| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আধুনিক গণতন্ত্র হলো…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
পৌরনীতিতে জনমত বলতে কেবল জনকল্যাণকামী, যুক্তিসংগত, স্পষ্ট এবং প্রভাবশালী মতামতকে বোঝায়।
প্রাচীনকাল থেকেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মানুষ যেসব চিন্তাভাবনা করেছে এবং যা কিছু উদ্ভাবন করেছে তার সমষ্টিকেই বলা হয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বস্তুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফসল। সর্বোপরি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত সেই মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে বোঝায়, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনমতের বাহনগুলো হলো সেই মাধ্যম যা জনগণের ধারণা ও বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে একটি সম্মিলিত মতামত তৈরিতে সহায়তা করে।
পরিবার হলো জনমত গঠনের প্রথম মাধ্যম, যেখানে শৈশব থেকেই শিশুরা রাজনৈতিক ধ্যানধারণা লাভ করে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সভা-সমাবেশ ও আদর্শের মাধ্যমে জনমতকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করে। 'এছাড়া সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন এবং বর্তমানের ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথ্যের দ্রুত প্রচার ও আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠনে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
অন্যান্য বাহনগুলোর মধ্যে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্দিষ্ট স্বার্থ রক্ষায় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নৈতিক' মূল্যবোধের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করে। জনসভা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাহিত্য ও চলচ্চিত্রও মানুষের চিন্তাভাবনাকে নাড়া দেয়। বর্তমান যুগে সেলিব্রিটি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জনমত গঠনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই সকল বাহন সম্মিলিতভাবে একটি সমাজের জনমত গঠন ও পরিবর্তন করতে সহায়তা করে।
সুষ্ঠু জনমতের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়, কারণ জনমতই সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
সুশাসন বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হয়। জনমত সরকারের ওপর একটি নৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, যা সরকারকে তার প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে। এর ফলে সরকার তথ্য গোপন করতে দ্বিধা বোধ করে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। শক্তিশালী জনমত দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিরোধের দেয়াল তৈরি করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা দূর করতে সাহায্য করে। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া জনমত সরকারকে জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অবহিত করে সঠিক নীতি নির্ধারণে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। যখন সরকার জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তখন সমাজে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকে। যখন জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তখন সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং পক্ষপাতহীন বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ ও সচেতন জনমত ছাড়া সুশাসন কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা হিসেবেই থেকে যায়, যা বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব নয়।