল, মালটা, গ্রিস, বলকান, অস্ট্রেলিয়ার মারে নদী অববাহিকার দক্ষিণাংশ ইত্যাদি।