| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আকাশ শীতের ছুটিতে…’ a – প্রাকৃতিক ভূগোল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

আকাশ শীতের ছুটিতে বান্দরবানে ঘুরতে গেল। সে এখানে উঁচু উঁচু পাহাড়, পাহাড়ি নদী এবং পাহাড়ি বনাঞ্চল দেখে মুগ্ধ হলো। সে ভাবল ঢাকা শহর থেকে এখানের পরিবেশ কত আলাদা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ভূগোলশাস্ত্রের যে শাখায় পৃথিবীর জন্ম, পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ এবং এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
প্রাকৃতিক, ভূগোলে যেসব উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়।
প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিসর সাধারণভাবে প্রকৃতির স্থানিক বিশ্লেষণ অপেক্ষা অনেক বৃহত্তর। সাধারণত ভূমিরূপবিদ্যা, জলবায়ুবিদ্যা, সমুদ্রবিদ্যা, মৃত্তিকাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিজ ভূগোল প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভূগোলোর আলোচন্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
পৃথিবীতে প্রকৃতির সকল বিষয়ই প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্গত। উদ্দীপকে উল্লিখিত আকাশ বান্দরবান অঞ্চলে ঘুরতে গিয়েছিল। এখানকার যে প্রাকৃতিক পরিবেশ লক্ষ করা গেছে তাও মূলত প্রাকৃতিক ভূগোলের আওতাভুক্ত।
বান্দরবান অঞ্চলে অনেক উঁচু উঁচু পাহাড়, পাহাড়ি নদী এবং পাহাড়ি বনাঞ্চল রয়েছে যা মূলত প্রাকৃতিক ভূগোলের আওতাভুক্ত। প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত ভূপ্রকৃতি অংশে ঐ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি সম্পর্কিত বিষয় আলোচিত হয়। মূলত জলবায়ু ও মৃত্তিকাজনিত কারণে এ অঞ্চলে উদ্ভিজ্জ বেশি পরিলক্ষিত হয়। যা প্রাকৃতিক ভূগোলের অংশ। আবার পাহাড়ি অঞ্চলের চূড়ায় অনেক বরফ জমে এবং এর ফলে এ অঞ্চল অনেক শীতল থাকে। এসব বরফখণ্ড বিচূর্ণীভবনের মাধ্যমে ক্ষয়ীভূত হয়ে ছোট গর্তের সৃষ্টি করে এবং কালক্রমে তা নদী সৃষ্টি করে থাকে যা পাহাড়ি নদী নামে পরিচিত। এসব নদী কীভাবে সৃষ্টি হলো তা প্রাকৃতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের আকাশ বান্দরবানের যে প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ পাহাড়, নদনদী, জঙ্গল প্রভৃতি দেখে মুগ্ধ হয়েছে; তা ঐ অঞ্চলে কীভাবে গড়ে ওঠে তা মূলত প্রাকৃতিক ভূগোলের ভূপ্রকৃতি, উদ্ভিজ্জ ও নদনদী অংশের মাধ্যমে আলোচিত হয়।
বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক ভূগোলের বিষয়বস্তুর সম্প্রসারণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুগুণে বেড়েছে।
কীভাবে পৃথিবী বিভিন্ন বাষ্পীয় ও তরল অবস্থার মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে তা আমরা প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠে জানতে পারি। প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে ভূত্বকের স্থানিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। ভূপৃষ্ঠ অনেকগুলো প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত। বিভিন্ন জায়গায় এ প্লেটগুলোর চলন বিভিন্ন ধরনের হয়। প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে এ প্লেটগুলোর চলনের ধরন সম্পর্কে জানতে পারি। প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের অন্যতম গুরুত্ব হলো পৃথিবীর জলবায়ু সম্পর্কে বিশদভাবে জানা। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের গভীরতা, বায়ুর প্রকারভেদ, স্তরবিন্যাস, বায়ুর উপাদান, বায়ুর তাপ ও চাপ প্রভৃতি। সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। এমনকি বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের কারণ, বৃষ্টি বলয়, বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ প্রভৃতি বিষয়ও জানা যায়। প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে সমুদ্র সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া পৃথিবীর মহাসাগরসমূহের অবস্থান, আকৃতি, জোয়ারভাটা, সমুদ্রস্রোত এবং এদের প্রভাব সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে পৃথিবীর বাইরের সৌরজগৎ ও লক্ষ কোটি তারকারাজি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
তাই মানবকল্যাণে প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।