| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – অর্থনৈতিক রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
মৃত প্রাণীর চামড়াকে প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়াকে ট্যানিং বলে।
এক অণু অ্যামিনো এসিডের কার্বক্সিল মূলকের অংশ এবং অপর অণু অ্যামিনো এসিডের -অ্যামিনো মূলকের H-পরমাণু যুক্ত হয়ে পানি অণুর গঠন ও অপসারণের পরে N-প্রান্ত ও মূলকের C-প্রান্তের মধ্যে যে সংযোগ ঘটে তাকে পেপটাইড বন্ধন বলে।
যেহেতু এ পেপটাইডটি দুই অণু অ্যামিনো এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়েছে, তাই একে ডাইপেপটাইড বলা হয়।
একইভাবে তিন অণু অ্যামিনো এসিডের ঘনীভবন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রাইপেপটাইড গঠিত হয় এবং বহুসংখ্যক অ্যামিনো এসিডের অণু পেপটাইড বন্ধনের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড গঠন করে।
উদ্দীপকের তথ্য মতে, P উৎপাদটি সিমেন্ট।
সিমেন্ট উৎপাদনের মূলনীতি: সূক্ষ্মভাবে চূণকৃত চুনাপাথর , ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট এবং (বালি) সমৃদ্ধ কাদামাটি এর মিশ্রণ) এর মিশ্রণকে বিশেষ ধরনের ঘূর্ণায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে এক ধরনের চূর্ণাকার মিশ্রণ পাওয়া যায়, যাকে ক্লিংকার বলে।
ক্লিংকারকে পেষণ যন্ত্রে অতি সূক্ষ্মভাবে চূর্ণ করলে এক ধরনের ধূসর বর্ণের পাউডার পাওয়া যায়, যাকে সিমেন্ট বলে। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন অক্সাইড (প্রধানত ) চুল্লীর অভ্যন্তরে ভস্মীকরণ (Calcining) তাপমাত্রায় দ্বিবিযোজন বিক্রিয়া দ্বারা ডাইক্যালসিয়াম সিলিকেট ( ); ট্রাইক্যালসিয়াম সিলিকেট ; ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট গঠিত হয়, এগুলোই সিমেন্টের প্রধান উপাদান। MgO মুক্ত অবস্থায় থাকে। এবং এগুলো ইত্যাদির সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এছাড়া সিমেন্ট যাতে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে সে উদ্দেশ্যে সিমেন্টে জিপসাম ব্যবহার করা হয়। কারণ সিমেন্ট দ্রুত জমাট বাঁধলে সিমেন্টের ভিতরে ফাঁকা স্থান তৈরি হয়। ফলে সিমেন্টের সেটিং দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়। অতএব সিমেন্টে জিপসাম ব্যবহৃত হলে, সিমেন্টের সেটিং মজবুত, শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বিক্রিয়া:
(ডাইক্যালসিয়াম সিলিকেট)
(ট্রাইক্যালসিয়াম সিলিকেট)
(ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট)
এসব বিক্রিয়ার সঙ্গে কাদামাটির নির্জলীকরণ এবং চুনাপাথরের ভস্মীকরণও ঘটে।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, P ও R হলো যথাক্রমে সিমেন্ট ও কাগজ। নিচের সিমেন্ট ও কাগজ উৎপাদন পরিবেশের উপর প্রভাব যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
সিমেন্ট উৎপাদনে পরিবেশের উপর প্রভাব: সিমেন্ট উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা সিমেন্ট কারখানা ও আশেপাশের পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত হয়। সিমেন্ট উৎপাদনের কারখানা থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ বায়ুতে মিশে যায়। যেমন - মারকারি (Hg), হাইড্রোকার্বন, , সহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস। Hg আশেপাশের নদীনালা ও খালবিলে মিশে পরবর্তীতে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া ঘটায়। এছাড়া সিমেন্ট কারখানায় ক্লিংকার তৈরির সময় ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো হয়। চুল্লির বর্জ্য গ্যাসে ও গ্যাস থাকে, যা বায়ুদূষকরূপে বায়ুকে দূষিত করে। এসব দূষক গ্যাস ও কঠিন রাসায়নিক বস্তুর সূক্ষ্ম কণাসমূহ মানুষের শ্বাসনালি ও ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করে। এতে কারখানার আশেপাশের এলাকায় লোকজনের ফুসফুসের মধ্যে সিলোকোসিস নামক রোগ হয়। এছাড়া এসকল প্রক্রিয়ায় , গ্যাসসমূহ এসিড বৃষ্টি তৈরি করে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কাগজ উৎপাদনে পরিবেশের উপর প্রভাব: কাগজ উৎপাদনে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার মধ্যে অন্যতম বন উজাড়, বায়ুদূষণ, পানি দূষণ ইত্যাদি। কাগজের কাঁচামাল হিসেবে গাছ কাটার কারণে বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জীব বৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া কাগজ শিল্পের কারখানা থেকে এবং এর মতো ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়, যা এসিড বৃষ্টি ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। এছাড়া কাগজ শিল্পে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হয় এবং রাসায়নিক পদার্থ ও কঠিন বর্জ্য মিশ্রিত পানি নদী বা জলাশয়ে নিষ্কাশন করে যা জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে।