| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আলফি ভূগোল ১ম…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২১ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

আলফি ভূগোল ১ম পত্র বই পড়ে জানতে পারল যে, সাগরে পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠে আবার নির্দিষ্ট সময় পরে নেমে যায়। সে আরও জানতে পারল যে, অমাবস্যা তিথিতে ‘ক’ জোয়ার এবং অষ্টমী তিথিতে ‘খ’ জোয়ার সংঘটিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি মহীসোপানের অগভীর অংশে ও দ্বীপে প্রতিহত হলে জোয়ার তরঙ্গের চড়া ভেঙে পড়ে এবং প্রবাহ সৃষ্টি হয়। তখন জোয়ারের পানি খাড়ি ও মোহনা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরেপ্রবেশকরে।একেজোয়ারেরবানবলে।
বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। জোয়ারভাটার মাধ্যমে ভূখন্ড হতে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। নদীর মোহনা পরিষ্কার থাকে। দৈনিক দুবার সজীয়ারভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। জোয়ারভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীত বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসায় বাণিজ্যের সুবিধা হয়। বাংলাদেশের দুটি প্রধান সামুদ্রিক বন্দর পতেঙ্গা ও মংলা এবং অন্যান্য উপকূলবর্তী নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ারভাটার ভূমিকা রয়েছে।
'ক' ও 'খ' এ প্রদর্শিত জোয়ারভাটা হলো ভরা কটাল ও মরা কটাল। নিচে এ দুই ধরনের জোয়ারের পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
জোয়ারভাটা সৃষ্টিতে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যা তিথিতে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী প্রায় একই সরল রেখায় অবস্থান করে। আবার পূর্ণিমার সময় চপেরদিকে চন্দ্র থাকে এবং সমসূত্রেময় পৃথিবীর একদিকে সূর্য ও চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি একই সাথে কার্যকরী হয় এবং উভয়ের মিলিত সূর্য ও আকর্ষণ শক্তি প্রবল হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার ঐ দুই দিন চন্দ্রের আকর্ষণে যে স্থানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণেও সেই স্থানে জোয়ার হয়। এ দুই দিন চন্দ্র সূর্যের মোহর্ষের আকর্ষণোকর্ষণের ফলে পৃথিবীর দুই দিকের জলরাশি খুব বেশি মাত্রায় ফুলে ওঠে এবং দুই জোয়ারের মধ্যে সমকোণী অংশে ভাটার পানি খুবই নেমে যায়। এ কারণে পর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারকে ভরা জোয়ার, ভরা কটাল বা তেজ কটাল বলে। অন্যদিকে, সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর দুই পার্শ্বে পরস্পরের সাথে সমকোণে অবস্থান করে পথিবীকে আকর্ষণ করে। ঐ দিন তারা পৃথিবীকে আড়াআড়িভাবে আকর্ষণ করে বলে আকর্ষণেরগে কমে যায়। সেই সময় চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্রের দিকে এবং তারবিপরীত দিকে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণেও সূর্যের দিকে এবংতার বিপরীত দিকে জোয়ার হওয়ার কথা। কিন্তু সূর্য অপেক্ষা চাঁদেরআকর্ষণ শক্তি বেশি বলে চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্রের দিকে ও তারবিপরীত দিকে জোয়ার হয়। একই সাথে সূর্যের দিকে এবং সূর্যেরবিপরীত দিকে ভাটা হয়। যে কারণে চন্দ্রের আকর্ষণে তার দিকে এবংতার বিপরীত দিকে জোয়ারের পানি ততবেশি ফুলে উঠতে পারে না।ফলে সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে জোয়ারের তীব্রতা সবচেয়ে কম থাকে।সেজন্য উক্ত দুদিনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে।তাই বলা যায় চন্দ্র ও সূর্যের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণেইজোয়ারভাটার এ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।