আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান।
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে,
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা-
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা।
কবির সংশয়ের কারণ তাঁর স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের অনিশ্চয়তা।
কবি তাঁর মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে বিভোর হন। কপোতাক্ষের মধুর স্মৃতি তাঁর মনে সদা জাগরুক। সংগত কারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয় যে, তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না।
উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বর্ণিত সাদৃশ্যের দিকটি হলো মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অকৃত্রিম দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। কবি নিজ দেশ ত্যাগ করে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রত্যাশায় বিদেশ গমন করেন। কিন্তু বিদেশে এক সময় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। মাতৃভূমিকে অবজ্ঞা করার পরিণাম তিনি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। আর নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হন। অনুশোচনা বোধ থেকেই তিনি নতুনরূপে মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে শুরু করেন। তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে লেখনির মাধ্যমে। যার জ্বলন্ত নিদর্শন হচ্ছে কপোতাক্ষ নদ কবিতাটি। এ কবিতার মধ্যে অতীত স্মৃতিচারণের অন্তরালে মূলত কবির গভীর দেশপ্রেমেরই প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেশের মাটি, মানুষ ও মাতৃভাষার প্রতি ভালো লাগার গভীর অনুরাগ ফুটে উঠেছে। কবির ভাষায় 'দেশের মাটিতে মিশে আছে আমার প্রাণ।' জীবনের গৌরবময় সম্মান সেটাতো মাতৃভূমির জন্য। মাতৃভূমির পাশাপাশি মাতৃভাষাকেও মধুর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের মাটি ও মাতৃভাষার প্রতি কবির ভালোবাসা মিশে আছে। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ আমরা 'কপোতাক্ষ নদ" কবিতায়ও খুঁজে পাই। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি অতীত স্মৃতিকে স্মরণ করতে গিয়ে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেছেন। তাই আমরা বলতে পারি, উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বর্ণিত সাদৃশ্যের দিকটি হলো মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন।
"উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বিশেষ দিকের সাদৃশ্য থাকলেও আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।”- মন্তব্যটি যৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির অতীত স্মৃতিচারণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে কল্পনা করেছেন জন্মভূমির সঙ্গে তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কসূত্র হিসেবে। কবি বিশ্বাস করেন সখারূপী এ নদ তার আকুল অনুরোধ দেশমাতৃকার নিকট পৌঁছে দেবে। এর মধ্য দিয়ে দেশমাতৃকার প্রতি গভীর হৃদয়াবেগ প্রকাশিত হয়। কপোতাক্ষ নদের সঙ্গে কবির জীবনের ছেলেবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এসব স্মৃতি স্মরণ করার মাধ্যমেই কবির দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জেগে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে দেশপ্রেমের কথা বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবি দেশপ্রেমে উজ্জীবীত হয়েছেন। দেশের মাটির সাথে তার প্রাণ মিশে আছে। কবির আশা-আকাঙ্ক্ষা সব কিছুই মিশে আছে দেশের সঙ্গে। কবি দেশকে নিয়ে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখেন। দেশের মাটি, মানুষ ও মাতৃভাষা যেন কবির হৃদয়ের পরতে পরতে মিশে আছে। কবি দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন বলেই এমন ভাবনা ভেবেছেন। উদ্দীপকের কবি একজন সচেতন দেশপ্রেমিক। তার দেশপ্রেমের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত কবিতার চরণে ফুটে উঠেছে। দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্দীপকের কবি উজ্জীবিত হয়েছেন।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশপ্রেমের দিকটির সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু দেশপ্রেমের সাদৃশ্য থাকলেও আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয়। উদ্দীপকে দেশপ্রেমের দিকটি প্রত্যক্ষভাবে ফুটে উঠেছে। অপরদিকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশপ্রেমের দিকটি স্মৃতিকাতরতার আবরণে ফুটে উঠেছে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ভাগ্যবিড়ম্বিত হয়ে দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা অনুভব করেন। প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কবি দেশের ভালোবাসায় উজ্জীবিত হয়েছেন। উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় দেশপ্রেমের বিষয়টি ফুটে উঠলেও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার রচনাশৈলি ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আমরা বলতে পারি, উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় বিশেষ দিকের সাদৃশ্য থাকলেও আঙ্গিক ও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয়।
