| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আদিব ও আরিফ…’ a – আচরন ও আচরণের বিকাশ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

আদিব ও আরিফ যমজ দুই ভাই। তারা মধ্যম পরিবারের সন্তান। আরিফের ছোট সময় থেকে ধর্মের প্রতি বেশি মনোভাব। সে প্রায় সময়ই নামাজ পড়ে। কারও প্রতি অসদাচরণ করে না এবং ধর্মীয় আলোচনাতে সব সময় যোগ দেয়। আদিব কিন্তু অন্যধরনের। সে সব সময় বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কোথাও গেলে সবাইকে এক সাথে নিয়ে যায় এবং আনন্দ করে। তার কাছে বন্ধুদের সাথে আনন্দ করার মজাই আলাদা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরগণের মধ্যে সঞ্চালিত করে।
মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশের সাথে যে ব্যক্তি সার্থকভাবে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, জীবন চলার পথ তার হয়ে ওঠে সুন্দর ও সাবলীল। মানুষের সুন্দর ও সার্থক জীবনযাপনের মূলে যে শক্তিটি কাজ করছে তা হলো তার বুদ্ধি। বুদ্ধি হলো জগতকে অনুধাবন করার ক্ষমতা এবং বাধাসমূহকে মোকাবিলা করার সামর্থ্য। তাই মানব শিশুর বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে আদিবের মধ্যে বাল্যকালের বুদ্ধিবৃত্তির ধারণা-সৌন্দর্য, কৌতুকময়তা, সামাজিক আচরণ প্রভৃতির বিকাশ ঘটেছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
বাল্যকাল বলতে বোঝায় ছ'বছর বয়স থেকে যৌন পরিপক্বতা অর্জন না করা পর্যন্ত বয়স। এ বয়সকে মনোবিজ্ঞানীরা শৈশবের শেষ পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্কুলে লেখাপড়া করার মধ্য দিয়ে শিশুরা পূর্বের বয়সের অর্জিত ধারণার অনেক নতুন অর্থ খুঁজে পায়। অর্থাৎ শৈশবের প্রথম পর্যায়ে অর্জিত অস্পষ্ট ও ভাসাভাসা ধারণাগুলো এ সময়ে নির্দিষ্ট অর্থবোধক ধারায় রূপান্তরিত হয়। শিশুমনোবিজ্ঞানী পিয়াজে (Piaget) এ সময়কে শিশুদের "Concrete operation" পর্যায় বলেছেন। এ বয়সে শিশুরা পাঠ্যবই বা অন্যান্য বই পড়ে পরিচিত শব্দের নতুন অর্থ শেখে এবং শব্দের ভুল অর্থ শুধরে নিতে পারে। চারপাশের মানুষ, প্রাণী ও জড়বস্তু সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টির ফলে বোধশক্তির প্রসার ঘটে।
সৌন্দর্য: ছেলেমেয়েরা নিজেদের সৌন্দর্য বোধের প্রেক্ষিতে সৌন্দর্যের মূল্যায়ন করে না। এ ব্যাপারে দলীয় আদর্শমানকে মাপকাঠি ধরে সবাই যে বস্তুটি কুৎসিত বা সৌন্দর্য বিবেচনা করে এ বয়সের ছেলেমেয়েরাও তাই করে।
কৌতুকময়তা: এ বয়সে শিশুরা ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন প্রভৃতি দেখে আনন্দ পায়। ছেলে-মেয়েদের কাছে যা কৌতুকপ্রদ ও অন্যের দৃষ্টিতে যা কৌতুকের উদ্রেক করে, বাল্যকালে তারা কৌতুকের অন্তর্নিহিত অর্থ
বুঝতে পারে।
সামাজিক আচরণ: ছেলেমেয়েরা বাল্য বয়সে সমবয়সী দলের সাথে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে তারা সমাজে প্রচলিত মনোভাব ও বিশ্বাস অনুধাবন করে।
উদ্দীপকে আদিবের কার্যাবলি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আদিবের মধ্যে সৌন্দর্য, কৌতুকময়তা এবং সামাজিক আচরণ সম্পর্কিত বুদ্ধিবৃত্তীয়। ধারণার বিকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে, আদিব ও আরিফের জীবনে জন্ম পরবর্তী পরিবেশ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে আমি মনে করি। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো-
জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ শিশুর জন্মের পর হতে শুরু হয় এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি। অর্থাৎ শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যেসব উপাদান ব্যক্তির জীবনকে প্রভাবিত করে তাই হলো তার জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ। আবিদ ও আরিফের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী পরিবেশের সামাজিক উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক পরিবেশ তার জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক পরিবেশের মূল উপাদানসমূহ হলো পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগীদল, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি। বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব নির্ণয় করতে যমজ ভাই-বোনদেরকে নিয়ে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এমনই একটি গবেষণায় Schiff ও তার সহকর্মীরা (১৯৭৮) দেখেন যে শিশুদের দত্তক উচ্চবিত্তের পিতামাতা গ্রহণ করেন তাদের অন্যান্য ভাই-বোনের তুলনায় বুদ্ধ্যাঙ্ক পয়েন্ট বেশি হয়।
উদ্দীপকে আদিব ও আরিফ যমজ ভাই হওয়ায় তাদের বংশগতি ও জন্ম-পূর্ব পরিবেশ একই। কিন্তু আরিফ তার পরিবার ও ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত এবং আদিবের আচরণ সঙ্গীদল দ্বারা প্রভাবিত। যা তাদের জন্ম-পরবর্তী পরিবেশের সামাজিক উপাদানের প্রভাবকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আদিব.ও আরিফের জীবনে বংশগতির চেয়ে পরিবেশের ভূমিকাই মুখ্য।