| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমাদের বক্ষ গহ্বরের…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আমাদের বক্ষ গহ্বরের উভয় পাশে O2 ও CO2 গ্যাস বিনিময়কারী দু’টি বিশেষ অঙ্গ আছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের সংক্রমণে বা এলার্জিজনিত কারণে সাইনাসের মিউকাস পর্দায় যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকেই সাইনুসাইটিস বলে।
যে সংবহনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের ডান ভেন্ট্রিকল থেকে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং ফুসফুস থেকে বাম অ্যাট্রিয়ামে ফিরে আসে, তাকে পালমোনারি বা ফুসফুসীয় সংবহন বলে । পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় পালমোনারি ধমনি থেকে, আর পালমোনারি ধমনির উদ্ভব ঘটে ডান ভেন্ট্রিকল থেকে । ডান ভেন্ট্রিকলের সঙ্কোচনের ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড- যুক্ত রক্ত পালমোনারি ধমনিতে প্রবেশ করে । এরপর রক্ত ধমনিকা (arteriole) হয়ে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের চারপাশে অবস্থিত কৈশিকনালিতে উপস্থিত হয় । কৈশিকনালি থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পুনরায় ক্ষুদ্রতর শিরা বা ভেনিউল (venule) এবং অবশেষে ৪টি (প্রতি ফুসফুস থেকে ২টি) পালমোনারি শিরার মাধ্যমে বাম অ্যাট্রিয়ামে ফিরে আসে । ডান ভেন্ট্রিকল → পালমোনারি ধমনি ফুসফুস পালমোনারি শিরা বাম অ্যাট্রিয়াম ৰাম ভেন্ট্রিকল । কাজঃ : এ সংবহনের মাধ্যমে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুসে প্রবেশ করে । সেখানে অ্যালভিওলাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসের বিনিময় ঘটে ফলে O2-সমৃদ্ধ রক্ত শিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।
উদ্দীপকে অ্যালভিওলাসের কথা বলা হয়েছে।
অ্যালভিওলাস ফুসফুসের কার্যকরী একক । এগুলো আঙ্গুরের থোকার মতো গুচ্ছাবদ্ধ, অতি ক্ষুদ্রাকায়, বুদবুদ সদৃশ বায়ুথলি এবং গ্যাস বিনিময়ের তল (gas cxchange surface) গঠন করে। অ্যালভিওলাইয়ের সংখ্যা ফুসফুসের আকারের উপর নির্ভরশীল । অ্যালভিওলাসের ব্যাস ০.২ মিলিমিটার এবং প্রাচীর মাত্র ০.২ মাইক্রোমিটার পুরু । এগুলোর বাইরের দিকে প্রচুর কৈশিকজালিকা নিবিড়ভাবে অবস্থান করে । পালমোনারি ধমনি থেকে এগুলোর উৎপত্তি হয় এবং পুনরায় মিলে পালমোনারি শিরা গঠন করে। প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, চাপা স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত হওয়ায় সহজেই গ্যাসের ব্যাপন ঘটতে পারে । অ্যালভিওলাস প্রাচীর ফ্যাগোসাইটিক অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে। ম্যাক্রোফেজ অণুজীব এবং অন্যান্য বহিরাগত কণা ধ্বংস করে। তাছাড়া প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে ।স্থিতিস্থাপক সূত্রের কারণে অ্যালভিওলাস সহজেই প্রসারিত হতে পারে, আবার পূর্বাবস্থায় ফিরেওআসতে পারে।
অ্যালভিওলাস প্রাচীরে সেপ্টাল কোষ (septal cell) নামক কিছু বিশেষ কোষ থাকে যা প্রাচীরের ভিতরের দিকে সারফ্যাকট্যান্ট (detergent)-এর অনুরূপ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে । সারফ্যাকট্যান্ট অ্যালভিওলাসে তরলের পৃষ্ঠটান কমায়।
উদ্দীপকে CO2 গ্যাসের পরিবহনের কথা বলা হয়েছে।
শর্করা জারণের সময় কোষে CO2 সৃষ্টি হয় । এই CO2 দেহের জন্য ক্ষতিকর। কোষ থেকে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং ফুসফুস থেকে বায়ুতে মুক্ত হয় । নিচে বর্ণিত তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে CO2 রক্তে পরিবাহিত হয় ।
ভৌত দ্রবণরূপে : কিছু পরিমাণ (৫%) CO2 রক্তরসের পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড গঠন করে।
H2O + CO2 → H2CO3 (কার্বনিক এসিড)
এ বিক্রিয়ায় কার্বনিক অ্যানহাইডেজ এনজাইম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রতি হাজার CO2 অণুর মধ্যে মাত্র এক অণু HCO2 রূপে দ্রবণে উপস্থিত থাকে । সুতরাং CO2-এর খুব সামান্য অংশই H2CO3 রূপে পরিবাহিত হয়।
কার্বামিনো যৌগরূপে : টিস্যুকোষ থেকে রক্তের প্লাজমায় আগত CO2 -এর কিছু অংশ লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে । লোহিত কণিকার মধ্যে যে হিমোগ্লোবিন থাকে তার গ্লোবিন (প্রোটিন) অংশের অ্যামিনো গ্রুপের- (NH) সাথে • CO2 যুক্ত হয়ে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে ।
CO2-এর একাংশ প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে কার্বামিনোপ্রোটিন গঠন করে । PrNH2+ CO2 - PrNHCOOH (কার্বামিনোপ্রোটিন) এ রাসায়নিক ক্রিয়া এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে অতি দ্রুত সম্পন্ন হয় । মোট CO2-এর শতকরা ২৭ ভাগ কার্বামিনো যৌগরূপে পরিবাহিত হয় ।
বাইকার্বোনেট যৌগরূপে : CO2-এর বেশির ভাগই (৬৫%) রক্তে বাইকার্বোনেটরূপে পরিবাহিত হয় ।
(১) NaHCO3— রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং (২) KHCO3 -রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয় ।