| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আলেয়া খাতুন রাতের…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লণ্ঠন আর অন্য হাতে রশি নিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে এসে বললেন, ‘আম্মা, আমার আর বাঁচার এতটুকু ইচ্ছে নেই। যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম সেই যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল তখন আমি বাঁচতে চাই না। আমিও মরতে চাই।’ সাহেলা বেগম বললেন, ‘দেখ বউমা, এমন কথা বলো না। তোমার শ্বশুরের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে আজও এই ঘর, এই সংসারকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কোনোদিন এই সংসার ছেড়ে চলেযাওয়ার চিন্তাও করি নাই। তিনি যেদিন মারা গেলেন, বুকে পাথর বেঁধে সারাটি রাত তার পাশেই বসে ছিলাম। যাও বাড়ি যাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ পাশেই বসে থাকা সালেহা বেগমের ছোট সন্তান সোহাগ আলেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে, ‘ভাবী, তোমার হাতে লণ্ঠন কেন?’ আলেয়া খাতুন চট করে উত্তর দেয়-‘যদি সাপে কামড়ায়!’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
ন্যাড়ার মাদুলি কবচ দেওয়ার পরে তার কাছে আর অবশিষ্ট রইল বিষহরির আজ্ঞা।
উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রত বিলাসীর শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
বিলাসী গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে সেবা করে।এই নির্বিচ্ছিন্ন পরিশ্রমে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবিচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়।তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয়ার স্ত্রীর স্বামীভক্তির দিকটির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।বিলাসী গল্পের আত্মীয় মারা গেলে তার বিধায় স্ত্রী শোকাহত হয়ে স্বামীর সঙ্গে সহমরণের জন্য হাহাকার করতে থাকে।কিন্তু লাশের পাশে তাকে একাকী রেখে ন্যাড়া যখন মৃতের সৎকারের জন্য লোক ডাকতে বাইরে পা বাড়ায়, সে চিৎকার করে বলে ওঠে যে, সে একা থাকতে পারবে না।
উদ্দীপকে আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লন্ঠণ আর এক হাতে দড়ি নিয়ে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে বললেন যে, তার স্বামী মারা যাওয়ায় তিনিও আর বেঁচে থাকতে চান না।কেননা, তিনি তাঁর স্বামীকে প্রাণদিয়ে ভালবাসতেন।তখন সালেহা বেগমের ছোট ছেলে সোহাগ আলেয়া খাতুনের হাতে লন্ঠন কেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন সাপে কামড়ানোর ভয়ে।অর্থাৎ তিনি স্বামীর প্রতি লোভ দেখানো ভালোবাসা প্রকাশ করে মারা যাওয়ার কথা বলেছেন।যেমনটি আমরা লক্ষ করি আলোচ্য গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় স্ত্রীর মধ্যেও। সেও স্বামীর মৃত্যুতে লোক দেখানো শোক প্রকাশ করে সহমরনের কথা বলে। সুতরাং মেকি স্বামীভক্তির দিক দিয়ে উদ্দীপকের আলেয়া খাতুন এর সাথে বিলাসী গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয় সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে বিলাসী গল্পে ইহা আর এক শক্তি, উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি।মন্তব্যটি যথার্থ
বিলাসী গল্পে কথকের এক আত্মীয় তার স্বামীর মৃত্যুর পরে মৃতদেহের পাশে একা থাকতে ভয় পায়। একসঙ্গে দীর্ঘ দিন সংসার করলেও মৃতদেহের পাশে একা কোন মেয়ে থাকতে চায় না।কথকের মতে, এই ভয়কে অতিক্রম করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।কথক মনে করেন এটি অন্য এক শক্তি যা একসঙ্গে সংসার করলেই সবার মধ্যে আসে না।
উদ্দীপকের সালেহা বেগম ত্রিশ বছর সংসার করেন। এরপর তার স্বামী মারা গেলেও তিনি সংসার ছেড়ে যাননি। যেদিন তার স্বামীর মৃত্যু হয় সেদিন সারা রাত্রি মৃত স্বামীর পাশে বসে ছিলেন। মৃতদেহের পাশে বসে থাকার সময় তার মধ্যে কোন ভয় কিংবা আতঙ্কের ভাব দেখা যায়নি।বরয় ভয়কে অতিক্রম করতে পেরেছেন।'বিলাসী' গল্পের মৃত মানুষের সঙ্গে একা সময় পার করার সাহস সবার থাকে না বলে কথক মনে করেছেন।এই সাহস ও শক্তি বহু স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করার পরও হয় না।উদ্দীপকের সালেহার ক্ষেত্রে আমরা শক্তি ও সাহস দেখতে পাই।তিনি মৃতস্বামীর পাশে সারারাত থাকলেও তার মধ্যে কোন ভয় পরিলক্ষিত হয়নি।পারস্পরিক মনোজগতে নৈকট্য লাভের এই দিকটিকেই কথক 'ইহা আর একটি শক্তি' বলে অভিহিত করেছেন। আর এই শক্তি উদ্দীপকের সালহা বেগমের মধ্যে প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোত্তর মন্তব্যটির যথার্থ হয়ে ওঠেনি বলেই প্রতিমান।