| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পরীক্ষণ মনোবিজ্ঞানের জনক উইলহেম উন্ড।
আচরণের ক্ষেত্রে আমরা যখন একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরি তখন তাকে সামগ্রিক আচরণ বলা হয়। উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়া হলো আচরণ। আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়, যার মধ্যে একটি হলো সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডিত অচরণ। আমরা আচরণকে সামগ্রিকভাবেও দেখে থাকি আবার খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্নভাবেও দেখে থাকি। পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হলে তা সামগ্রিক আচরণ। আর খণ্ডিত বা আণবিক আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খন্ড খন্ড উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন রাজনীতিবিদের ভাষণ সামগ্রিক আচরণ এবং তার মুখের পেশির সঞ্চালন, ঠোট নাড়ানো, চোখের পলক ফেলা ইত্যাদি খণ্ডিত আচরণ।
উদ্দীপক-১ এ উল্লেখিত ক ও খ চিহ্নিত অংশ দুটি হলো যথাক্রমে মনোবিজ্ঞানের প্রাচীন যুগ ও আধুনিক যুগ।
প্রাচীন যুগ: খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে মনোবিজ্ঞানের প্রাচীন যুগের শুরু। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের যুগে প্রাক সক্রেটিস আমলে গ্রিক দার্শনিকগণ আত্মা বলতে এমন প্রাণ শক্তিকে বুঝত যা জীবনের জন্য অত্যাবশ্যক। দেহ ব্যতীত আত্মা নির্জীব ও সংবেদনশীল। চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে প্রথম মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে একটি মতবাদ দেন। সক্রেটিস (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৯-৩৯৯) প্রথম আত্মাকে বুদ্ধিজাত নৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। প্লেটো (খ্রিস্টপূর্ব ৪২৮-৩৪৭) এর মতে, মানুষের জ্ঞানের দুটি স্তর রয়েছে। যথা-বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও সংবেদনমূলক। এরিস্টটল-এর মতে, জীবাত্মা অপেক্ষা মানবাত্মা উন্নত। জীবাত্মার মতো মানবাত্মার মধ্যে দুঃখ ও সুখের অনুভূতি রয়েছে।
আধুনিক যুগ: জার্মান মনোবিজ্ঞানী উইলহেম উন্ড জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মনোবিজ্ঞানের গবেষণাগার স্থাপনের পর তখন থেকে মনোবিজ্ঞানের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। তাঁর মতে, সংবেদনই একমাত্র মানসিক ক্রিয়া যাকে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা যায়। তাঁর গবেষণা থেকে মানুষের চেতনা সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা গিয়েছে। উন্ড ও তাঁর সঙ্গীরা মানসিক কার্যকলাপকে দৈহিক ক্রিয়া থেকে পৃথক করে প্রত্যক্ষ করতেন।
রাশিয়ান বিজ্ঞানী শেখেনভ (১৮৬৩) মত দেন যে, সব রকম মানসিক ক্রিয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। কিছুদিন পর তাঁর ছাত্র প্যাভলভ (১৮৪৯-১৯৩৬) শেখেনভের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয় যে, যেকোনো মানসিক ক্রিয়া সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। দার্শনিক কার্ল মার্কস এই মতবাদকে আরো সংগঠিত করেন। তাঁর মতে, চেতনা হলো মস্তিষ্কের সামগ্রিক ক্রিয়ার ফল। কার্ল মার্কস ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও প্রাণিবিজ্ঞান থেকে বহু তথ্য সংগ্রহ করে প্রমাণ করেছেন যে, সচেতনতা নির্ভর করে মস্তিষ্কের গড়ন ও জটিলতার উপর।
দৃশ্যকল্প-২ এ গ ও ঘ চিহ্নিত স্থান দুটি হলো যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতা। নিচে এদের বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বহির্ভূত জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে না থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করার মনোভাব পোষণ করা। এতে তত্ত্ব ও তথ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানীর থাকতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানিগণ পুরাতনকে বর্জন করে নিত্যনতুন তথ্য আহরণে সদা নিয়োজিত থাকেন।
বিজ্ঞানের আর একটি মাপকাঠি হলো এর প্রয়োগ বা ব্যবহার। যে জিনিস বা বিষয়কে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানের আজ বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজজীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। কোন বিষয় বিজ্ঞান হওয়ার জন্য চারটি শর্ত পূরণ করতে হয়, বিষয়বস্তু, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রয়োগশীলতা। যা মনোবিজ্ঞানে রয়েছে।