| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৪ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
জেনেটিক কোড হলো একটি 3-Letter (তিনটি নিউক্লিওটাইড বা বেস) কোড যা DNA অণুতে পরপর একত্রে বিনান্ত থাকে।
এক অণু নিউক্লিওসাইড-এর সাথে এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে গঠিত যৌগকে নিউক্লিওটাইড বলে। বা নিউক্লিয়োসাইডের ফসফেট এস্টার হলো নিউক্লিওটাইড।
নিউক্লিওটাইড হলো নিউক্লিক অ্যাসিডের (DNA বা RNA অণুর) গাঠনিক একক। এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক, এক অণু পেন্টোজ ভ্যগার এবং এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে বলে নিউক্লিওটাইড। পেন্টোজ শ্যগার-এর ৩নং ও ৫নং কার্বনের সাথে ফসফেট যুক্ত হয়।
বিভিন্ন প্রকার নিউক্লিওটাইড
শ্যুগার রাইবোজ হলে:
অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট
গুয়ানোসিন মনোফসফেট
সাইটিডিন মনোফসফেট
ইউরিডিন মনোফসফেট
শ্যুগার ডিঅক্সিরাইবোজ হলে:
ডিঅক্সি অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট
ডিঅক্সি গুয়ানোসিন মনোফসফেট
উদ্দীপকের চিত্রের A হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড আর B হলো ডি অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড।এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেয়া হল:
বৈশিষ্ট্য |
DNA |
RNA |
১। ভৌত গঠন |
দ্বিসূত্রক, প্যাঁচানো বা ঘুরানো সিঁড়ির মতো |
একসূত্রক, শিকলের ন্যায় |
২। রাসায়নিক গঠন |
(ⅰ) এতে থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যগার এবং (ii) DNA-এর পাইরিমিডিনে থাইমিন ও সাইটোসিন বেস থাকে। |
(i) এতে থাকে রাইবোজ শ্যগার এবং(ii) RNA-এর পাইরিমিডিনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে। |
৩। প্রকার |
DNA-অণুর কোনো প্রকারভেদ নেই। কার্যগত দিক হতে DNA-একই রকম হয়। |
কার্যগত দিক হতে RNA পাঁচ প্রকার। যথা- tRNA, rRNA, mRNA, gRNA, মাইনর RNA । |
৪। উৎপত্তি |
প্রতিলিপনের মাধ্যমে নতুন DNA সৃষ্টি হয়। |
নতুনভাবে RNA সৃষ্টি হয়। কোনো প্রতিলিপন হয় না। |
৫। অবস্থান |
প্রধানত ক্রোমোসোমে থাকে। সামান্য পরিমাণ মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টেও থাকে। |
ক্রোমোসোম, সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম নিউক্লিওলাসে থাকে। |
৬। প্রধান কাজ |
বংশগতির ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করা। |
প্রোটিন সংশ্লেষ করা। |
৭। বংশগতি |
DNA বংশগত চরিত্র বহন করে। |
ভাইরাল RNA ছাড়া বংশগত চরিত্র বহন করে না। |
৮। সংখ্যা |
এতে নিউক্লিওটাইডের সংখ্যা অনেক বেশি। |
এতে নিউক্লিওটাইডের সংখ্যা অনেক কম। |
৯। অতিবেগুনি রশ্মি |
অধিক পরিমাণে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। |
তুলনামূলকভাবে কম অতিবেগুনি রশ্মি শোষিত হয়। |
১০। আণবিক ওজন |
এদের আণবিক ওজন দশ লক্ষ হতে বহু কোটি ডাল্টন পর্যন্ত হয়। |
এদের আণবিক ওজন কয়েক লক্ষের বেশি হয় না। |
উদ্দীপকের গঠন দুটির মধ্যে একটি গঠন জীবে বহু সংখ্যায় উপস্থিত থেকে প্যাঁচানো সূত্র গঠন করে-এখনে DNA এর কথা বলা হয়েছে। নিচে বিস্তারিত দেয়া হল :
(১) DNA অণু দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ডান থেকে বাম দিকে ঘুরানো (প্যাঁচানো) সিঁড়ির মতো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
(২) সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে।
(৩) সূত্র দুটি তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার (S) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৬৪ সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A-T বা G ::: C) দিয়ে।
(৫) ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগারের ও ও 5' কার্বনের (৩য় ও ৫ম কার্বনের) সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগারের । কার্বনের (১ম কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
(৬) DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন এবং সাইটোসিন) থাকে। অ্যাডিনিন (A) এর সম্পূরক ক্ষারক থাইমিন (T) এবং গুয়ানিন (G) এর সম্পূরক ক্ষারক সাইটোসিন (C)।
(৭) একটি সূত্রের অ্যাডিনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দিয়ে (AT/T A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী (G = C/C = G) দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির ধাপ হবে AT অথবা G = C।
(৮)DNA অণুর সূত্র দুটির প্রতিটি প্যাচ বা ঘূর্ণনের দৈর্ঘ্য ৩৪ A (৩.৪ mm)। প্রতিটি প্যাচে নাইট্রোজিনাস বেস জোড়ের ১০টি ধাপ সমদূরত্বে অবস্থান করে। ফলে সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব হয় ৩.৪ A (০.৩৪ nm)
(৯) প্রতিটি প্যাঁচে হেলিক্স দুটির ব্যাস ২০Å (২ nm)। তবে DNA অণুর দৈর্ঘ্য প্রজাতিভেদে বিভিন্ন।
(১০) হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাচ বা ঘূর্ণনে শৃঙ্খলের বাইরের দিকে একটি গভীর খাঁজ ও একটি অগভীর খাঁজ সৃষ্টি হয়।
(১১) প্রতিটি ঘূর্ণনে মনোনিউক্লিওটাইডের সংখ্যা ১০ জোড়া বা ২০টি।
(১২) প্রতিটি প্যাঁচে হাইড্রোজেন বন্ড সংখ্যা ২৫ টি।
(১৩) DNA-এর আণবিক ওজন 10°-10° এর মধ্যে।