| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আজিকে বাহিরে শুধু…’ a – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছলছল জলধারে,
বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'কিংশুক' শব্দের অর্থ পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
➤ গ্রীষ্মের শেষ দিকে গরমের সময় ঘন ঘন গর্জন করে বর্ষাকালে আসে।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি বর্ষাকালের নানা রকম বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কও ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেছেন, গরম আবহাওয়ার সময়ই ঘন ঘন গর্জন শোনা যায়। এর ফলে চারদিকে অবিরাম বৃষ্টিধারা বয়ে যায়। মেঘের ভয়ংকর শব্দকে কবি কৈলাসের মল্লার রাগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কবি বলেন, এ সময় মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর যে রব শোনা যায় সেটি মনে অনেক ভালোলাগা জাগায়। আবার কীটকুলের পুনঃপুন ঝংকার যেন মানবমনে আনন্দ ও ভীতির সঞ্চার করে। ফলে যুবকচিত্ত একদিকে যেমন আনন্দিত হয় অন্যদিকে আবার ভীতও হয়।
সারকথা: প্রকৃতিতে বর্ষা ঋতুর আগমনের ফলে গ্রীষ্মের প্রচন্ড উত্তাপ কমে যায়।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতাটি বর্ষাকালীন প্রকৃতি ও মানবমনে এর প্রভাবের দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশেষ করে বর্ষার প্রকৃতি মানুষের মনে এক অন্য রকম অনুভূতি সৃষ্টি করে। বর্ষা প্রকৃতিতে যেমন পরিবর্তন নিয়ে আসে, তেমনই মানবমনেও পরিবর্তন আনে।
➤ উদ্দীপকে প্রকৃতিতে বর্ষার প্রভাব বর্ণিত হয়েছে। অবিরত বর্ষণকে ক্রমাগত ক্রন্দনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে চারদিকে জলধারার সৃষ্টি হয়েছে। বাঁশবনে বাতাস এসে তার পাতাগুলোকে এলোমেলো করে দিয়ে গেছে। কবি একে রমণীর এলোকেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রকৃতিতে বর্ষা এমনই রূপমাধুর্য সৃষ্টি করেছে। এমন দিনে প্রিয়জনের জন্য মানুষের মন ব্যাকুল হয়। বর্ষা প্রকৃতির প্রভাবে মানবমনের অবস্থা পরিবর্তনের এই দিকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতাটিতে বর্ষায় মেঘের গর্জন, অবিরল বৃষ্টিজলে স্নাত প্রকৃতি, একটানা মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরের ডাক প্রভৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বর্ষার ছোঁয়ায় প্রাণিকুলের মধ্যেও জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। পুলক জেগেছে তাদের মনে। তাদের ঝংকারে এবং প্রকৃতির পরশে যুবক চিত্তেও অন্য এক আবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে বর্ষার প্রভাবে প্রকৃতি ও মানবমনের পরিবর্তনের দিকটিই কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
সারকথা: বর্ষার প্রভাবে প্রকৃতি ও মানবমনের পরিবর্তনের দিকটিই 'ঋতু বর্ণন' কবিতা ও উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
➤ "উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার খন্ডাংশ মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ বাংলার প্রকৃতিতে ছয়টি ঋতু আসে-যায়। এই পালাবদলের খেলায় প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন হয়। চারপাশের প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনেও আসে পরিবর্তন। প্রকৃতি ও মানবের এই লীলাচক্র কবিমনে ধরা দিয়েছে বিভিন্ন রূপে ও রঙে।
➤ উদ্দীপকে বর্ষার এক চিরন্তন সৌন্দর্য ধরা পড়েছে। বর্ষার অবিরত জলধারায় চারদিকের ছলছল অবস্থা, বাঁশবনের বৃষ্টিস্নাত মনোমুগ্ধকর রূপ আর সেই সঙ্গে মানবমনের ব্যাকুল হৃদয়ের প্রত্যাশার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে এখানে। বর্ষার আগমনে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক প্রকাশিত হয়েছে 'ঋতু বর্ণন' কবিতাটিতেও। কবিতায় মেঘের গর্জন, বৃষ্টির ধারায় চারপাশ জলে পরিপূর্ণ হওয়া, ময়ূর ও ব্যাঙের জেগে ওঠার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে প্রকৃতির পরশে মানবমনে জেগে ওঠা ভাবের কথা। তবে কবিতাটিতে কেবল বর্ষা প্রকৃতির কথাই বলা হয়নি। সেখানকার বিষয় বর্ণনার পরিধি আরও ব্যাপক।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব বর্ণনা করেছেন। এখানে বসন্তের বাতাস ও এর পত্রপুষ্প, ভ্রমর ও কোকিলের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য, গ্রীষ্মের তপন-ত্রাস ও ছায়ার গুরুত্ব, বর্ষার মেঘ গর্জন ও বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতিতে প্রাণিকুলের হরষিত চিত্ত বর্ণন, শরতের নির্মল প্রকৃতি, শীতের বিশেষত্ব ও রজনিতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ বর্ণিত হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে বাংলার নিসর্গ-রূপে সমৃদ্ধ হওয়ার কথা প্রকাশিত হয়েছে। তবে উদ্দীপকে কেবল একটি ঋতুর কথা ও এটির প্রভাবে প্রকৃতি ও মানবমনের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। তাই এটিকে কবিতার খন্ডাংশ বলা চলে। এই বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর বিভিন্ন চিত্র এবং মানবমনে এগুলোর প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্য এবং এটির প্রভাবে মানবমনের আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।