| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমাদের খাদ্যের অপাচ্য…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আমাদের খাদ্যের অপাচ্য অংশ প্রবেশ করে মোটা নলাকার খাজযুক্ত একটি গঠনের মধ্যে। এই গঠন পৌষ্টিক নালির অংশ হলেও পরিপাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা গৌণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
সিকাম- বৃহদান্ত্রের ১ম অংশ, লম্বা ৬ সেন্টিমিটার, চওড়া ৭.৫ সেন্টিমিটার দেখতে বদ্ধ থলের মত অংশ।
বৃহদান্ত্রকে বলা হয় 2nd Brain বা দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। আমাদের পরিপাকতন্ত্রের কাজ শুধুমাত্র খাবার শোষণ করা নয়, বরং এর-চাইতেও আরও বেশি কিছু। পরিপাকনালীতে প্রচুর পরিমানে স্নায়ু, প্লেক্সাস আছে। আমাদের পরিপাকতন্ত্রে শরীরের প্রায় অর্ধেক ডোপামিন (এটি একটি হরমোন এবং একটি নিউরো ট্রান্সমিটার যা মানব মস্তিষ্ক ও শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে দরকার হয়), আনুমানিক ৮০% থেকে ৯০% সেরোটোনিন উৎপন্ন হয়। সেরোটোনিন এমন এক ধরণের রাসায়নিক বার্তাবাহক যার সঙ্গে আমাদের পরিপাক ক্রিয়া থেকে শুরু করে মানসিক রোগ সংক্রান্ত শরীরের নানা কার্যক্রম জড়িত।
মানুষের বৃহদন্ত্র প্রধানত নিম্নবর্ণিত কাজগুলো সম্পন্ন করে- ১. ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া (Bacterial actions) : বৃহদন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া (প্রায় ৫০০ প্রজাতির। মিথোজীবী হিসেবে বাস করে । এরা খাদ্যের অপাচ্য অংশের গাঁজন ও পাচন ঘটায় । ব্যাকটেরিয়া বৃহদন্ত্রে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও অপাচ্য পলিস্যাকারাইডকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে অ্যাসিটিক এসিড, বিউটারিক এসিড ইত্যাদি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ফ্যাটি এসিড (short chain fatty acid) উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন ও মিথেন গ্যাস মুক্ত করে । স্বল্পদৈর্ঘ্য ফ্যাটি এসিড ব্যাকটেরিয়া ও কোলনের প্রাচীর-কোষে শক্তি জোগায় । বৃহদন্ত্রে অবস্থিত ব্যাকটেরিয় ভটা K ও B12-এর ফলিক এসিড উৎপন্ন করে । ২. শোষণ : ক্ষুদ্রাস্ত্র থেকে আগত পরিপাক-বর্জ্যে অবস্থিত পানির প্রায় ৭০-৮০% অভিস্রবণের মাধ্যমে বৃহদন্ত্রে শোষিত হয়ে কঠিন মলের আকার ধারণ করে । কিছু পরিমাণ অজৈব লবণ, গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, ফলিক এসিড, ভিটামিন B এবং K বৃহদন্ত্রে শোষিত হয়। ৩. ক্ষরণ : বৃহদন্ত্রের মিউকোসা স্তরে অবস্থিত পবলেট কোষ goblet cell) মিউকাস ক্ষরণ করে বৃহদন্ত্রের অভ্যন্তর ভাগকে পিচ্ছিল রাখে। ৪. খাদ্যের অসার অংশ সঞ্চয় : ক্ষুদ্রাস্ত্রে পরিপাক ও শোষণের পর খাদ্য ও পাচকরসগুলোর অবশিষ্ট উপাদানইলিওকোলিক পেশিবলয় অতিক্রম করে সিকাম ও কোলনে প্রবেশ করে এবং সেখানে দীর্ঘসময় জমা থাকে । ৫. মল উৎপাদন : দৈনিক প্রায় ৩৫০ গ্রাম তরল মন্ড (chyle) বৃহদন্ত্রে প্রবেশ করে । মন্ড থেকে শোষণের মাধ্যমে প্রায় ১৩৫ গ্রাম আর্দ্র মল faeces) উৎপন্ন হয়ে দেহের বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয় ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হলো মানুষের খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া। মানুষের খাদ্য পরিপাকে এনজাইমের পাশাপাশি হরমোনের বিশেষ ভূমিকা আছে। এনজাইম ভূমিকা রাখলেও এসব এনজাইমকে নিঃসৃত হতে উদ্দীপনা যোগায় এবং নিঃসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন ধরনের হরমোন। নিচে পরিপাকে হরমোনসমূহের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো-
১. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলি হতে গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. সিক্রেটিন: এই হরমোনটি পরিপাকের সময় অগ্ন্যাশয় রস ও পিত্তরস ক্ষরণে উদ্দীপনা জোগায়।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন: পাকস্থলি ও অগ্ন্যাশয় হতে রস ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে।
৪. সোমাটোস্ট্যাটিন: পাকস্থলি ও অগ্ন্যাশয় হতে রস ক্ষরণ হ্রাস করে।
৫. এন্টেরোকাইনিন: এর প্রভাবে পরিপাকের সময় মল্টেজ, ল্যাকটেজ, ইনভারটেজ, সুক্রেজ এনজাইম ক্ষরিত হয়।
৬. ভিল্লিকাইনিন: ভিলাইয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
৭. পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। - এর প্রভাবে অন্ত্রের ভেতর দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয় যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।
৮. গ্যাস্ট্রিক ইনহ্যাবিটরি পেপটাইড: ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি পাকস্থলি থেকে খাদ্য অন্ত্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার পরিপেক্ষিতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।