আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তাঁর কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি;
যে মোরে দিয়েছে বিষেভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের উর্বর প্রদেশটির নাম তায়েফ।
"মুহম্মদ (স.) রাসুল বৈ আর কিছু নন" বলতে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রকৃত পরিচয়কে বোঝানো হয়েছে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর বিভিন্ন গুণ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর চরিত্রে মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা, দয়া, পরোপকারিতা, দূরদর্শিতা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর পরিচয় তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর মৃত্যুতে মদিনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এলে হযরত আবুবকর (রা.) উপস্থিত লোকদের মহানবি (স.)-এর প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে তিনি বোঝান যে, তাঁর পূর্বে অনেক নবি-রাসুল ছিলেন। তাঁরা যেমন মৃত্যুবরণ করেছেন, তেমনই মহানবি (স.) মৃত্যুবরণ করেছেন। আর আল্লাহ্ তালার সমস্ত সৃষ্টিই মরণশীল।
উদ্দীপকে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রেমময়তা ও ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
পৃথিবীতে প্রেমই একমাত্র শক্তি, যার মাধ্যমে চিরশত্রুও মিত্রে পরিণত হয়। মানুষে মানুষে প্রেমের বন্ধনেই নির্মিত হয় সুন্দর সমাজ। যুগে যুগে মহামানবেরা এই প্রেমের বাণীই মানবসমাজে পৌঁছে দিয়েছেন।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির একটি হলো ক্ষমাশীলতা। তিনি মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, মানুষের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায় বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন। যারা তাঁকে বারবার আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে তাদেরকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তেও তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও সেই ক্ষমা ও প্রেমবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি সারা জীবন শত্রুর কাছ থেকে তিরস্কার ও আঘাত পেয়েও তাঁকে বুক ভরা গান দিয়েছেন। যাকে আপন করতে ব্যাকুল হয়েছেন, সে তাঁকে পর করে দিয়েছে। তিনি ক্ষমা করে স্নেহ দিয়ে পরাভূতকে জয় করতে চেয়েছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের এই প্রেমময়তা 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রেমময়তা ও ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রতিফলন।
উক্ত গুণ তথা ক্ষমাশীলতার গুণ হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রকে আংশিক আলোকিত করে— 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর চরিত্রে প্রেম, ক্ষমা, মহত্ত্ব, মহানুভবতার মতো অজস্র গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি শত্রুকেও বুকে টেনে নিয়ে মানবপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
উদ্দীপকে মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের অন্যতম একটি দিকের পরিচয় ফুটে উঠেছে। এখানে কবি প্রেমের বাঁধনে চরম শত্রুকেও জড়িয়ে রাখেন। কবির বুকে যে আঘাত করে, তাকে কবি নিজের বুকে আগলে আপন করে নেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.)-ও এভাবে শত্রুকে আপন করে নিয়েছিলেন। যারা তাঁর পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তিনি তাদের পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তাদের ভালোবেসে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন সর্বগুণের আধার। ক্ষমা, দয়া, পরোপকারিতা, প্রেম প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যে তাঁর চরিত্র ছিল মহিমান্বিত। উদ্দীপকের কবিতাংশে শুধু কবির প্রেমময় হৃদয়ের গুণটি প্রকাশ পেয়েছে, যা মুহম্মদ (স.)-এর অজস্র গুণাবলির মধ্যে একটি, আর তা হলো ক্ষমাশীলতা। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
