| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আয়েশা ও ইদিতা…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৪ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

আয়েশা ও ইদিতা আফরিন দুই বান্ধবী। তারা প্রায়ই বিভিন্ন হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন। ইদিতা আফরিন বলেন, ‘অনেক মেয়ে প্রায়ই হিংসা করে। যদিও ‘দুইজন ব্যতীত হিংসা জায়েজ নয়’। আয়েশাও আরেকটি হাদিস যুক্ত করে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল। এই বিষয়ে আমরা সবাই জিজ্ঞাসিত হবো’।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
হাদিসের মূল বক্তব্যকে মতন বলে।
ইসলামের মূল কাঠামো যে পাঁচটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাই ইসলামের স্তম্ভ।
স্তম্ভ শব্দের অর্থ খুঁটি। ইসলাম যেন একটি প্রাসাদ। পাঁচটি খুঁটির ওপর তা প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো— কালেমা, সালাত, জাকাত, সাওম ও হজ। তবে এগুলোই সমগ্র ইসলাম নয়। কেননা শুধু খুঁটিকেই কেউ প্রাসাদ মনে করলে বোকামি হবে। আবার খুঁটি ছাড়া কেউ প্রাসাদ নির্মাণ করতে পারবে না। তাই এই খুঁটিগুলো ঠিক রেখে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
ইদিতা আফরিনের আলোচনায় দানশীলতা ও শিক্ষার এই দুই শ্রেণীর লোকের কথা বলা হয়েছে।
ইসলামে হাসান বা হিংসা সম্পূর্ণভাবে হারাম। তবে দুই শ্রেণির মানুষের প্রতি হিংসা করা বৈধ। এ সম্পর্কে রাসুল (স) বলেন, “দু’ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে হিংসা করা যায় না। একজন হচ্ছেন সেই ব্যক্তি আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, আর তাকে সে সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করার তাওফিক দিয়েছেন। অপর ব্যক্তি হচ্ছেন সেই জন যাকে আল্লাহ গভীর জ্ঞান দিয়েছেন, আর সে জ্ঞান অনুসারে বিচার ফায়সালা করে ও তা অন্যকে শিক্ষা দেয়” । ইদিতা আফরিনের আলোচনায় এই দুই শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে ইদিতা আফরিন বলেন, অনেক মেয়ে প্রায়ই হিংসা করে যদিও দুইজন ব্যতীত হিংসা জায়েজ নয়। তার এই কথা যৌক্তিক। সমাজের মানুষের এরূপ হিংসা ইসলাম বৈধ, যা রাসুল (স)-এর উল্লিখিত হাদিসের বর্ণনায় প্রমাণিত হয়। মূলত যে ঈর্ষায় ব্যক্তি বা সমাজের কোনো ক্ষতি হয় না বরং উপকার হয়, সে ঈর্ষা হারাম হবে না। আর জ্ঞান বিতরণ করলে তা কমে না, বরং বাড়ে। যা সবার জন্যই কল্যাণকর হয়। সুতরাং ইদিতা আফরিন এই দুই শ্রেণির কথা বলেছে।
উদ্দীপকে আয়েশার বর্ণনা করা হাদিসটিতে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবজীবনে যার গুরুত্ব অপরিসীম।
দায়িত্ব পালন বলতে করণীয় কাজ যথাযথভাবে' পালন করাকে বোঝায় । সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দায়িত্ব সম্পর্কে সবাই জিজ্ঞাসিত হবে । উদ্দীপকে এরূপ হাদিসের কথাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে আয়েশা বলেন, 'আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল, এই বিষয়ে আমরা সবাই জিজ্ঞাসিত হবো'। মানবজীবনে দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব অনেক। কেননা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হয় তাহলে কেউ পথভ্রষ্ট হবে না । মানুষ আল্লাহর খলিফা। সেজন্য তার জীবন-যাপন লাগামহীন হতে পারে না। সে দায়িত্বহীন হতে পারে না । খিলাফতের খলিফা থেকে শুরু করে গৃহস্থ, ঘরের অতি নগন্য চাকরটি পর্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। মর্যাদা ও অবস্থানগত কারণে হয়তো কারো দায়িত্বের বিস্তৃতি কম, আর কারো বিস্তৃতি ব্যাপক। কিন্তু সবাই দায়িত্বশীল এবং কিয়ামতের কঠিন ময়দানে সব ব্যক্তিই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। জবাবদিহি হ্রাস পেলে মানবজীবনে অধঃপতন নেমে আসে। এর প্রকরণ বা উপায় দুইটি: ১. মানুষের কাছে জবাবদিহি এবং ২. আল্লাহর কাছে জবাবদিহি। মানুষের কাছে জবাবদিহির অনুভূতি কমে গেলে বা বিলুপ্ত হলে মানুষ যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি হারিয়ে গেলে। তাই চূড়ান্ত সফলতা লাভ করতে হলে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, আমরা প্রত্যেকে যে কাজ করি না কেনো প্রত্যেককে সেই কাজের জবাবদিহিই করতে হবে। তাই আমাদের উচিত সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়া।