| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমাদের দেহ ত্বক…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আমাদের দেহ ত্বক দ্বারা আবৃত। ভৌত প্রতিবন্ধক হিসেবে এটি যেমন অন্যক্রম্যতায় অংশ গ্রহণ করে তেমনি লিম্ফোসাইট রস খাওনের মাধ্যমে অন্যক্রম্যতায় অংশ নেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ার শুরুতে Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ঘিরে ধরে যে গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে উক্ত গহ্বরকে ফ্যাগোসোম বলে।
ভ্যাক্সিনে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয় কারণ অনেক ভ্যাক্সিন আছে যা একবার নিলে আজীবন দেহে কর্মক্ষম থাকে। ভ্যাসিন কে আজীবন কর্মক্ষম করে রাখা জন্য বুস্টার ডোজ দিতে হয়।
উদ্দীপকের উল্লিখিত আবরণটি হলো ত্বক। নিচে প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা দেওয়া হলো:
মানবদেহে ত্বকের তিনটি কার্যকরী স্তর রয়েছে। এগুলো হলো এপিডার্মিস, ডার্মিস ও হাইপোডার্মিস। দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হচ্ছে ত্বক । ত্বক জীবাণুকে দেহের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। পানি ও পানিতে দ্রবীভূত যৌগের প্রতি অভেদ্যতা ত্বকের এ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।-এ ছাড়া ত্বক সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করে। বাইরের ক্ষতিকর বস্তুর প্রবেশ প্রতিরোধ করা ছাড়াও ত্বক কোষের শুষ্কতা রোগ্প করে কোষের ভেতরের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের যান্ত্রিক শক্তি ভেতরের ডার্মিস স্তরের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন তৈরির যোজক কলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে৷ জীবাণুর প্রতি যান্ত্রিক বাধা ছাড়াও ত্বকের বিশেষ কিছু কোষ জীবাণু ধ্বংসের কাজ করে থাকে। ত্বকে বিশেষ্ করে ডার্মিস স্তরে যে সব প্রকৃতির কোষ পাওয়া যায় তাদের অর্ধেকেরই জীবাণুর প্রতি- প্রতিবক্ষামূলক কার্যকলাপ রয়েছে। এ ছাড়া ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি হতে নিঃসৃত সিবাম উত্তম ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, ত্বক মানবদেহ প্রতিরক্ষায় সত্যিকারভাবেই গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত লিম্ফোসাইট রসের কার্যকলাপ স্পেসিফিক। নিচে বিষয়টি বর্ণনা করা হলো-
যে প্রতিবন্ধক কোনো জীবাণুকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে নির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক প্রতিবন্ধক বলে। শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা হচ্ছে লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-লিম্ফোসাইট ও (২) B-লিম্ফোসাইট। T-লিম্ফোসাইট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে এবং জীবাণুকে সরাসরি আক্রমণ করে। অন্যদিকে B-লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে যা জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে। লিম্ফোসাইট কোষগুলো দীর্ঘজীবী হওয়ায় এরা জীবাণুকে দীর্ঘদিন স্মরণ রাখতে পারে। তাই লিম্ফোসাইটকে স্মৃতি কোষ বলা হয়। স্মৃতিকোষের প্রধান ভূমিকা হচ্ছে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে অনুপ্রবেশিত জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহকে অনাক্রম্য করে তোলা। এভাবে গড়ে উঠে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যেহেতু লিম্ফোসাইট কোষ জীবাণুকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে ঐ জীবাণুকে অনাক্রম্য করে তোলে অথবা নষ্ট করে ফেলে। তাই বলা যায় যে লিম্ফোসাইট রসের কার্যকলাপ স্পেসিফিক।