| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আজকের দিনটা একেবারে…’ a – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আজকের দিনটা একেবারে অন্য রকম। ভোর থেকেই সারা আকাশ কালো মেঘের কুণ্ডলীতে ঢাকা। ক্ষণে ক্ষণে কানে বাজছে গুরু গুরু ধ্বনি- যেন মেঘের মুদগঙ্গ বাজছে। একটানা বৃষ্টি’ পড়ছে রিমঝিমিয়ে। আকাশের আজ যেন বাঁধ ভেঙেছে। বৃষ্টির ঝাপটায় চারপাশ যেন ঢেকে আছে কুয়াশার স্বচ্ছ চাদরে। আর প্রাণিরাজ্যে সবচেয়ে আনন্দে মেতেছে বুঝি ব্যাঙের দল। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে তারা ঐকতান ধরেছে- ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। সূর্যের দেখা নেই, যেন সয়েওছে বারব্যাঙের এল মধ্যে মাঝে মাঝে আকাশে ঝলসে উঠছে বিদ্যুতের চাবুক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'শিখিনী' শব্দের অর্থ ময়ূরী।
➤ "শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ"- কথাটির মাধ্যমে কবি শীতকালে দিন ছোট হওয়া এবং সূর্য দেখা না যাওয়ার কথা- বলেছেন।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর ধারাবাহিক বর্ণনায় প্রতিটি ঋতুর বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে তিনি শীতকালের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন। শীত ঋতুতে অনেক কুয়াশা পড়ে। এ কুয়াশার প্রভাব এত বেশি থাকে যে, এর চাদর ভেদ করে সূর্যে আলো পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। শীতের এই ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না। শীতকালে দিন ছোট হয়। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
সারকথা: শীতের ত্রাসে সূর্য যেন খুব তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে, সারা দিন তার আর দেখা পাওয়া যায় না।
➤ উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ বর্ষা ঋতু এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতিতে। বর্ষার স্পর্শে প্রকৃতি সজীব ও সরাগ হয়ে ওঠে। ফসলের খেত পানির ছোঁয়া পেয়ে শস্যে ভরে ওঠে। ভাবুকদের অন্তরে জেগে ওঠে নানা ছন্দ, কবিতা, গান।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় মধ্যযুগের কবি ষড়ঋতুর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি উন্মোচন করেছেন। তিনি তাঁর কবিতায় বর্ষা ঋতুর বর্ণনায় বলেছেন মেঘের গর্জনের কথা। এ সময় চারপাশ মুখর হয় ব্যাঙের ডাকে। ময়ূরীর কেকা ধ্বনি মনের মধ্যে দোলা দেয়। বর্ষা ঋতুর এরূপ চিত্র উদ্দীপকেও পাওয়া যায়। বর্ষায় আকাশে মেঘের গুরু গুরু ধ্বনি যেন মেঘের মৃদঙ্গের মতো। এ সময় প্রাণিরাজ্যের আনন্দের প্রসঙ্গে ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও পাওয়া যায়। এভাবে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দ চিত্তের প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষা ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের আনন্দের যে কথা বলা হয়েছে, তা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
➤ "উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার একাংশের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুর প্রকাশ বাংলাদেশে যেভাবে প্রকটিত হয় সেভাবে আর কোথাও হয় না। তাই ঋতু বৈচিত্র্যের এই দেশের মানুষের মনও বিচিত্র। ঋতুর সাথে তাদের মনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করেছে তা তিনি কাব্যে তুলে ধরেছেন সুনিপুণভাবে। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, গ্রীষ্মের প্রচন্ড রৌদ্র তাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, শীতের রজনিতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ- এভাবে ঋতুর বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি প্রকৃতির রূপমাধুরী তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনের যে পরিবর্তন তা তিনি কাব্যে স্থান দিয়েছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু বর্ষা ঋতুর বর্ণনা করা হয়েছে, এটি কবিতার একটি দিক।
➤ উদ্দীপকের বর্ণনায় বর্ষাকালের প্রকৃতির রূপের চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষাকালের পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা রয়েছে এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও উন্মোচিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বর্ষা ঋতুর পাশাপাশি অন্যান্য ঋতুর বর্ণনা এবং ঋতুগুলোর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। আর উদ্দীপকে কেবল বর্ষা ঋতুর রূপটি ফুটে উঠেছে। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।