| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’আমেরিকার জিন বিজ্ঞানীরা…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘আমেরিকার জিন বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে বিশেষ একটি জিন তুলাগাছে স্থানান্তর করেন, যা কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী। আবার তাঁরা গবেষণাগারে উক্ত গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
ভিন্ন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দুটি উদ্ভিদের প্রোটোপ্পাস্ট পাশাপাশি রেখে তাদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে টিস্যু কালচার প্রয়োগ করে যে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয় তাকে সোমাটিক হাইব্রিড বা সাইব্রিড বলে।
গবেষণাগারে যে প্রক্রিয়ায় এক প্রজাতির থেকে জিন সংগ্রহ করে সম্পর্কহীন ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর জিনে কৃত্রিম উপায়ে প্রবেশ করিয়ে জিনগত পরিবর্তিত জীবের সৃষ্টি করা হয় তাকে GMO বলে। GMO সৃষ্টির সময় ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পতঙ্গ, প্রাণী, এমনকি মানুষের থেকেও বহিরাগত জিন আহরিত হতে পারে। এরা ট্রান্সজেনিক, GM ও GE শস্য নামেও পরিচিত।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত গাছের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। নিচে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: অবশ্যই নীরোগ ও উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উদ্ভিদ হতে এক্সপ্লান্ট নির্বাচন করতে হবে।
২. কালচার মিডিয়াম তৈরি: উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য কালচার মিডিয়াম প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মুখ্য ও গৌণ উপাদান ভিটামিন, সুক্রোজ, ফাইটোহরমোন প্রভৃতি এ মিডিয়ামে থাকা দরকার।
৩. জীবাণুমুক্তকরণ: কালচার মিডিয়াম জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য পাত্রটিকে নির্জীবকরণ যন্ত্র দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট বা টিস্যু স্থাপন: এক্সপ্ল্যান্ট নির্জীব করে সম্পূর্ণ নির্জীব অবস্থায় কাচপাত্রে রাখা মিডিয়ামে স্থাপন করতে হবে।
৫. ক্যালাস সৃষ্টি ও সংখ্যা বৃদ্ধি: মিডিয়ামে এক্সপ্ল্যান্ট তথা টিস্যু বৈদ্যুতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি কোষীয় মণ্ডে পরিণত হয়। এই কোষীয় মণ্ডকে ক্যালাস বলে। ক্যালাস থেকে একসময়ে অসংখ্য মুকুল সৃষ্টি হয়।
৬. চারা উৎপাদন: মুকুলগুলোকে সাবধানে কেটে নিয়ে মূল উৎপাদনকারী মিডিয়ামে রাখা হলে সেখানে প্রতিটি মুকুল, মূল সৃষ্টি করে পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয়।
৭. চারা টবে স্থানান্তর: উপযুক্ত সংখ্যক সুগঠিত মূল সৃষ্টি হলে সাম পূর্ণাঙ্গ চারাগাছ কালচার করা পাত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে ধীর প্রক্রিয়ায় সাবধানতার সাথে টবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারাগাছ উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
৮. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: টবে রোপিত চারাগাছগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লেখিত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিটি বিভিন্ন - ক্ষেত্রে মানব কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. জিনথেরাপিতে: জিন ঘটিত রোগসমূহ জিনের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। বর্তমানে বহু দূরারোগ্য রোগ জিন থেরাপির মাধ্যমে নিরাময়ের চেষ্টা চলছে। উদাহরণস্বরূপ সিস্টিক ফাইব্রোসিস, হিমোফিলিয়া এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।
২. টিকা উৎপাদনে: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন উৎপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে অধিক পরিমাণে প্রতিষেধক তৈরি করা যায়। উদাহরণস্বরূপ হেপাটাইসিস-বি, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) এবং COVID-19-এর mRNA ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
৩. হরমোন উৎপাদনে: মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমোন ইনসুলিন জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপন্ন করা হয়। এছাড়াও ভাইরাস ও ক্যান্সার প্রতিরোধী ইন্টারফেরনও একইভাবে উৎপন্ন করা হয়।
৪. বংশগতীয় রোগ নিরাময়: হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি জিনঘটিত বংশগত রোগ নির্ণয় ও গর্ভাবস্থার শুরুতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেনিলকেটোনুরিয়া নিরাময় সম্ভব।
৫. খাদ্য উৎপাদনে: খাদ্য উৎপাদনে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ GM Crops যা তাপ সহনশীল, পোকামাকড় থেকে সুরক্ষিত বা পুষ্টি সমৃদ্ধ হতে পারে।
৬. প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাণু এবং অন্যান্য অণুজীবের ব্যবহার বেড়েছে যা পরিবেশগত দূষণ কমাতে এবং বর্জ্য পরিশোধন করতে সাহায্য করে।
৭. পুষ্টিমান বৃদ্ধি: কৃষি ফসলের পুষ্টিমান বাড়ানোর জন্য জিন সংশোধন করা যায়। যেমন- স্বর্ণ চাল (Golden Rice) যা ভিটামিন-A এর ঘাটতি পূরণের জন্য তৈরি হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি মানব কল্যাণে নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।