| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আকবর হাসান একজন…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আকবর হাসান একজন সরকারি চাকরিজীবী। অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে তিনি আরেকটা কাজ নিয়মিত করেন, তা হলো লেখালেখি। সাহিত্যপাগল আকবর হাসান কবিতা ও ছোটগল্প লেখেন। তার লেখা কোনো কবিতা বা ছোটগল্প এখন পর্যন্ত কোথাও প্রকাশিত হয়নি। তার পরিবার, অফিস, বন্ধুবান্ধব কারও কাছ থেকে তিনি প্রশংসা পাননি। সবাই তার লেখাকে অত্যন্ত সাধারণ মানের উল্লেখ করে লেখালেখি করতে নিষেধ করেন। কিন্তু আকবর হাসান এতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে নিজ আনন্দে লিখে চলেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার হরিপুর গ্রামে।
➤ স্কুলমাস্টারদের কবিতা পড়ানোর রীতিকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করে প্রাবন্ধিক এ মন্তব্যটি করেছেন।
➤ কবিতার রসাস্বাদনের উপায় হলো তা পড়া ও বোঝা। কিন্তু কবিতাকে যদি তত্ত্ব, টীকা-ভাষ্যের আড়ালে ঢেকে দেওয়া হয় তাহলে রসাস্বাদন তো দূরের কথা, তা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইবে সাধারণ পাঠক। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান স্কুলমাস্টাররা এ কাজটাই করছেন। কবিতা পড়াতে ও বোঝাতে গিয়ে তারা কবিতার তত্ত্ব, শব্দ, ছন্দ, টীকা ইত্যাদি নিয়ে এতই বিস্তৃত আলোচনা করছেন যে, মূল কবিতার স্বাদই শিক্ষার্থীরা নিতে পারছে না। প্রাবন্ধিক তাই স্কুলমাস্টারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কথাটি বলেছেন।
সারকথা: কাব্য পড়ার ও বোঝার বিষয়। কিন্তু তা না করে এটাকে ব্যবচ্ছেদ করলে শুধু অরুচিই বাড়বে। বর্তমান স্কুলমাস্টাররা এ কাজই করছেন।
➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত আকবর হাসানের মধ্যে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহস ও মনের আনন্দে সাহিত্য সৃষ্টি করার গুণাবলি বিদ্যমান।
➤ সাহিত্য সৃষ্টি করার জন্য সাহিত্যিকের কিছু গুণ থাকতে হয়। সাহিত্যিক যা রচনা করবেন তা হবে মনের আনন্দে এবং আনন্দদানের জন্য। কারও মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করলে তা হবে সাহিত্যের ধর্মচ্যুত।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য, কারণ ইত্যাদি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাহিত্যিকের নানা গুণ ব্যস্ত করেছেন। প্রথমতই সাহিত্যিককে সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য সম্বন্দ্বে অবহিত থাকতে হবে। আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য সাহিত্যিকের নিজের মনে আনন্দ থাকতে হবে; সাহিত্য রচনার সাহস ও ক্ষমতা থাকতে হবে। উদ্দীপকের আকবর হাসান সাহিত্য রচনা করছেন মনের আনন্দে। সাহিত্য সৃষ্টির জন্য মূল যে গুণাবলি প্রয়োজন আকবর হাসানের মধ্যে তা বিদ্যমান।
সারকথা: সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করবেন। নিজ আনন্দে। কেউ প্রশংসা করুক বা না করুক, তিনি এই কাজ থেকে কখনো পিছপা হবেন না।
➤ "সাহিত্যিকের মনের আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উপাদান- উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এটিই মূল সুর।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্যের উদ্দেশ্য কারও মনোরঞ্জন নয়, আনন্দদান। আনন্দকে বাদ দিয়ে মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচিত হলে তা প্রকৃত সাহিত্য হবে না। সাহিত্যের অবশ্যই প্রধান উদ্দেশ্য হবে আনন্দ। প্রধানত সাহিত্যিকের নিজের আনন্দ।
➤ উদ্দীপকের আকবর হাসানের ক্ষেত্রে আমরা দেখি, তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও সাহিত্য রচনায় ব্রতী হয়েছেন। তিনি কোনোরূপ অর্থ উপার্জনের বা কারও মনোরঞ্জনের ইচ্ছা ছাড়াই শুধু মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করে যাচ্ছেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকও একই বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য রচনার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো আনন্দদান।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের ঘটনা উভয় ক্ষেত্রেই আমরা যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখতে পাই তা হলো সাহিত্যিকের নিজের আনন্দ। সাহিত্যিক পাঠককে আনন্দদানের জন্য লিখবেন। তবে তার আগে ওই সাহিত্য সৃষ্টির ব্যাপারে সাহিত্যিকের নিজের মনে আনন্দ থাকতে হবে। নিজে যদি সাহিত্য রচনা করে আনন্দ না পান তাহলে তিনি যা লিখবেন তা হবে অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে। এই লেখা আর যাই হোক, সাহিত্য নয়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও উদ্দীপকের ঘটনা আমাদের সামনে এই সত্যটিকেই মূর্ত করে তোলে। তাই বলা যায়, "সাহিত্যিকের মনের আনন্দই সাহিত্য রচনার প্রধান উপাদান- উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এটিই মূল সুর" উক্তিটি যথার্থ।
সারকথা: যেখানে স্রষ্টার আনন্দ নেই সেখানে মহৎ সৃষ্টি নেই। সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাই সাহিত্যস্রষ্টার মনের আনন্দই রচনার প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।