| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আইডিয়াল স্কুলের প্রধান…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্বী ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস টেস্টে ২০ এর মধ্যে ৫ পেয়েছে। এটি তাকে খুব হতাশ করে। ফলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে দেখা যায়, আসলেই তাকে এর চেয়ে বেশি নম্বর দেয়া যায় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সমন্ধে অনুধ্যান করে।
মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্যতম হচ্ছে প্রাণীর আচরণ।.
মনোবিজ্ঞানে মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সমন্ধে অনুধ্যান করা হয়। তবে যেসব ক্ষেত্রে মানুষের ওপর পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, যেসব ক্ষেত্রে নিম্নতর প্রাণীর ওপর পরীক্ষণ পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এজন্যই প্রাণীর আচরণ মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ছাত্রশিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। উক্ত পদক্ষেপগুলো মনোবিজ্ঞানে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শাখায় আলোচিত হয়।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। মানুষের শিক্ষা সংক্রান্ত আচরণের বিজ্ঞানই হলো শিক্ষা মনোবিজ্ঞান। মনোবিজ্ঞানের এ শাখায় মানুষের শিক্ষা সম্পর্কিত আচরণের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং এগুলোর সমাধানে মনোবিজ্ঞানের মূল নীতিসমূহ কিভাবে প্রয়োগ করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত মানুষের সব ধরনের আরচণই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অনুধ্যানের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও শিক্ষার বাস্তবমুখী লক্ষ্য নির্ধারণ, ছাত্র-শিক্ষক এর সম্পর্ক উন্নয়ন, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি প্রভৃতি এই শাখায় আলোচিত হয়।
উদ্দীপকে তন্বী ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস টেস্টে নম্বর কম পাওয়ায় হতাশায় ভোগে। এখানে সে প্রতিযোগিতায় অন্যের থেকে নম্বর কম পায়। প্রতিযোগিতা ছাড়াও আরও দুটি নীতি রয়েছে। যথা— অত্যধিক উচ্চাশা ও সামাজিক বাধা। নিচে দুটি নীতির বর্ণনা দেয়া হলো—
অত্যধিক উচ্চাশা : উচ্চাশা মানুষের জীবনের একটি পরিচিত ঘটনা। কিন্তু উচ্চাশা যখন অতি উচ্চাশায় পরিণত হয় এবং তা যদি ব্যক্তির ক্ষমতার বাইরে হয়, তাহলে তার এ আশা কোনো দিন পূর্ণ হবার নয়। খুব কম সংখ্যক লোকই নির্বাহী কর্মকর্তা, বিখ্যাত বা নেতা হতে পারে। বাস্তব বর্জিত উচ্চাশা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আর এ ব্যর্থতা হতাশার জন্ম দেয়। তাই অতি উচ্চাশা হতাশার এক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ।
সামাজিক বাধা : আচরণের উপর সমাজ কর্তৃক প্রবর্তিত বিধি-নিষেধ অনেক সময় হতাশার উৎস হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও কার্য-কলাপ সমাজের নৈতিক ও সংস্কৃতির ধারার অনুরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয় । চৌর্যবৃত্তির সংক্ষিপ্ত পথে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান, ব্যভিচারের মাধ্যমে বৈবাহিক স্বাদ আস্বাদন অথবা মাদকাসক্তি প্রভৃতির সাথে জড়িত হয়ে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় না। আবার পল্লির কোনো অভিভাবক সামাজিক চাপে তার অষ্টাদশী প্রতিভাময়ী সাঁতারু কন্যাকে সাঁতারের পোশাক ব্যবহার করতে দিতে রাজি নন। ফলে মেয়েটির অদম্য ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনিভাবে অনেক সময় সামাজিক বাধা নিষেধের ফলে লক্ষ্যবস্তু অর্জনে অনেক বাধা আসে। আর ফলশ্রুতিতে দেখা দেয় হতাশা।