A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আমার গ্রাম আমাকে…’ – যাব আমি তোমার দেশে, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আমার গ্রাম আমাকে আজীবন আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশ চিরহরিতের দেশ। তবু মনে হয়, আমার গ্রামের গাছপালা লতাপাতার মধ্যে কোথায় যেন আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। ভাওয়াল প্রগনায় অবস্থিত আমাদের গ্রামটি বর্ষাকালে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, পশ্চিম ভাগটি হয়ে যায় একটি বিচ্ছিন্ন ছোটো দ্বীপ। পশ্চিম অংশেই আমাদের ভিটেবাড়ি। গ্রামের পশ্চিমে বিশাল মাঠ। বর্ষায় বিরাট বেলাই বিলের সঙ্গে মিশে যায়। বেলাই বিল প্রকৃতপক্ষে একটি মস্ত বড়ো হাওড়- শীতকালে বোরো ধান হয়।

উত্তর:

অজান ফুলের রূপ দেখে কবি তাকে বিয়ের কনে মানবেন।

উত্তর:

"কোথাও সিঁধে কোথাও বাঁকা গরুর গায়ের রেখায় ক্ষত"- উক্তিটিতে পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ পল্লিগ্রামের আঁকাবাঁকা ও এবড়ো-থেবড়ো পথের কথা বলা হয়েছে।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশ অর্থাৎ প্রকৃতির ঘিরে রাখা সৌন্দর্যমণ্ডিত গ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেখানে দিকহারা মাঠ থাকবে, সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ থাকবে। পথটি গরুর গায়ের রেখায় ক্ষতের মতো অর্থাৎ এবড়ো-থেবড়ো। রাস্তাটি হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মতো কোথাও সোজা কোথাওবা বাঁকা। মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা কবি গ্রামীণ রাস্তার অবস্থা বুঝিয়েছেন।

উত্তর:

প্রকৃতির ও পল্লিমায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এমনভাবে ফুটে উঠেছে যেন পাঠক নিজেই সেই পথে হাঁটছেন। সরু বাঁকা পথ, কদম-কলির সুবাস, গাছের ছায়া আর দিঘির ঢেউ- এসব মিলিয়ে প্রকৃতি হয়ে ওঠে কবির হৃদয়ের শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক।

পল্লিগ্রামকে প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ ঘিরে রাখে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবির সেই পল্লিগ্রামে বেতকেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। সেখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ। সেই পথে তিনি হাঁটতে চান। পাড়ার দস্যি ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে চান। দিঘিতে সাঁতরে পদ্ম তুলতে চান। পাখির সঙ্গে ডেকে, অজানা ফুলের রূপ দেখে তিনি মুগ্ধ হতে চান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, কবিকে গ্রাম আজীবন আকর্ষণ করে। যদিও বাংলাদেশ চিরহরিতের দেশ, তারপরও তিনি তার গ্রামের গাছপালা-লতাপাতার মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান। কবিও তাঁর পল্লিগ্রামের রূপ সম্বন্ধে এমনই ভাবেন। উদ্দীপকে গ্রামের বর্ষাকালের প্রকৃতির সৌন্দর্যের স্বরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেখানে গ্রামের পশ্চিমে মাঠ, যেটি বর্ষায় বিরাট বেলাই বিলের সঙ্গে মিশে যায় এবং শীতকালে সেখানে বোরো ধান হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'যাব আমি তোমার দেশে' গ্রামের সৌন্দর্য ভাবনায় একই ধারায় সম্পৃক্ত।

উত্তর:

মূলভাবের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটিকে আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে, সম্পূর্ণ নয়।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি বাংলাদেশের প্রকৃতিকে এক কাব্যময় উপমায় বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনায় প্রকৃতি যেন আঁকা ছবি নয়, বরং জীবন্ত আবেগের মূর্ত প্রকাশ- যেখানে প্রতিটি দৃশ্য ভালোবাসায় পূর্ণ। গ্রামের এই স্বপ্নময় পরিবেশেই কবি ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি তাঁর ভাবনায় যে পল্লিগ্রামকে এঁকেছেন সেখানে সেই গ্রামকে প্রকৃতি ঘিরে রেখেছে। গ্রামের মাঠঘাট, মেঠোপথকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি গ্রামের রাস্তার বর্ণনা দিতে বিভিন্ন অনুষঙ্গ টেনেছেন। গ্রামের জীবনধারার ও জনমানবের সরল বৈশিষ্ট্যে কবি মিলেমিশে একাকার হয়েছেন। গ্রামের প্রকৃতি ও প্রকৃতির সমস্ত দানের সঙ্গে নিজেকে অভেদ কল্পনা করে মিশে গেছেন প্রতিটি অনুষঙ্গে। তিনি পাখির সঙ্গে ডাকতে চান, অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন, উদাস বেশে ঘুরে বেড়াবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল তুলবেন। চারদিকে আঁধার ঘনিয়ে এলে নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লির অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করবেন। উদ্দীপকে ভাওয়াল পরগনায় অবস্থিত একটি গ্রামের বর্ষাকালের রূপ এবং গ্রামের পাশের মাঠ, বেলাই বিল এসব নিয়ে গ্রামের প্রকৃতি সম্পর্কে আংশিক একটি বর্ণনা বিদ্যমান।

'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামের সামগ্রিক সৌন্দর্যচিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে আংশিক চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটিকে সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না, আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আমার গ্রাম আমাকে…’ – যাব আমি তোমার দেশে, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”