A. Nayanㅤ
A. Nayan
19 Oct 2026 (1 week ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আদনান একজন সৎ…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ মানবিক📚 বই ইসলাম শিক্ষা📖 বিষয় ২য় পত্র📂 বিভাগ ইসলাম শিক্ষা🧩 অধ্যায় ১ম অধ্যায় — আল-কুরআন🔢 সৃজনশীল নং ৬🏫 বোর্ড ঢাকা বোর্ড📅 সাল ২০১৭⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

আদনান একজন সৎ ও মেধাবী ছাত্র। ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় কয়েকদিন আগে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে তুলে নিয়ে যায়। কলেজের শিক্ষক- শিক্ষার্থীর চাপের মুখে সন্ত্রাসীদের আটক করা হলেও কয়েকদিন পর তারা জামিনে মুক্তি পায়। অধ্যাপক আনসারী একদিন ক্লাসে এ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “আজ সমাজে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, তারা উপরে সাধুর লেভেল পড়ে আছে। অথচ তারাই সন্ত্রাসীদের মদদদাতা ও গডফাদার। মূলত সমাজকে অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে গডফাদারদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।” অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন: وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ – أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَّا يَشْعُرُونَ .

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

২য় পত্র · অধ্যায় ১

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

সহিফাসহ মোট আসমানি গ্রন্থ ১০৪টি।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আখিরাতের আজাব সম্পর্কে কাফিরদের সতর্ক করেছেন।
প্রশ্নোক্ত আয়াতটি সুরা বাকারার ৩য় রুকুর ২৪নং আয়াত। এ আয়াতে যারা পবিত্র কুরআন নিয়ে সংশয় পোষণ করে তাদের প্রতি আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এবং তাদের সন্দেহ-সংশয়ের শাস্তিস্বরূপ পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। এ নিয়ে কারও মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা অবিশ্বাস সৃষ্টি হলে সে কাফির বলে গণ্য হবে এবং কাফিরদের জন্য পরকালে যন্ত্রণাদায়ক আগুনের শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আলোচ্য আয়াত থেকে আমরা এ শিক্ষাই লাভ করি।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

আদনানের কাজটি সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কুরআনের আলোকে তা যৌক্তিক।
পবিত্র কুরআনে মানুষকে সৎকর্মশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য আল্লাহ পরকালে পরম সাফল্যের সুসংবাদ দিয়েছেন। সুরা বাকারার ৩য় রুকুর ২৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, 'আর যারা ইমান এনেছে ও সৎকাজ সম্পাদন করেছে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিম্নদেশ থেকে ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত।' আদনান ইভটিজিং এর মতো জঘন্য অসৎ কাজের প্রতিবাদ করে প্রকৃত মুমিনের কাজটিই সম্পাদন করেছে।
একজন মুমিন সৎকাজে সহযোগিতা করবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে। সর্বদা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআন থেকে আমরা এ শিক্ষাই লাভ করি। উদ্দীপকে বর্ণিত ইভটিজিং একটি জঘন্য সমাজবিরোধী অপরাধ। এটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার ভূলুণ্ঠিত করে সমাজকে বিশৃঙ্খল করে তোলে। তাই সমাজ সচেতন আদনান এর প্রতিবাদ করেছে। তাই সে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে পড়েছে। বিপদকে তোয়াক্কা না করে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে আদনান অসৎ কাজের প্রতিবাদ করে একজন মুমিনের পরিচয় দিয়েছে। তাই সে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কৃত হবে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ইঙ্গিত থাকায় আনসারীর বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, পাপাচারের কোনো স্থান নেই। যারা এসব জঘন্য কাজ করে সমাজকে কলুষিত, বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল করে তোলে ইসলাম তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- 'শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর তোমরা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। আল্লাহ সীমা লঙ্ঘন ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না' (সুরা আরাফ-৫৬)। আল্লাহর এ নির্দেশ অমান্য করে যারা সমাজে ফাসাদ সৃষ্টি করে তাদেরকে চিহ্নিত করে অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্য এ কথারই সমর্থন দেয়।
অধ্যাপক আনসারী মনে করেন, সমাজে কতিপয় লোক ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে নানা অন্যায় কাজের মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় সন্ত্রাসীরা নানা অপকর্ম করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তার এ ধারণা সঠিক। কারণ আমাদের সমাজে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট লোকের অভাব নেই। এরা নিজেদের স্বার্থে বাহ্যিকভাবে ভালো মানুষ সেজে থাকে, কিন্তু গোপনে তারা নানা অন্যায় কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখছে। কুরআনের ভাষায় এরা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা নিজেদের স্বার্থ আদায়ে সর্বদা তৎপর থাকে। তাই মুসলমানদের সাথে মৌখিকভাবে সম্পর্ক রাখে। অন্যদিকে গোপনে কাফিরদের সাথে মিলে ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এদের দ্বিমুখী নীতির কারণে সমাজে নানা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। কারণ তাদেরকে সহজে চিহ্নিত করা যায় না। তাই তাদের বৈশিষ্ট্য দেখে এদের থেকে সাবধান থাকাই ইমানদারদের কর্তব্য। তাছাড়া তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনাও জরুরি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মুনাফিকি চরিত্রের অধিকারীর শাস্তি সম্পর্কে বলেছেন- 'নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে' (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা প্রমাণিত যে, প্রতিটি সমাজেই মুনাফিকের চরিত্রসম্পন্ন কতিপয় লোক রয়েছে, যারা আড়ালে থেকে সমাজকে কলুষিত করছে। তাই সুষ্ঠু, সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা একজন ইমানদারের কর্তব্য। অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্যে মূলত এ কথারই সমর্থন পাওয়া যায়।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আদনান একজন সৎ…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)”