| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমানত কবির গরিব…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আমানত কবির গরিব মানুষ। ঢাকা শহরের বিত্তশালী কাদির সাহেবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সে চাকরির জন্য কাদির সাহেবের কাছে সহযোগিতা চায়। কাদির সাহেব দয়াপরবশ হয়ে তাকে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেন। পাশাপাশি বিনা ভাড়ায় তাকে নিজের বাসায় থাকার সুযোগ দেন। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই কাদির সাহেবের বাসাটিকে আমানত কবির নিজের বাসা বলে ঘোষণা দেয়। এর কয়েক দিন পর ঘুস খাওয়ার অপরাধে আমানত কবিরের চাকরি চলে যায়। কাদির সাহেব আবার দয়া করে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার জন্য আমানত কবিরকে অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
'কবর' একটি বিখ্যাত কবিতা।
"কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জন্ম-ভর" বলতে কবি তাঁর হৃদয়ের উদারতা তথা অন্যের দ্বারা কষ্ট পেয়েও তাকে প্রতিদানে ভালোবাসা দান করাকে বুঝিয়েছেন।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসায় বিপরীতে একটি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা করেছেন। তাই সারা জীবন ধরে যারা তাঁকে দুঃখ-যন্ত্রণা দিয়েছে তিনি সেসব ভুলে তাদের ভালোবাসা দান করেন। তিনি মনে করেন, এভাবে প্রতিদান দিতে পারলেই পৃথিবী সুন্দর ও আনন্দময় হয়ে উঠবে। আর এমন মনোভাব থেকেই তিনি বলেছেন- "কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর।"
অনিষ্টকারীকে ক্ষমা ও উপকার করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মাঝেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তাই তিনি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমাই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর করতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কাদির সাহেবও পরার্থপর মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিবেশী গরিব আমানত কবির তার কাছে সাহায্যের জন্য এলে তিনি তাকে চাকরির ব্যবস্থা ও থাকার জায়গা দেন। কিন্তু আমানত কবির কিছুদিনের মধ্যেই তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাকতা করে। এরপর ঘুসের অভিযোগে আমানত কবিরের চাকরি চলে গেলে কাদির সাহেব সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার তার চাকরির বন্দোবস্ত করে দেন। অন্যদিকে 'প্রতিদান' কবিতায় কবির মধ্যে অনুরূপ মানসিকতা লক্ষ করা যায়। যারা তাঁকে কষ্ট দেয় কবি তাদেরকে ভালোবেসে বুকে টেনে নেন। তাঁর কণ্ঠে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার বিপরীতে ক্ষমা ও পরার্থপরতার বাণী ধ্বনিত হয়েছে।
অনিষ্টকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নিয়ে তার উপকার করায় "উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতার চেতনা একই সূত্রে গাঁথা।" মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার মধ্যে প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি অনিষ্টকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নিয়ে তার উপকার করে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কাদির সাহেবও বিশ্বাসঘাতক আমানত কবিরকে ক্ষমা করে দিয়ে পরার্থপর মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। কাদির সাহেব আমানত কবিরকে চাকরি দিয়ে, নিজের বাসায় বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আমানত কবির কিছুদিন পরেই কাদির সাহেবের বাসাকে নিজের বাসা বলে দাবি করে। কাদির সাহেব এসব ভুলে গিয়ে আমানত কবিরের দুঃসময়ে আবারও পাশে দাঁড়িয়েছেন। উদ্দীপকের কাদির সাহেবের অনুরূপ চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির মানসিকতায় ও লক্ষ করা যায়।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার মাঝেই জীবনের প্রকৃত মূল্য খুঁজে পেয়েছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হানাহানির বিপরীতে কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। উদ্দীপকের কাদির সাহেবও আমানত কবিরের বিশ্বাসঘাতকতাকে গায়ে মাখেননি। আমানত কবিরের দুঃসময়ে তিনি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, পুনরায় তার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে দিয়ে কাদির সাহেব 'প্রতিদান' কবিতার কবি বর্ণিত ভালোবাসাপূর্ণ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী রচনার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।