| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে ২০০৭ সালে পৃথক করা হয়।
আইনসভা যখন দুটি পরিষদ নিয়ে গঠিত হয় তখন তাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার একটি নিম্নকক্ষ এবং অন্যটি উচ্চকক্ষ নামে অভিহিত। উভয় কক্ষের সদস্যসংখ্যা কত হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে নিম্নকক্ষের সদস্যরা সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। আর উচ্চকক্ষের সদস্যরা বিভিন্নভাবে উচ্চকক্ষে আসেন। যেমন- ১. উত্তরাধিকারসূত্রে, ২. মনোনয়নের মাধ্যমে, ৩. প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ৪. পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার সাথে আমার পঠিত যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।
যে সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বণ্টিত থাকে সেটিই হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। এ সরকার কাঠামোতে একাধিক রাষ্ট্র বা প্রদেশ মিলে সরকার গঠন করে। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো প্রভৃতি রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে ৫০টি প্রদেশ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি প্রাদেশিক সরকারও নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে। এরূপ বর্ণনায় বোঝায় 'ক' দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত কিংবা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। যেমন ভারতে সংসদীয় যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত যেমনটি উদ্দীপকের রাষ্ট্রটিতেও দেখা যায়। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং 'খ' রাষ্ট্রে এর বিপরীত সরকারব্যবস্থা তথা এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এর মধ্যে এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অধিক উপযোগী বলে আমি মনে করি।
এককেন্দ্রিক সরকার এমন এক ধরনের সরকারকে বোঝায় যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এখানে প্রাদেশিক সরকার বা অঙ্গরাজ্য থাকতে পারে; কিন্তু এ সরকারগুলো কোনো স্বাধীন ক্ষমতা ভোগ করতে পারে না। আঞ্চলিক ও প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক স্বাধীনতা ভোগ করে না। গোটা দেশ একটি কেন্দ্র থেকে শাসিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশের মতো আয়তনে ছোট রাষ্ট্রের জন্য এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী। কারণ, এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা নমনীয়। কেননা কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এককেন্দ্রিক সরকারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এককেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয় বিধায় বলিষ্ঠ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এ শাসনব্যবস্থা সরকারি খরচের অপচয় রোধ করে এবং অপেক্ষাকৃত ছোট বা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে এ শাসনব্যবস্থা উপযোগী। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী বিধায় রাষ্ট্রীয় ঐক্য সৃষ্টি করা সহজ হয়। জনগণ আঞ্চলিক আনুগত্যের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয় না। এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠু শাসনের নিশ্চয়তা প্রদান করে জোরদার জাতীয় সংহতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থার একাধিক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি রয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া এরূপ ছোট একটি রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। এসব কারণে বাংলাদেশের জন্য এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী।