| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – সংবেদন ও প্রত্যক্ষণ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
বিভিন্ন বস্তু থেকে আগত বিভিন্ন উদ্দীপনা এলোমেলোভাবে আমাদের মস্তিষ্কে পৌছালে মস্তিষ্ক সেগুলোকে সংঘবদ্ধরূপে বা সুশৃঙ্খলভাবে প্রত্যক্ষণ করে, একেই প্রত্যক্ষণের সুবিন্যস্তকরণ বলে।
ওয়াইনি ওয়াইটেন এর মতে- "দীর্ঘ উদ্দীপনার প্রতি সংবেদনশীলতার পর্যায়ক্রমিক ক্রমাবনতি হলো সংবেদন সমতা।"
Adaptation এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো সমতা বা অভিযোজন। সমতা বা অভিযোজন বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে যার বেশিরভাগই অবস্থা বা পরিবেশগত কারণে আচরণের পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর এই আচরণের এই পরিবর্তনকেই বলা হয় সংবেদন সমতা। সংবেদন সমতা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন- অন্ধকার অভিযোজন, আলো অভিযোজন, শব্দ অভিযোজন, গন্ধ অভিযোজন, তাপ ও শৈত্য অভিযোজন প্রভৃতি।
উদ্দীপক-১ এ উল্লেখিত চিত্র ১, ২ ও ৩ এ প্রত্যক্ষণ সুবিন্যস্তকরণের উদ্দীপক উপাদান বা বস্তুনিষ্ঠ শর্ত যথাক্রমে নৈকট্য, শূন্যস্থান পূরণ ও সাদৃশ্যতার নীতি বা শর্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে।
নৈকট্য: যে সকল বস্তু কাছাকাছি সেগুলোকে আমরা একত্রে প্রত্যক্ষণ করি। ১নং চিত্রে দেখতে পাই বিন্দুগুলো যেদিক দিয়ে নিকটে অবস্থিত আমরা সেগুলোকে সেভাবে প্রত্যাখ্যান করি। ডানে-বামে প্রত্যক্ষণ না করে উপরে নিচে কল্পনা করি। এখানে প্রত্যক্ষণের বেলায় নৈকট্য কাজ করেছে।
শূন্যস্থান পূরণ: প্রত্যক্ষণ সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এই যে প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে কোনো ফাঁকা স্থান থাকলে আমরা তা পূরণ করে প্রত্যক্ষণ করি। যেমন উদ্দীপকে ২নং চিত্রে ফাঁকা স্থান পূরণ করে আমরা বৃত্ত এবং চতুর্ভুজ প্রত্যক্ষণ করি।
সাদৃশ্য: বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো বস্তুর মধ্যে মিলযুক্ত একই ধরনের বস্তুগুলো আমরা একত্রে প্রত্যক্ষণ করি। যেমন- ৩নং চিত্রে ভরাট করা বৃত্তগুলোকে ফাঁকা বৃত্তগুলো থেকে আলাদাভাবে প্রত্যক্ষণ করি।
উদ্দীপক-২ এ যে দুটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হলো
সংবেদন ও প্রত্যক্ষণ। এদের মধ্য সম্পর্ক নিম্নে আলোচিত হলো-
কোনো বিষয় বা বস্তু সম্বন্ধে প্রাথমিক চেতনাই হলো সংবেদন। আর সংবেদনকে যখন ব্যাখ্যা বা অর্থবোধক করা হয় তখনই তা হয়ে উঠে প্রত্যক্ষণ। হেনরি এল. রডিজার এবং তাঁর সহযোগীরা বলেন, সংবেদন বলতে পরিবেশ থেকে উদ্দীপনার গ্রহণকে বোঝায়, অপরপক্ষে প্রত্যক্ষণ ঐ উদ্দীপনার ব্যাখ্যা ও অর্থবোধক বর্ণনা করে। সংবেদন ও প্রত্যক্ষণকে আমরা আলাদাভাবে না দেখে বরং বলতে পারি এরা একই লম্বা দিগন্তের দুটি বিন্দু। কোনো উদ্দীপক যখন কোনো একটি বিশেষ ইন্দ্রিয় যন্ত্রে আঘাত করে তখন আশ্চার্যজনকভাবে দ্রুতগতিতে তা ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষণের সৃষ্টি হয়। তাই সংবেদন ও প্রত্যক্ষণের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা তৈরি করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ বাগানে পায়চারী করতে করতে হঠাৎ একটি তীক্ষ্ম (চোখা) বস্তু পায়ের নিচে পড়াতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলো। তীব্র ব্যথার এই অনুভূতিই হলো সংবেদন। আর যখন বোঝা গেল যে, একটি ভাঙা কাচ পায়ে ফুটাতেই এই ব্যথা অনুভূত হয়েছে, তখনই তা প্রত্যক্ষণে পরিণত হলো।