| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’আমি যখন একুশের…’ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ ২০২৫ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘আমি যখন একুশের কথা ভাবি,
রফিক, শফিক, সালাম, বরকতের কথা মনে পড়ে।
আমি যখন একুশের কথা ভাবি,
নির্বিচারে গুলিবর্ষণের দৃশ্য ভেসে ওঠে।
আমি যখন একুশের কথা ভাবি,
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এর প্লাকার্ড ভেসে ওঠে চোখে,
আমার গণ-অভ্যুত্থানেও সে যে প্রেরণা যুগিয়েছে।’
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে বরকত।
• 'সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা।'- উক্তিটির মাধ্যমে ভাষাশহিদ সালামের আত্মত্যাগের সূত্র ধরে পূর্ব বাংলায় ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের সূচনা হওয়াকে বোঝানো হয়েছে
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনাই এ দেশের পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সূচনা হয়। কবি তাই দেশবাসীর এই বিপ্লবী রূপটিকে বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
• উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সঙ্গে শহিদদের আত্মদানের কথা স্মরণের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
• বাঙালি জাতি চিরকাল শোষিত, বঞ্চিত হয়েছে এবং অধিকার আদায়ে রক্ত দিয়েছে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে গড়ে তুলেছে দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রাম।
• উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, জব্বার, বরকত, রফিক, শফিকসহ অনেকেই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাতেও দেখা যায় কবি ভাষাশহিদদের স্মরণ করছেন। কবির মনে হয় যেন ভাষাশহিদদের সেই রক্তের বুদ্বুদ প্রতিবছর শহরের পথে পথে কৃষ্ণচূড়া হয়ে ফোটে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানেও নতুন প্রেরণার সঞ্চার করে। মানুষ নতুন করে আবার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই কবি আবার ১৯৫২-এর ভাষাশহিদদের আত্মদানকে স্মরণ করছেন। এদিক থেকেই উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
• উদ্দীপকের একুশের চেতনা সকল আন্দোলনের মতো গণ-অভ্যুত্থানেও প্রেরণা জুগিয়েছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
• বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ শাসনের নামে দীর্ঘকাল শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বারবার তাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফলে এ ভূখণ্ডের অনেক মানুষকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে।
• উদ্দীপকে একুশের চেতনা ও ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালে ছাত্ররা ভাষার দাবিতে রাজপথে নামে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড হাতে। পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হয় রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ অসংখ্যা মানুষকে। এ আন্দোলন থেকে মানুষ শিখেছে অধিকার আদায়ের মন্ত্র, যা পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করেই ব্যাপক আকার ধারণ করে।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাতেও কবি তাই বলতে চেয়েছেন। কবির মনে হয় শহরের পথের পাশের থরে থরে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া যেন ভাষাশহিদদের সেই রক্তকেই ধারণ করছে। আবারও সেই কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে। অর্থাৎ আবারও আন্দোলন-সংগ্রাম দানা বেঁধে উঠেছে। উদ্দীপকের একুশের চেতনা সকল আন্দোলনের মতো ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানেও প্রেরণা জুগিয়েছে। ১৯৫২ সালের জাতীয়তাবাদী চেতনাই পরবর্তীতে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি সরকারের বিরুদ্ধে এমন দুর্বার আন্দোলনের সূচনা করেছিল। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথোপযুক্ত হয়েছে।