| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আজ জ্যোৎস্না রাতে…’ ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে বসন্তের এই মাতাল সমীরণে আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে যাবো না যে যাবো না যে রইনু পড়ে ঘরের মাঝে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মল্লার হচ্ছে সংগীতের একটি রাগ, যা রাতের দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
“রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ" বলতে রৌদ্রের খরতাপে পায়ের নিচে ছায়ার লুকিয়ে থাকাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রীষ্মকালের নানা দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রীষ্মকালে সূর্য প্রচন্ডভাবে তাপ দেয়। রৌদ্রের তাপে যেন কোথাও ছায়া পাওয়া যায় না। ছায়া যেন পায়ের নিচে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ফলে ছায়ার খুব প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ছায়ার এমন অবস্থা বোঝানোর জন্যই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশকে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির ছয়টি ঋতুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত ঋতু। এই ঋতুতে প্রকৃতি নতুন রূপে সজ্জিত হয়। তাই বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ।
উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বসন্তের মাতাল হাওয়ার জোছনা রাতে সবাই বনে চলে গেছে। বসন্তের এই সৌন্দর্য সবাই উপভোগ করছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও এই বসন্ত ঋতুর নানা দিক ফুটে উঠেছে। কবি এ কবিতায় বসন্তকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বসন্ত ঋতুতে গাছে গাছে নতুন পাতা আসে, এ সময় দখিনা স্নিগ্ধ বাতাস যেন প্রেমের দেবতার সংবাদ বহন করে আনে। ফুলে ফুলে গাছ ভরে ওঠে। চারদিকে ভ্রমরের গুঞ্জন আর কোকিলের কলরব শোনা যায়। এসব মানুষের মনকে আকুল করে। বসন্ত যেন নানা ফুলের মালা গলায় দিয়ে বিচিত্র বসন পরে চন্দন চর্চিত হয়ে আনন্দ নিয়ে উপস্থিত হয়। এভাবে বসন্ত ঋতুর এ অপরূপ সৌন্দর্য উদ্দীপকের বসন্তের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতার শুধু বসন্তের একটি খণ্ডিত দিক ধারণ করায় উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি-মন্তব্যটি যথার্থ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত প্রত্যেক ঋতুই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাংলার প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। এই ঋতুবৈচিত্র্যেই বাংলার প্রকৃতি অনাবিল সৌন্দর্যে মণ্ডিত হয়।
উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর কথা বলা হয়েছে। বসন্তের মনমাতানো হাওয়ায় অবগাহন করার জন্য সবার জ্যোৎস্না রাতে বনে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে মূলত বসন্ত ঋতুর মনোরম সৌন্দর্যের দিকটির আভাস পাওয়া যায় যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এ কবিতায় কবি বসন্ত ঋতু ছাড়াও গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত ও-শীত ঋতুর নানা বিচিত্র দিক তুলে ধরেছেন। এসব ঋতুর বর্ণনায় তিনি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে এসব বিষয় প্রতিফলিত হয়নি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি বসন্তের মনোরম সৌন্দর্য বর্ণনার পাশাপাশি এ সময় ভ্রমরের গুঞ্জন, কোকিলের কুহুতান, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড সূর্যের রৌদ্র ত্রাস ও ছায়ার গুরুত্ব, বর্ষার মেঘ গর্জন ও অবিরল বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতের ভয়ে দ্রুত সূর্যের ডুবে যাওয়ার দিকগুলো ফুটে উঠেছে। এগুলোর সঙ্গে কবি সুখী দম্পতির মনের সুখ তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে কেবল বসন্তের একটি খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।