| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – আল, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

আলালপুর গ্রামে প্রতিবছর বিশাল ওয়াজ মাহফিল হয়। স্থানীয় আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে লক্ষাধিক মানুষের ওয়াজ শোনার সুবিধার্থে আজান এবং নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের সময় মাইক ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। ওয়াজ মাহফিলে একজন বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, মুসলমানদের জীবন গতিশীল এবং সহজ করার জন্য ইসলামে কিয়াসের বিধান রয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
রাসুল (সা.)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে।
ইজমার রুকন দুটি। যথা- আযিমত ও রুখসাত।
আযিমত হলো প্রবল ইচ্ছা, দৃঢ় সংকল্প বা অনমনীয় প্রত্যয়। সব মুজতাহিদের একযোগে এমন কাজ শুরু করা বা এমন কথা বলাকে আযিমত বলে, যা তাদের একমত হওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে। ইসলামি পরিভাষায়, রুখসাত হলো, কোনো বিষয়ে কথায় বা কাজে মুজতাহিদদের একটি অংশের একমত হওয়া এবং অবশিষ্টদের সে বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আলালপুরের আলেমগণের কর্মকাণ্ডে ইজমা প্রকাশ পেয়েছে।
ইজমা হলো শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের যোগ্য মুজতাহিদ আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কুরআন ও হাদিসের মূলনীতির আলোকে নতুন বা উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আলেমগণ পরস্পর পরামর্শ 'করে যে ঐকমত্যে উপনীত হন তাকেই ইজমা বলা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুহাম্মদ (সা.)-ও সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ইজমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। খুলাফায়ে রাশিদিনের যুগেও বহু জাতীয় বিষয়ে সাহাবিগণ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা ইজমার বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে স্বীকৃত। এভাবে ইজমা ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আলালপুর গ্রামের আলেমগণ লক্ষাধিক মানুষের সুবিধার্থে আজান ও কুরআন তিলাওয়াতের সময় মাইক ব্যবহারের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এটি কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক নীতির পরিপন্থি নয়; বরং মানুষের কল্যাণ ও সহজতার জন্য পরামর্শভিত্তিক ঐকমত্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত। আধুনিক যুগের নতুন পরিস্থিতিতে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই ইজমার প্রকৃত রূপ। তাই বলা যায়, আলালপুরের আলেমগণের কর্মকাণ্ডে ইজমার বাস্তব প্রয়োগই প্রতিফলিত হয়েছে।
উল্লেখিত ওয়াজ মাহফিলে বিশেষজ্ঞ আলেমের উক্তিটিতে শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসের ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের উৎস হিসেবে কিয়াসের গুরুত্ব অপরিসীম।
কিয়াস হলো ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস, যা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার পর স্থান লাভ করেছে। এর মাধ্যমে মূল বিধানের ইল্লত বা কারণ নির্ণয় করে নতুন উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে فَأَعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَار বলে চিন্তা- গবেষণার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল-হাশর, আয়াত: ২), যা কিয়াসের ভিত্তি স্থাপন করে। মুহাম্মদ (সা.) হযরত মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে প্রেরণের সময় কুরআন-সুন্নাহ না পেলে নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে ফয়সালা করার অনুমোদন দেন, যা কিয়াসের বৈধতার স্পষ্ট প্রমাণ। মানবজীবনের পরিবর্তনশীল ও গতিশীল সমস্যার সমাধানে কিয়াস অপরিহার্য। এটি ইসলামকে সর্বকালীন ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকে বিশেষজ্ঞ আলেম বলেছেন, মুসলমানদের জীবন গতিশীল এবং সহজ করার জন্য ইসলামে কিয়াসের বিধান রয়েছে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পরিবর্তিত সময় ও নতুন পরিস্থিতিতে সরাসরি কুরআন-হাদিসে সমাধান না থাকলে মূলনীতির আলোকে নতুন বিধান নির্ণয় করতে হয়। যেমন কিয়াসের বিধান মূলত ন্যায়বিচার ও সমতার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই কিয়াস হলো ইসলামি আইনের গতিশীলতা, আধুনিকতা ও প্রগতির প্রতীক। এটি নতুন সমস্যার শরিয়তসম্মত সমাধান প্রদান করে এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, কিয়াস শরিয়তের চতুর্থ উৎস হিসেবে মুসলিম জীবনের সহজতা, সামঞ্জস্য ও সর্বকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করে।