| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমি যুগে যুগে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু।
সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার
আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস।
নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটিশ শাসন আর আধিপত্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ যখন এক মহা সঙ্কটের মুখে পতিত হয়েছিল, ঠিক এমনই দুর্বিষহ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম শতাব্দীর ধূমকেতু হয়ে উদিত হলেন বাংলা সাহিত্যের গগনে। এক ‘ধূমকেতুর’ হাতে আরেক ‘ধূমকেতুর’ প্রজ্বলন ঘটালেন উদ্দীপকের পংক্তিগুলো রচনা করে। আজন্ম স্বাধীনতার চেতনা লালনকারী এই পরাধীনতার যাঁতাকল থেকে কবি এ দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন জাতীয় জাগরণের মাধ্যমে। তিনি আধিপত্যবাদী ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে একটি সর্বব্যাপী স্বাধীনতা চেতনার জন্ম দিতে চেয়েছিলেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের মনে।
বিদ্রোহী কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দ্রোহের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে উদ্দিপকের পংক্তিগুলোর মতো স্ফূরণ ঘটিয়েছেন। ঔপনিবেশিক ভারতের সেই সময় যখন নজরুল আবির্ভূত হলেন, তখন তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঔপনিবেশিক বিরোধিতা বড় করে তুলছেন। বল বীর, চির উন্নত মম শির, এই বীর তিনি বলছেন সমস্ত বাঙ্গালিকে, যে বীরের মতো তোমরা উঠে দাঁড়াও।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে বিদ্রোহী কবিতার বিদ্রোহী চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ক্রোধ-ঘৃণা ইত্যাদি মনের অসংখ্য মৌলিক অনুভূতির মধ্যে প্রেম ও দ্রোহ বা বিদ্রোহ এতটাই শক্তিশালী যে এই চেতনার দ্বারা মানুষ নিমিষে বদলে যেতে পারে, এমনকি জীবনকেও উৎসর্গ করতে পারে। প্রেমের মতো দ্রোহও হয়ে উঠতে পারে কাব্যের প্রধান উপাদান। তবে কাব্যে দ্রোহ চেতনার প্রতিফলন ঘটে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে।
ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের অনবদ্য কবিতা বিদ্রোহী এবং ধুমকেতু আজও চেতনায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উৎসারণ ঘটায়। নজরুল তার সমকালের সমাজনীতি, রাজনীতি ও ব্যক্তি মানুষের অর্ন্তগত নৈতিক অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, অনুসন্ধান করেছেন ও বিদ্যমান অসঙ্গতির সঙ্গে আপোষ করতে না পেরে দ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এখানেই তার বিদ্রোহী সত্তার শেকড় নিহিত।
উভয় কবিতায় ছিল অন্তর্গত চেতনায় শাণিত দেশপ্রেম। ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে দ্রোহউদ্ভাসিত হয়ে দুঃসাহসী উচ্চারণ - ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ।’ ধুমকেতুর পুচ্ছটি উচ্চে তুলে ধরে নজরুল পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ভেঙ্গেছিলেন। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে উঠে কবির কপালে। তিনি বার বার ফিরে আসতে চান পরাধীনতার শিকল ছিন্ন করে। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দলে যান নিয়ন কানুন শৃংঙ্খল।
মানবপ্রেম যেখানে পদদলিত সেখানে কবিতা নিজেই বিদ্রোহী সত্ত্বায় দেদীপ্যমান। তৎকালীন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শোষণের বিরুদ্ধে স্রষ্টাকে আহবান করে কবিতায় প্রকাশ। ধুমকেতু যেমন বারবার মহাবিপ্লবের জন্য ফিরে আসে, তেমনি কবি আসতে চান দ্রোহের মন্ত্র হাতে নিয়ে।
তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" - কথাটি যথার্থ হয়েছে।