A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আমার এখন তৈরি…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ পদ্য🧩 অধ্যায় ১০ম অধ্যায় — বিদ্রোহী🔢 সৃজনশীল নং ১৬🏫 বোর্ড যশোর বোর্ড📅 সাল ২০২৫⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

আমার এখন তৈরি হবার সময়।

…          …      …

বড়ো দীর্ঘকাল আমি অপেক্ষা করেছিলাম

উত্তাল উনসত্তর আমাকে ডেকে এনেছে রাস্তায়

প্রণয়ীর মতো মাটিকে আলিঙ্গনে বেঁধে রাখা চাষ।

তার ঔরসে আমার জন্ম

প্রতিটি কৃষক বিদ্রোহে আমি ছিলাম উলঙ্গ শড়কির হিংসা

পলাশীর আম্রকাননে আমি ছিলাম মীরমর্দনের তলোয়ার

১৮৫৭’র সিপাহী বিদ্রোহে বিদ্রোহীর কার্তুজ

আমি ছিলাম তীতুমীরের বাঁশের কেল্লা

…          …      …

আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে

এখন আমার আর ফেরার উপায় নেই।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ১০

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

'মহা-প্রলয়ের' আমি নটরাজ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"আমি সেই দিন হব শান্ত"- কবি সেদিনই শান্ত হযেন যেদিন উৎপীড়িত জনতার কান্না প্রশমিত হবে এবং অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান হবে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সমস্ত অন্যায়-অত্যাচার, অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এতে একজন বিদ্রোহীর স্বভাববৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। যত দিন শাসকরা তাদের অন্যায় নিয়ম-কানুন দ্বাঙ্গ মানুষের ন্যায্য অধিকার হরণ করতে থাকবে, তত দিন কবি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চালিয়ে যাবেন। পৃথিবীতে অন্যায়-অবিচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সেই বিদ্রোহ থামবে না। কবি সেই দিনই শান্ত হবেন যেদিন উৎপীড়িতের ক্রন্দন থেমে যাবে, অত্যাচারীর অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে না। কবি তাঁর এই প্রত্যয় প্রসঙ্গে বলেছেন, "আমি সেই দিন হব শান্ত।” কবি শান্ত হওয়া বলতে এখানে মুক্তি, অধিকার ও ন্যায্যতা প্রাপ্তির পর বিদ্রোহের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোকে বুঝিয়েছেন।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

উদ্দীপকের 'আমি' 'বিদ্রোহী' কবিতার 'আমি'র সঙ্গে বাঙালির আপসহীন সংগ্রামী চেতনার দিক দিয়ে তুলনীয়।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সগর্বে নিজের কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। এই কবিতায় কবি 'আমি' শব্দটি বিভিন্ন রূপে, নানা প্রসঙ্গে অনেকবার ব্যবহার করেছেন যা কবিতার মূল বক্তব্যকে ধারণ করেছে। এই 'আমি' দিয়ে আত্মপরিচয়ের পাশাপাশি কবি বিদ্রোহ, আত্মমর্যাদা, অসীম শক্তি এবং সমাজের প্রচলিত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠকে বুঝিয়েছেন। তবে 'আমি' দিয়ে প্রধানত প্রকাশ করেছেন এক বিপ্লবী সত্তাকে যিনি সমাজের অন্যায়-অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত প্রতিবাদ-সংগ্রামের অংশীদার হিসেবে 'আমি' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রতিটি কৃষক বিদ্রোহে ছিলেন উলঙ্গ সড়কির হিংসাম্বৰূপ; আবার পলাশির যুদ্ধে দেশপ্রেমিক মিরমর্দানের তলোয়ার স্বরূপ। তিনি 'আমি' দ্বারা নিজেকে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে বিদ্রোহীর কার্তুজ এবং তীতুমীরের বাঁশের কেল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। উত্তাল উনসত্তরেও তিনি রাস্তায় নেমেছেন। এভাবে তিনি বাঙালির বিপ্লব সংগ্রামে সংগ্রামী চেতনায় 'আমি' হয়ে মিশে গিয়েছেন। বাঙালির বিভিন্ন সংগ্রামে তিনি তাঁর আমিত্ব শক্তি তথা ব্যক্তিসত্তার আপসহীন শক্তিকে বোঝাতে 'আমি' শব্দটি ব্যবহার। করেছেন। তিনি আত্মপরিচয়ে বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য সংলগ্ন সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করেছেন যা 'বিদ্রোহী' কবিতার 'আমি'র চেতনার শামিল। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি 'আমি' দ্বারা বিদ্রোহী সত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, যে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণের। বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আসলে তাঁর এই 'আমি' সমগ্র জাতির সংগ্রামী চেতনার ঐক্যবদ্ধ শক্তির মহাজাগরণ শক্তি। অন্যায়-অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে এই 'আমি' দণ্ডায়মান। এই সংগ্রামী চেতনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের 'আমি' 'বিদ্রোহী' কবিতার 'আমি'র সঙ্গে তুলনীয়।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

"বিষয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা চেতনাগতভাবে অভিন্ন।"- মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত, কেননা, দুটি কবিতায়ই অন্যায়, অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির বিদ্রোহী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজের শক্তির 'বহুমাত্রিকতাকে বিভিন্ন অনুষঙ্গে তুলে ধরেছেন। সেগুলো দিয়ে তিনি মানবসমাজে চলমান সমস্ত অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খলতার অবসান করতে চেয়েছেন। কারণ তারা মানুষের অধিকার হরণ করে, মানুষকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখে। কবি সেই শত্রুদের করা কোনো নিয়ম মানেন না। কারণ সেই নিয়ম মানুষের জন্য অমঙ্গলের, অকল্যাণের। তাই তিনি সেসবের অবসান চান। তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে শোষকের জারি করা বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ, করেন। তাঁর বিদ্রোহের মূলে রয়েছে এদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রামী চেতনাকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।

উদ্দীপকের কবিতাংশে, যুগে যুগে এদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কবি এখানে যুগে যুগে সংঘটিত হওয়া বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামকে নির্দেশ করেছেন। কৃষকরা তাদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সংগ্রাম করেছে, বিদ্রোহ করেছে, বিদেশি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে পলাশিতে। যুদ্ধ করে এদেশের দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা জীবন দিয়েছে। বাঁশের কেল্লা তৈরি করে শত্রুকে প্রতিহত করার শিক্ষা দিয়ে বীর তীতুমীর জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের সংগ্রামী চেতনার পথ ধরেই আমরা উনসত্তরে উত্তাল হয়েছি। অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছি। বাঙালির সংগ্রামী চেতনার এই দিকটিতে বিষয়ের ভিন্নতা থাকলেও সংগ্রামী চেতনার দিক থেকে 'বিদ্রোহী' কবিতার চেতনা একসূত্রে গাঁথা।

'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তা ব্যক্তি কবির নয়, তা জাতির ঐক্যশক্তির চেতনাসত্তা। এখানে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তাদের দ্বারা নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ পেয়েছে। এ দিকটি উদ্দীপকের কবিতাংশে যুগে যুগে বীরের আগমন এবং বিপ্লব-বিদ্রোহের চেতনায় প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে কবির সংগ্রামী চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। এসব দিক বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আমার এখন তৈরি…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”