| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আকিব সিলেটের হাকালুকি…’ a – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আকিব সিলেটের হাকালুকি হাওরে বেড়াতে গিয়ে শত শত পাখি দেখতে পায়। এরা শীতকালে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে আসে এবং শীত শেষে নিজ দেশে ফিরে যায়। ঢাকা ফিরে আকিব দেখতে পেল কিছু লোক অনুরূপ পাখি খাঁচায় বন্দী করে বিক্রি করছে। [ যশোর বোর্ড ২০১৫ ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
যেসব জন্মগত আচরণ অপরিবর্তনীয়ভাবে বংশানুক্রমে প্রদর্শন করে, তাই সহজাত আচরণ।
মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রধানত সুষুম্মা কান্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কোনো সংবেদী উদ্দীপনায় প্রাণীর দেহে যে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে। প্রতিবর্তী ক্রিয়া বিশেষ এক ধরনের অনৈচ্ছিক প্রকৃতির আচরণ। এ আচরণটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া এবং তা দেহের সমগ্র অংশে প্রভাব না ফেলে কেবলমাত্র অংশ বিশেষে প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীগুলো হলো উত্তর গোলার্ধ থেকে আসা পরিযায়ী পাখী। শীতকালে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে প্রচন্ড শীত। পড়ে এবং তুষারপাত ঘটে। এ অবস্থায় পাখীদের জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট সৃষ্টি হয়। শীতের এই তীব্র প্রকট থেকে বাঁচতে এ অঞ্চলের পাখীরা সহজাত আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অধিকতর অনুকূল পরিবেশযুক্ত স্থানে গমন করে। শীতকালে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা কম থাকে বলে এসময়ে এখানকার হাওড়, বিলগুলোতে পাখীদের বসবাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে। শীতের পরিযায়ী পাখিদের বসবাসের এরকমই একটি স্থান সিলেটের হাকালুকি হাওড়। মোট কথা বেঁচে থাকার প্রয়োজনে খাদ্যের সন্ধানে, অনুকূল আবহাওয়ার সন্ধানে এবং বাসা বাঁধার উপযুক্ত স্থান খুঁজতে ইত্যাদি কারণে শীতকালে উত্তর গোলার্ধের পাখীরা আমাদের দেশে আসে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত পাখিগুলো সংরক্ষণে করণীয় সম্পর্কে নিচে মতামত দেওয়া হলো-
বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পাখি পরিযায়ী হয় তার বেশির ভাগ আসে হিমালয় ও সাইবেরিয়া থেকে। অনেক প্রজাতির আগমন ঘটে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্য থেকে। ইউরেশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় শীতে পাখি পরিযায়ী হয়। শরৎ ও বসন্তকালেও কিছু পাখির যাতায়াত চোখে পড়ে। বাংলাদেশের প্রায় ৫০০ প্রজাতির স্থায়ী পাখি রয়েছে। অস্থায়ী বা বিদেশি পাখি প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০। অনেক বিদেশি পরিযায়ী পাখি রয়েছে যা স্বদেশে বিপন্ন এমন পাখিও বাংলাদেশে এসে কিছু দিনের জন্যে হলেও স্বাচ্ছন্দে কাটিয়ে যায়। এসব পাখি দেশের বড় বড় হাওড়, নদী ও উপকূল জুড়ে বিস্তৃত থাকে। তাই উপকূল জুড়ে পাখিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে। এছাড়া লক্ষ লক্ষ সদস্যের দৃশ্যমান পরিযায়ী পাখির পাশাপাশি অদৃশ্য পতঙ্গভুক্ত পাখিরা বনে বাদারে ঘুরে বেড়ায়। অক্টোবর-মার্চ মাস পর্যন্ত মাইগ্রেটরি পাখি দেখার ধূম পড়ে যায়। তাই আমাদের দেশে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পরিযায়ী পাখিদের জন্য সমস্ত হাওর এলাকা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনের বিশেষ বিধান করে পরিযায়ী পাখিদের এলাকাগুলো সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে কোনো ব্যক্তি পরিযায়ী পাখি ধরতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। পরিযায়ী পাখিকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এদের রক্ষার জন্য প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে অতিথি পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।