| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে।
পাকস্থলির সমগ্র অন্তর্গাত্র গ্যাস্ট্রিক মিউকোসায় আবৃত। এ আবরণ HCl, মিউকাস, প্রোএনজাইম ও বাইকার্বনেট ক্ষরণ করে। পাকস্থলির অন্তর্গাত থেকে নি:সৃত পুরু মিউকাস স্তর HCl এর আক্রমণরোধকারী ভৌত প্রতিবন্ধকরূপে কাজ করে। এছাড়া অন্তর্গাত্রে নি:সৃত বাইকার্বনেট মূলত একটি ক্ষার যা HCl কে প্রশমিত করে। এছাড়াও পাকস্থলির অন্ত:স্থ এপিথেলিয়াম কোষগুলো ঘন সংলগ্ন থাকায় HCl কিছুতেই এর ক্ষতি করতে পারে না। এসব কারণেই পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয় না।
উদ্দীপকে “X” চিহ্নিত অংশ দ্বারা অগ্ন্যাশয় বুঝানো হয়েছে। পরিপাকে অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
খাদ্য পাকস্থলি থেকে স্কুদ্রান্তে যাওয়ার সময় ক্ষারীয় তরলরূপী (pH 8 - 8.3) অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশ থেকে দুধরনের ক্ষরণ মিলে অগ্ন্যাশয় রস গঠন করে, যেমন- পরিপাক এনজাইম এবং একটি ক্ষারীয় তরল। বহিক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিপাককারী এনজাইম নিঃসৃত হয়। আমিষ, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এসব এনজাইমসমূহের পরিপাকে অংশগ্রহণের ধরণ নিম্নরূপ:
শর্করা পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:
১. আ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে। ২. মল্টোজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:
১. ট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। ২. কাইমোট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে ।
৩.কার্বক্সিপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় লিঙ্কেজকে সরল পেপটাইড ও আ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে ।
৪. আ্যামিনোপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৫. ট্রাইপেপটাইডেজ এনজাইম ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে আ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৬. ডাইপেপট্টাইডেজ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙে আ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৭. কোলাজিনেজ এনজাইম কোলাজেন জাতীয় প্রোটিনকে সরল পেপটাইডে রূপান্তরিত করে।
৮. ইলাস্টেজ এনজাইম যোজক টিস্যুর প্রোটিন ইলাস্টিনকে ভেঙে পেপটাইড উৎপন্ন-করে।
স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:
১. লাইপেজ এনজাইম চর্বি (লিপিড) কে ভেঙে ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে।
২. কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম কোলেস্টেরল এস্টারকে ফ্যাটি এসিডে বিশ্লিষ্ট করে।
উদ্দীপকের “Y” অংশ দ্বারা ক্ষুদ্রান্ত্রকে নির্দেশ করা হয়েছে। ক্ষুদ্রান্ত্রে সকল খাদ্য শোষিত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
মানুষের পরিপাকতন্ত্রের পরিপাককৃত খাদ্যসার পরিশোষণের প্রধান হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। ক্ষুদ্রান্ত্রের মিউকোসা স্তরের ভিলাই হলো পরিশোষণের একক। অ্যামিনো এসিড ও সরল শর্করাগুলো ভিলাই মধ্যস্থ কৈশিকজালিকার রক্তে শোষিত হয় এবং পোর্টালতন্ত্রে বাহিত হয়। চর্বিজাতীয় খাদ্যসার ভিলাই এর লসিকায় শোষিত হয় ও লসিকাতন্ত্র দিয়ে পরিবাহিত হয়। বেশিরভাগ পানিই ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়।
মানুষের খাদ্য খাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেহের পুষ্টি নিশ্চিত করা। মানুষের গৃহীত খাদ্য পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সরলীকৃত হয়ে রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে প্রতিটি কোষে পৌছায়। এখানে কোষ বিপাকের মাধ্যমে আমরা শক্তি পাই। পরিপাকতন্ত্র হতে খাদ্যসার সংবহনতন্ত্রে আসার অন্যতম জায়গা হলো ক্ষুদ্রান্ত্র।
তাই বলা যায় ক্ষুদ্রান্ত্র বা “Y” অংশে সকল খাদ্যই শোষিত হয়।